ইউরো প্রথমবার $১.২০ সীমা পার করেছে, যা চার বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ মান। এই উত্থান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ট্যারিফ‑বহুল নীতি এবং ডলার দুর্বলতার সঙ্গে যুক্ত। প্রেসিডেন্টের মন্তব্যে তিনি ডলারের সাম্প্রতিক পতনে উদাসীনতা প্রকাশ করে “মুদ্রা ভালোই চলছে” বলে উল্লেখ করেন, যা বাজারে ইতিবাচক সিগন্যাল পাঠায়।
ইউরোর সূচনা ১৯৯৯ সালে $১.১৭ থেকে, ২০০৮ সালের সাবপ্রাইম সংকটের সময় $১.৬০‑এর উপরে পৌঁছে, যখন ডলার তীব্রভাবে দুর্বল হয়। ২০২১ সালের পর থেকে ইউরো $১.২০ অতিক্রম করতে পারেনি, যদিও কোভিড‑১৯ মহামারীর সময় ইউরোপীয় অর্থনীতিতে বিশাল সরকারি ব্যয় চালু ছিল। এখন পুনরায় এই স্তরে পৌঁছানো বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
শক্তিশালী ইউরো ইউরোপীয় গৃহস্থালির ক্রয়ক্ষমতা বাড়ায়, ফলে ভোক্তা ব্যয় এবং বিদেশে পর্যটন বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে, ইউরো অঞ্চলের বেশিরভাগ আমদানি ডলারে মূল্যায়িত, যেমন তেল ও কাঁচামাল, তাই ইউরোর মূল্যবৃদ্ধি আমদানিকে সস্তা করে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের উপকারে আসে।
অন্যদিকে, ইউরো রপ্তানিতে নির্ভরশীল শিল্পগুলোকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে। ইউরোর শক্তি ইউরোপীয় পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যের প্রতিযোগিতা কমিয়ে দেয়, ফলে গাড়ি, যন্ত্রপাতি ও মূলধনী পণ্যের রপ্তানিতে চাপ বাড়ে। বিশেষ করে জার্মানি, যার অর্থনীতি শিল্প সরঞ্জাম ও গাড়ি রপ্তানিতে নির্ভরশীল, এই পরিবর্তনে বেশি প্রভাবিত হবে।
ইউরো শক্তিশালী হওয়ার ফলে রসায়ন, নির্মাণ, বিমান চলাচল এবং শক্তি-নিবিড় শিল্পগুলোকে সুবিধা হয়, কারণ তাদের কাঁচামাল ও উপাদান ডলারে মূল্যায়িত হওয়ায় খরচ কমে। তবে, গাড়ি, যন্ত্রপাতি এবং মূলধনী পণ্যের রপ্তানিকারকরা এখন মূল্য হ্রাসের মুখে, যা মুনাফা মার্জিনকে সংকুচিত করতে পারে।
লাক্সারি ব্র্যান্ডগুলোরও এই পরিস্থিতিতে চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়। উচ্চ মূল্যের পণ্য বিক্রি করা কোম্পানিগুলো, যেমন LVMH, ইতিমধ্যে চাহিদা হ্রাসের সম্মুখীন, এবং ইউরোর শক্তি তাদের বিক্রয়কে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রপ্তানিতে ১৫% ট্যারিফের মুখোমুখি, যা জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত চুক্তির অংশ। এই ট্যারিফের ফলে ইউরোর মান কমলে রপ্তানি খরচ বাড়তে পারে, তবে একই সঙ্গে ইউরোর শক্তি মুদ্রাস্ফীতি দমন করতে পারে। মুদ্রাস্ফীতি হ্রাসের ফলে ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক (ECB) তার নীতি সমন্বয় করতে পারে, যা ভবিষ্যৎ সুদের হার এবং আর্থিক শর্তে প্রভাব ফেলবে।
সারসংক্ষেপে, ইউরোর $১.২০ অতিক্রম গৃহস্থালির ক্রয়ক্ষমতা বাড়িয়ে ভোক্তা ব্যয়কে ত্বরান্বিত করতে পারে, তবে রপ্তানিকেন্দ্রিক শিল্প ও লাক্সারি সেক্টরে চাপ বাড়াবে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতি এবং ডলারের চলমান পরিবর্তন ইউরোর ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এবং ECB এর মুদ্রা নীতি সমন্বয়ও এই গতিপথে প্রভাব ফেলবে।



