প্রাক্তন ভারত ক্রিকেট দলের ব্যাটসম্যান মানোজ তিওয়ারি গৌতাম গাম্ভিরের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট মত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলছেন, যদি ভারত ক্রিকেট দল টি-২০ বিশ্বকাপের শিরোপা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তবে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডকে গাম্ভিরকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ভারত ক্রিকেট দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে টেস্ট এবং ওয়ানডে ফরম্যাটে ধারাবাহিক ব্যর্থতা দেখা গেছে, আর টি-২০ ফরম্যাটে মাত্রই ধারাবাহিকতা বজায় আছে। টেস্টে ধারাবাহিকভাবে ফলাফল না পাওয়ায় গাম্ভিরের কোচিং পদ্ধতি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান টি-২০ সিরিজে ভারত প্রথম তিন ম্যাচই জয়ী হয়ে সিরিজের ফলাফল নিশ্চিত করেছে। এই জয়গুলো গাম্ভিরের অধীনে টি-২০ ফরম্যাটে প্রথম সিরিজ জয় হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
তবে একই সময়ে ওয়ানডে সিরিজে ভারত নিউ জিল্যান্ডের হাতে পরাজিত হয়েছে, যা দলের ওয়ানডে ফরম্যাটে দুর্বলতা তুলে ধরেছে। গাম্ভিরের কোচিংয়ে ওয়ানডে পারফরম্যান্স এখনো সন্তোষজনক নয়।
গাম্ভিরের তত্ত্বাবধানে টেস্ট সিরিজে ভারতকে বড় পরাজয় মুখোমুখি হতে হয়েছে। নভেম্বর মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে হোয়াইটওয়াশড হওয়া, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে হার, এবং অস্ট্রেলিয়ায় ওয়ানডে সিরিজে পরাজয়—all গাম্ভিরের সময়ে ঘটেছে। এছাড়া, নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে ৩-০ শূন্য-শূন্য পরাজয়ও দলকে শক করেছে।
এই সবের বিপরীতে, টি-২০ ফরম্যাটে গাম্ভিরের অধীনে কোনো সিরিজ হারেনি ভারত। তাই গাম্ভিরের কোচিংকে টি-২০ সফলতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়, তবে টেস্ট ও ওয়ানডে ক্ষেত্রে তার কৌশলকে সমালোচনা করা হয়।
বর্তমানে ভারত ক্রিকেট দলকে টি-২০ বিশ্বকাপের শিরোপা রক্ষা করতে হবে, যা দেশের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। গাম্ভিরের কোচিংয়ে দলকে এই বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে, আর ফলাফল সরাসরি তার কর্মজীবনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
মানোজ তিওয়ারি টিকে গৌরবময় শিরোপা না জিতলে বিসিসিআইয়ের বড় সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে বলেন, “যদি টি-২০ বিশ্বকাপ জিততে না পারি, তবে আমার মতে বিসিসিআইয়ের উচিত গৌতাম গাম্ভিরের ওপর কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।” তিনি আরও যোগ করেন, “বিসিসিআইয়ের সচিবের মতে গাম্ভিরের চুক্তি শেষ হবে, তবে সরিয়ে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।” এই মন্তব্য গাম্ভিরের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনাকে তীব্র করেছে।
তিওয়ারি গাম্ভিরের কোচিং শৈলীর কঠোর সমালোচক, বিশেষ করে আইপিএলের বাইরে তার কৌশলকে অকার্যকর বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গাম্ভিরের পদ্ধতি টি-২০ সীমাবদ্ধ এবং টেস্ট ও ওয়ানডে ফরম্যাটে প্রযোজ্য নয়।
প্রাক্তন ক্রিকেটার গাম্ভিরের বদলে ভিভিএস লক্ষ্মনকে কোচের দায়িত্ব দেওয়ার পরামর্শও তিওয়ারি দেন। তিনি রাহুল দ্রাবিরের কোচিং সময়ে কিছু সফরে অনুপস্থিতি লক্ষ্য করে, সেই সময়ে ভিভিএস লক্ষ্মনই কোচ হিসেবে কাজ করা উচিত বলে যুক্তি দেন। তিওয়ারি লক্ষ্মনের শীতল মনের মানুষ এবং ভালো ব্যক্তিত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “বোর্ডের উচিত লক্ষ্মনকে রাজি করানো, কারণ তিনি দলকে স্থিতিশীলতা দিতে পারবেন।”
এইসব মন্তব্যের পর ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গাম্ভিরের টি-২০ সাফল্য সত্ত্বেও টেস্ট ও ওয়ানডে ধারাবাহিক পরাজয় তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে, আর শিরোপা রক্ষার দায়িত্বে গাম্ভিরের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।



