বরগুনা জেলার খলিফার হাটে ২৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বরগুনা‑২ আসনের প্রাক্তন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মণি তার রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও অতীতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, তিনি যখন এমপি ছিলেন, তখন পাথরঘাটা ছাত্রদলের সভাপতি চাঁদাবাজি (চাঁদা নেওয়া) করে জেলে ছিলেন।
মণি বলেন, তিনি ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা‑২ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপরের দশকে তিনি একাধিকবার নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে আসছেন এবং এই র্যালি তার বর্তমান প্রার্থী অবস্থানকে পুনরায় জোরদার করার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হয়।
র্যালির প্রধান অতিথি হিসেবে মণি তার শৈশবের স্মৃতি শেয়ার করেন। তিনি বলেন, পাথরঘাটা ছাত্রদল সভাপতি তখন ছোটবেলায় চাঁদা সংগ্রহের জন্য ছোট্ট পাইলা দিয়ে চান্দা (ট্যাক্স) নিত এবং কখনো কখনো চিংড়ি মাছের পাত্র থেকে চাঁদা তোলার চেষ্টা করত। মণি তিনবার তাকে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে নির্দেশ দেন, তবু তিনি অব্যাহত রাখেন।
মণি এরপর জানান, তিনি এমপি থাকাকালীন ওই ছাত্রদল প্রধানকে একাধিকবার সতর্ক করেন এবং শেষ পর্যন্ত তাকে জেলখানায় পাঠাতে বাধ্য হন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধ না করলে জেলই একমাত্র গন্তব্য হবে।
জনসভায় তিনি উপস্থিত লোকজনকে স্মরণ করিয়ে দেন, “যদি আপনি চাঁদা না ছাড়েন, তবে ১২ তারিখের ভোটের পর আমি আবার এমপি হলে, আপনারা ১৩ তারিখ থেকে জেলে থাকবেন।” এভাবে তিনি ভোটারদের কাছে তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন যে, চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে শাস্তি কঠোর হবে।
মণি আরও উল্লেখ করেন, তিনি এমপি হিসেবে ১৫ বছর পর্যন্ত কোনো চাঁদাবাজি বা চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিনি বলেন, তার সঙ্গে কোনো চোর, ডাকাত বা চাঁদাবাজের সম্পর্ক নেই এবং তিনি এখনো চাঁদা সংগ্রহে জড়িত নন।
র্যালিতে তিনি জামায়াতে ইসলামী সংক্রান্ত মন্তব্যও করেন। মণি বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে আর কোনো “দাঁড়িপাল্লা” (প্রথাগত পদ্ধতি) নেই; এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি এই বক্তব্যের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীকে আধুনিকতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে আহ্বান জানান।
মণি তার সমর্থকদের প্রতিশ্রুতি দেন যে, চাঁদাবাজদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে, যাতে তারা বৈধ উপায়ে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। তিনি আশ্বাস দেন, যদি তারা সৎ কাজের দিকে মনোযোগ দেয়, তবে তারা সমাজে স্বীকৃতি পাবে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো মণির এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছে। তারা উল্লেখ করেছে, নির্বাচনের আগে এমন রেটোরিক্যাল মন্তব্য ভোটারকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা হতে পারে। তবে মণি তার বক্তব্যকে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, বরগুনা-২ আসনে মণির পুনরায় প্রার্থী হওয়া স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন গতিশীলতা আনতে পারে। তার চাঁদাবাজি বিরোধী রেটোরিক্স ও কর্মসংস্থান প্রতিশ্রুতি ভোটারদের মধ্যে বিশেষভাবে সাড়া ফেলতে পারে, বিশেষত তরুণ ও শ্রমিক শ্রেণিতে।
অবশিষ্ট সময়ে মণি ভোটারদের আহ্বান জানান, “আপনারা যদি সত্যিকারের পরিবর্তন চান, তবে ১২ ডিসেম্বরের ভোটে আমাকে সমর্থন করুন।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার নেতৃত্বে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে এবং উন্নয়নের পথ সুগম হবে।
এই র্যালি শেষে উপস্থিতদের মধ্যে মণির সমর্থকরা তালি ও উল্লাসে তার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন। র্যালির পরবর্তী দিনগুলোতে নির্বাচনী প্রচার আরও তীব্র হবে বলে আশা করা যাচ্ছে, এবং মণির বক্তব্যের প্রভাব কীভাবে ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজরে থাকবে।



