ঢাকা শহরের সাভার, ইসলামনগর এলাকায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন একটি বাসায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ফলে চারজন দগ্ধ হয়েছেন। ঘটনাটি মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত ৯টা ৩০ মিনিটের কাছাকাছি ঘটেছে এবং তৎক্ষণাৎ স্থানীয় জরুরি সেবা ও চিকিৎসা সংস্থাগুলি ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
বিস্ফোরণটি আবদুর রহমানের মালিকানাধীন চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় ঘটেছে। সিলিন্ডার থেকে অগ্নি ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুতই ঘরটি জ্বলতে থাকে, ফলে আশেপাশের বাসিন্দারা আতঙ্কে ফেটে পড়েন। স্থানীয় লোকজনের ত্বরিত হস্তক্ষেপে আগুনের বেশিরভাগ অংশ নিভে যায়, তবে চারজন ব্যক্তি দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
দগ্ধদের মধ্যে ছিলেন বাড়ির মালিকের দুই পুত্র, আব্দুস সোবহান রায়হান (৩০) ও আব্দুর রাহাত (২৭)। সোবহান ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। অন্য দুইজন দগ্ধ ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম রনি (২৭) এবং হাসিনুর রহমান (২৮)। রনি ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং হাসিনুর আশুলিয়া থানা ছাত্রদলের কর্মী ছিলেন।
দগ্ধদের অবিলম্বে নিকটবর্তী এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। সেখানে প্রাথমিক শ্বাস-প্রশ্বাস ও দাহজনিত ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের পর, রোগীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।
বিস্ফোরণের খবর পেয়ে জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে রওনা হয়। তবে পৌঁছানোর আগে স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নিভিয়ে ফেলায় তারা ফিরে আসে এবং পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
পুলিশের মতে, আগুনের মূল কারণ গ্যাস সিলিন্ডারের ত্রুটি বা অনুপযুক্ত ব্যবহার হতে পারে; তাই ঘটনাস্থলে ফরেনসিক দল পাঠিয়ে সিলিন্ডার ও আশেপাশের অবশিষ্টাংশের বিশ্লেষণ করা হবে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সিলিন্ডারটি বাড়ির মালিকের অনুমতি ছাড়া অন্য কেউ ব্যবহার করেনি, তবে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না করা সম্ভবত দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
আশুলিয়া থানা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আহমেদুল কবীর জানান, গ্যাস সিলিন্ডার থেকে অগ্নি সৃষ্টির খবর পেয়ে দুইটি ফায়ার ইউনিট তৎক্ষণাৎ রওনা হয়। তবে স্থানীয় মানুষ আগুন নিভিয়ে ফেলায় ইউনিটগুলোকে ফিরে যেতে হয়। তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার ও নিয়মিত পরিদর্শনের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডিউটি ম্যানেজার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, দগ্ধদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বার্ন ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রোগীদের শারীরিক ও মানসিক পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে একটি অপরাধ রেজিস্ট্রেশন করে এবং সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তির বিবরণ নথিভুক্ত করেছে। ফরেনসিক বিশ্লেষণের ফলাফল পাওয়া মাত্রই মামলাটি সংশ্লিষ্ট আদালতে দাখিল করা হবে এবং দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে তদন্ত চলমান, এবং অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা জনসাধারণের জানাবে।
এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গ্যাস সিলিন্ডারের সঠিক সংরক্ষণ, নিয়মিত পরিদর্শন এবং ব্যবহার সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থা ইতিমধ্যে বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নির্দেশিকা বিতরণ করেছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখবে।



