আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সমন্বিতভাবে তদারকি বাড়িয়ে তুলেছে। দেশব্যাপী জেলা, থানা ও ইউনিয়ন স্তরে বিশেষ নজরদারি চালু করা হয়েছে, যাতে কোনো উগ্রগোষ্ঠীর হস্তক্ষেপ রোধ করা যায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে উগ্রবাদী কার্যক্রমে জড়িত মামলায় কারাগার থেকে তিনশো অধিক আসামি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন, যার মধ্যে বিচারাধীন এবং এমনকি যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত। কর্তৃপক্ষের মতে, এই মুক্তিপ্রাপ্ত সন্দেহভাজনরা নির্বাচনকালীন নাশকতা করতে পারে, যদিও বর্তমানে কোনো নির্দিষ্ট হুমকি পাওয়া যায়নি।
বিমুক্তি প্রাপ্তদের ওপর নজরদারি বিশেষভাবে তীব্র করা হয়েছে; জেলা ও থানা পর্যায়ে গতি-প্রবাহ পর্যবেক্ষণ, সন্দেহজনক চলাচল সনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দ্রুত হস্তক্ষেপের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মুক্তিপ্রাপ্তদের তালিকা ও তাদের পূর্বের কার্যক্রমের বিশ্লেষণ করে নিরাপত্তা বাহিনী সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করে তদনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়। এই প্রক্রিয়ায় তথ্য শেয়ারিং ও সমন্বয়কে কেন্দ্র করে একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেস ব্যবহার করা হয়, যা দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।
বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের একটি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, নাম প্রকাশ না করে, জানিয়েছেন যে উগ্রগোষ্ঠীর সহিংসতা উসকানী না ঘটাতে বিশেষ নজরদারি চালু রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা মূলত উগ্রবাদী গোষ্ঠীর পরিকল্পিত আক্রমণ রোধে কেন্দ্রীভূত, এবং এ জন্য তারা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রতিক্রিয়ার দ্রুত চক্র বজায় রাখছে। তদুপরি, র্যাব ও বিজিবি সহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও একই লক্ষ্য নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছে, যাতে কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ দ্রুত সনাক্ত ও দমন করা যায়।
অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) অতিরিক্তভাবে অনলাইন ও অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের তদারকি চালিয়ে যাচ্ছে। তারা ২৪ ঘন্টা নজরদারি ব্যবস্থা চালু রেখেছে, যাতে সামাজিক মাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে উগ্রবাদের প্রচার রোধ করা যায়। এছাড়া, শারীরিক পর্যবেক্ষণ দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ স্থান, যেমন ভোট কেন্দ্র, রাজনৈতিক সমাবেশ ও জনসমাগমস্থলে উপস্থিত থাকে, যাতে কোনো হিংসাত্মক ঘটনা ঘটলে তা তৎক্ষণাৎ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
এটিইউর প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি রেজাউল করিমের মতে, সরকার নির্বাচনের স্বচ্ছতা, স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে, এবং নিরাপত্তা বাহিনী এই নির্দেশনা মেনে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, উগ্রপন্থী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ধরনের সমন্বিত কাজের ফলে নির্বাচনের সময় কোনো বড় ধরনের সন্ত্রাসী হুমকি দেখা না দেওয়াই প্রধান লক্ষ্য।
সম্প্রতি কেরানীগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটলেও কোনো প্রাণহানি না ঘটায়, তবে ভবনটি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রেজাউল করিমের মন্তব্যে তিনি বলেন, এই ঘটনা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্য নয় এবং দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার ব্যবহার করতে উদগ্রীব। তিনি আরও যোগ করেন, প্রতিটি ঘটনার বিশদ পর্যালোচনা করা হচ্ছে, যাতে সম্ভাব্য কোনো প্রভাব দ্রুত সনাক্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
বাংলাদেশ পুলিশের সদর দপ্তরের সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের সময় যে কোনো ধরনের সহিংসতা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। তারা জরুরি প্রতিক্রিয়া দল গঠন, দ্রুত মোবাইল ইউনিট ও বিশেষ প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। শেষ পর্যন্ত, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনা মিলিয়ে নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করা হবে।



