ডলার বুধবার সামান্য উর্ধ্বগামী গতি দেখাল, যদিও গত সপ্তাহে ট্রাম্পের মুদ্রা হ্রাসে সন্তুষ্টি প্রকাশের পর ধারাবাহিক বিক্রয় চালিয়ে গিয়েছিল। একই সময়ে টেকনোলজি শেয়ারগুলো আয় ঘোষণার আগে শক্তিশালী র্যালি বজায় রাখে, যা বাজারের সামগ্রিক মনোভাবকে প্রভাবিত করে।
বাজারের অংশগ্রহণকারীরা ফেডারেল রিজার্ভের সাম্প্রতিক বৈঠকের ফলাফল ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে, বিশেষ করে সুদের হার সম্পর্কিত নির্দেশনার সম্ভাবনা সম্পর্কে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের নতুন শুল্ক হুমকির পর অর্থনৈতিক নীতির অনিশ্চয়তা বাড়ার ফলে এই বৈঠকের প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সপ্তাহের শুরুতে নিউ ইয়র্ক ফেডের প্রতিনিধিরা ইয়েনের বিনিময় হারের ওপর আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশের পর ডলার সব জোড়াতালিকায় হ্রাস পায়। এই তথ্যকে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সম্ভাব্য যৌথ হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ফলে হোয়াইট হাউসের ডলারকে দুর্বল হতে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অনুমান বাড়ে, যা ট্রাম্পের মঙ্গলবারের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়।
আইওয়ায় ট্রাম্প যখন ডলার ইউরোর বিপরীতে চার বছর অর্ধেকের সর্বনিম্ন এবং ইয়েনের বিপরীতে দুই মাস অর্ধেকের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে, তখন তিনি ডলারকে “দারুণ” বলে প্রশংসা করেন এবং এটিকে স্বাভাবিক স্তরে ফিরে আসতে বলেছিলেন। তার এই মন্তব্য বাজারে ডলারের স্বল্পমেয়াদী পুনরুদ্ধারকে বাধা দেয়নি, তবে সামান্য উত্থান ঘটার পরেও পূর্বের ক্ষতি পূরণ হয়নি।
ডলার পাউন্ড, দক্ষিণ কোরিয়ার ওয়ন এবং চীনের ইউয়ানের বিপরীতেও হ্রাস পায়, যদিও বুধবারের সূচনায় সামান্য উত্থান দেখা যায়। তবে এই উত্থানও সামগ্রিক হ্রাসের পরিমাণ কমাতে যথেষ্ট না হয়ে থাকে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক শুল্ক হুমকি, যার মধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলোর গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিরোধিতা এবং কানাডার চীনের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার ওপর সতর্কতা অন্তর্ভুক্ত, যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদের প্রতি আস্থা হ্রাস করেছে এবং ডলারের পতনে সহায়তা করেছে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা আস্থা সূচক ২০১৪ সালের পর সর্বনিম্ন স্তরে নেমে আসে, যা গৃহস্থালির মুদ্রাস্ফীতি এবং উচ্চ জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে উদ্বেগকে প্রতিফলিত করে। এই তথ্য বাজারে মুদ্রা ও শেয়ার উভয়ের ওপর চাপ বাড়ায়।
ব্যান্ক অফ নাসাউ ১৯৮২ লিমিটেডের বিশ্লেষক উইন থিন উল্লেখ করেন, মুদ্রা বাজার সাধারণত দেশের নীতি ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি বাজারের অস্বস্তি প্রকাশের প্রধান সূচক। ডলারের বর্তমান দুর্বলতা এই দৃষ্টিকোণ থেকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, ডলার সাম্প্রতিক বিক্রয়ের পর সামান্য উত্থান দেখালেও শুল্ক নীতি, ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার পরিকল্পনা এবং ভোক্তা আস্থার হ্রাসের প্রভাবের কারণে মোটামুটি দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। টেকনোলজি শেয়ারের র্যালি বাজারে কিছু ইতিবাচক দিক যোগ করলেও মুদ্রা ও সম্পদের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি অনিশ্চিতই রয়ে গেছে। ভবিষ্যতে ফেডারেল রিজার্ভের নীতি দিকনির্দেশনা এবং ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির পরিবর্তন বাজারের দিকনির্ণয়কে প্রভাবিত করবে।



