ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়ার সাম্প্রতিক সামরিক পরিবর্তন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন, যা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে ফোনালাপের পর প্রকাশিত হয়। ট্রাম্পের মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়া নীতি সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নির্দেশ করে। ফোনালাপের সময় দুজন নেতার মধ্যে সিরিয়ার নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, সিরিয়ায় বর্তমানে যা ঘটছে তাতে তিনি “খুব খুশি” এবং পরিস্থিতি “ভালোভাবে এগোচ্ছে”। তিনি আল-শারার সঙ্গে “ভালো আলোচনা” হয়েছে বলে উল্লেখ করে সিরিয়ার সামগ্রিক অগ্রগতিকে ইতিবাচক মূল্যায়ন করেন। ফক্স নিউজে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে সিরিয়া বিষয়ক একটি বড় সমস্যার সমাধান করেছেন বলে উল্লেখ করেন, তবে বিশদে কোনো তথ্য প্রদান করেননি।
ফোনালাপের পূর্বে সিরিয়ান সেনাবাহিনীর কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক আক্রমণ ঘটেছিল। এই অভিযান রাক্কা ও দেইর আজ জোর শহরগুলোকে কেন্দ্র করে ছিল, যেখানে এসডিএফের শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছিল। এসডিএফ ১৮ জানুয়ারি এই দুই শহর থেকে তাদের বাহিনী প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেয়, যা সিরিয়ার উত্তরে উত্তেজনা কমাতে সহায়তা করে।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্সির একটি বিবৃতিতে আল-শারা জোর দিয়ে বলেন যে দেশ তার ভূগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি রাষ্ট্রের মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখা এবং নাগরিক শান্তি বজায় রাখার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন। এছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আইএস (ইস্লামিক স্টেট) পুনরায় উত্থান রোধে সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
মার্কিন সরকার দীর্ঘদিন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসকে সমর্থন করে আসছে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার ভূমিকা পরিবর্তিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত টম বারাক উল্লেখ করেন যে, এসডিএফের প্রধান আইএসবিরোধী ভূমিকা এখন কমে এসেছে, কারণ সিরিয়ান সরকার নিরাপত্তা দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এই পরিবর্তন মার্কিন নীতির পুনর্মূল্যায়নের ইঙ্গিত দেয়।
ট্রাম্পের ফক্স নিউজে মন্তব্যে তিনি এবং মার্কো রুবিও সিরিয়া নিয়ে একটি বড় সমস্যার সমাধান করেছেন বলে উল্লেখ করেন, তবে কোন নির্দিষ্ট পদক্ষেপ বা চুক্তি প্রকাশ করা হয়নি। এই অস্বচ্ছতা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়া নীতি সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে।
ট্রাম্পের ইতিবাচক মন্তব্য এবং আল-শারার সঙ্গে ফোনালাপের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়া নীতি সম্ভবত সিরিয়ান সরকারের অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়ার দিকে ঝুঁকবে। যদি মার্কিন সরকার সিরিয়ার ভূখণ্ডিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা দায়িত্বকে স্বীকার করে, তবে ভবিষ্যতে সামরিক উপস্থিতি কমে যাওয়া এবং কূটনৈতিক সমর্থন বাড়ার সম্ভাবনা দেখা যাবে।
অন্যদিকে আল-শারা রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন, যেখানে ক্রেমলিন বুধবার মস্কোতে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে। দুই দেশের নেতারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন। রুশ-সিরিয়ান সমন্বয় সিরিয়ার ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ এবং আল-শারার সঙ্গে ফোনালাপের পরবর্তী ধাপগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থানকে পুনর্গঠন করতে পারে। সিরিয়ান সরকার তার সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে, আর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আইএসের পুনরুত্থান রোধে সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানাবে। ভবিষ্যতে মার্কিন সরকার, রাশিয়া এবং সিরিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক সমন্বয় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।



