ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ স্টিফেন মিলার মঙ্গলবার মিনিয়াপোলিসে সংঘটিত গুলিবিদ্ধ ঘটনার উপর মন্তব্য করে জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংস্থাগুলি নির্ধারিত প্রোটোকল লঙ্ঘন করতে পারে। এই মন্তব্যটি ৩৭ বছর বয়সী নার্স আলেক্স প্রেট্টি শিকারের কয়েক দিন পর প্রকাশিত হয়।
আলেক্স প্রেট্টি, যিনি ইমিগ্রেশন নীতি কঠোর করার প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করছিলেন, শনিবারের প্রতিবাদে ফেডারেল এজেন্টদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় গুলি দিয়ে নিহত হন। ঘটনাস্থল ছিল মিনিয়াপোলিসের একটি রাস্তায়, যেখানে ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী দল এবং প্রতিবাদকারীরা মুখোমুখি হয়েছিল।
মিলার হোয়াইট হাউসের একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যে এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রোটোকল লঙ্ঘন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। তিনি বলেন, অতিরিক্ত কর্মীকে মিনেসোটা রাজ্যে পাঠিয়ে আটক দল এবং প্রতিবাদকারীদের মধ্যে শারীরিক বাধা তৈরি করার জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (CBP) দল কেন এই নির্দেশনা অনুসরণ করেনি তা হোয়াইট হাউস বর্তমানে বিশ্লেষণ করছে। মিলার এই মূল্যায়নকে প্রোটোকল অনুসরণে কোনো ত্রুটি থাকলে তা দ্রুত সংশোধনের সুযোগ হিসেবে দেখেছেন।
মিলার একই সময়ে সীমানা সংরক্ষণ সংস্থা এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (DHS) উভয়কেই তার শনিবারের মন্তব্যের জন্য দায়ী করেছেন, যা পরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। শিকারের পরপরই তিনি প্রেট্টিকে “সম্ভাব্য হত্যাকারী” বলে অভিযুক্ত করেন এবং তাকে ফেডারেল এজেন্টদের হত্যা করার ইচ্ছা প্রকাশকারী হিসেবে চিহ্নিত করেন।
এই মন্তব্যের পর, ডিএইচএসের সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমের প্রাথমিক বিবৃতি প্রকাশ পায়, যেখানে তিনি প্রেট্টি অস্ত্র বহন করে ফেডারেল এজেন্টদের দিকে এগিয়ে গেছেন বলে দাবি করেন। মিলার দাবি করেন, তার মন্তব্যের ভিত্তি ছিল নোয়েমের এই প্রাথমিক বিবৃতি, যা পরে ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
মিলার আরও জানান, ডিএইচএসের প্রাথমিক বিবৃতি CBP দলের মাঠে রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রেট্টি অস্ত্রধারী ছিলেন বলে ধারণা করা হয়েছিল, যদিও পরবর্তীতে তা নিশ্চিত করা যায়নি।
মিলারের এই ব্যাখ্যা হোয়াইট হাউসের অভিবাসন নীতি কঠোর করার প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে তিনি প্রোটোকল অনুসরণে কোনো ত্রুটি থাকলে তা দ্রুত সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, তিনি ফেডারেল এজেন্টদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার গুরুত্বও তুলে ধরেছেন।
প্রতিবাদে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রেট্টির পরিবার এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলি হোয়াইট হাউসের এই তদন্তকে পর্যাপ্ত না বলে সমালোচনা করে। তারা দাবি করে, ফেডারেল এজেন্টদের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং প্রোটোকল লঙ্ঘনকে যথাযথভাবে প্রকাশ করা উচিত।
হোয়াইট হাউসের এই পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যতে মিনিয়াপোলিসে এবং অন্যান্য শহরে অনুরূপ প্রতিবাদে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করছেন, প্রোটোকল লঙ্ঘন না হওয়ার জন্য ফেডারেল সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই ঘটনার পর থেকে মিনিয়াপোলিসে পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি নিজে উল্লেখ করেছেন, ফেডারেল এজেন্টদের সুরক্ষা এবং নাগরিকদের অধিকার রক্ষার মধ্যে সমতা বজায় রাখতে হবে।
মিলারের মন্তব্য এবং হোয়াইট হাউসের তদন্তের ফলাফল আগামী সপ্তাহে প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে কংগ্রেস এবং বিচার বিভাগীয় সংস্থাগুলি সংশ্লিষ্ট নীতি ও প্রোটোকল পুনর্মূল্যায়ন করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, মিনিয়াপোলিসে নার্সের গুলিবিদ্ধের পর ফেডারেল অভিবাসন সংস্থার প্রোটোকল লঙ্ঘনের সন্দেহ উঠে এসেছে, যা হোয়াইট হাউসের ত্বরিত তদন্তের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনা অভিবাসন নীতি, আইন প্রয়োগ এবং নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।



