বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন মঙ্গলবার রাতে ফেসবুকে পোস্টে উল্লেখ করেছেন, ঢাকা‑৮ আসনের এনসিপিআই প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচনী বিধি‑সম্মত সময়ের আগেই ভোটের আবেদন শুরু করেছেন। তিনি প্রার্থীর কথাবার্তা ও আচরণে দেখা ঔদ্ধত্য, প্রচার‑মাধ্যমে ব্যবহার করা মুখরোচক বক্তব্য এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রতি ধারাবাহিক মিথ্যাচারকে ভোটার‑আকর্ষণের কৌশল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
মাহদী আমিনের পোস্টে আরও বলা হয়েছে, পাটওয়ারী এনসিপিআই‑এর অন্যান্য প্রার্থীর তুলনায় বেশি আগাম ভোট চাওয়ার মাধ্যমে নির্বাচনী নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন এবং তার প্রকাশ্য মন্তব্যে বিরোধী দলকে আক্রমণাত্মকভাবে সমালোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, পাটওয়ারীর এই আচরণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।
প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসের প্রতি পাটওয়ারীর ধারাবাহিক অশালীন মন্তব্যের পরেও, মাহদী আমিনের মতে, পাটওয়ারী ধৈর্য্য বজায় রেখে ইতিবাচকভাবে সাড়া দিয়েছেন। তিনি এই বিষয়টি তুলে ধরে বলছেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্ত্বেও শালীনতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
একই রাতে পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে ঘটেছে, যেখানে কিছু লোক পাটওয়ারীর দিকে ডিম ছুঁড়ে ফেলেছে। এই ধরনের আক্রমণ পূর্বে একই প্রার্থীর ওপর ঘটেছে বলে পূর্বাভাসের মতোই পুনরাবৃত্তি হয়েছে।
ডিম নিক্ষেপের কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই এনসিপিআইয়ের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম কোনো প্রমাণ বা সাক্ষ্য ছাড়াই দাবি করেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমর্থনে এবং মির্জা আব্বাসের নির্দেশে ছাত্রদল ডিম নিক্ষেপ করেছে। তিনি এই অভিযোগে উল্লেখ করেন, পাটওয়ারীর নিরাপত্তা হুমকির মুখে রয়েছে।
হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের কর্তৃপক্ষ জানান, পাটওয়ারীকে কলেজে কোনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা তার প্রবেশে বাধা দিয়েছিল। তদুপরি, তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ ছাড়াই বহিরাগত লোকের সঙ্গে কলেজে প্রবেশের চেষ্টা করেন, যা কলেজের নিরাপত্তা নীতির বিরোধী।
ডিম নিক্ষেপের জন্য কীভাবে ডিম প্রস্তুত করা হয়েছিল, কে মারামারিতে অংশ নিয়েছে, এবং ছাত্রদল, তারেক রহমান বা মির্জা আব্বাসের সঙ্গে এর কোনো সংযোগ আছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়। বর্তমানে কোনো তদন্তমূলক প্রতিবেদন বা সাক্ষ্য প্রকাশিত হয়নি।
মাহদী আমিনের মতে, কোনো প্রমাণ ছাড়া সরাসরি তারেক রহমানের নাম যুক্ত করা ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির প্রতিফলন। তিনি অতীতের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের আচরণকে উদাহরণ দিয়ে বলেন, এমন ধরনের অযৌক্তিক অভিযোগ শেষ পর্যন্ত জনবিচ্ছিন্নতা ও জনরোষের দিকে নিয়ে যায়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী পরিবেশের উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উভয় দলই নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে এবং প্রতিপক্ষের ওপর অভিযোগ বাড়াতে পারে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, ডিম নিক্ষেপের মতো ঘটনা যদি যথাযথভাবে তদন্ত না হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও উত্তেজনা ও সহিংসতা বাড়তে পারে। তাই নির্বাচনী কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজন, যাতে প্রক্রিয়াটি ন্যায়সঙ্গত ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।



