ব্রিটনি গ্রিনার, যুক্তরাষ্ট্রের মহিলা বাস্কেটবল দলের প্রাক্তন তারকা, রাশিয়ায় আটকে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ESPN এর 30 for 30 ডকুমেন্টারি সিরিজের নতুন কাজ ‘The Brittney Griner Story’ সান্ডান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রথমবার প্রদর্শিত হয়েছে। চলচ্চিত্রটি গ্রিনার ও তার স্ত্রীর (চেরেল) দৃষ্টিকোণ থেকে রাশিয়ার কারাগারে কাটানো মাসগুলোকে বিশদভাবে তুলে ধরে, এবং কেন এই কেসটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছিল তা ব্যাখ্যা করে।
গ্রিনারকে মস্কোর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গমনকালে কাস্টমস কর্মকর্তারা তার লাগেজে প্রায় খালি THC ভ্যাপ কার্ট্রিজ পেয়ে তাকে মাদক অপরাধে অভিযুক্ত করেন। পরবর্তীতে তাকে নয় বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যা রাশিয়ার গুলাগের সমতুল্য শাস্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। এই ঘটনার পর গ্রিনার দ্রুতই পুতিন শাসনের রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে ওঠে, আর যুক্তরাষ্ট্রে তার পরিবার ও সমর্থকরা মুক্তির জন্য তীব্র প্রচারণা চালায়।
ডকুমেন্টারিটি ESPN এর 30 for 30 সিরিজের অংশ হিসেবে তৈরি, এবং অ্যালেক্সান্দ্রিয়া স্ট্যাপলটন পরিচালনা করেছেন। মোট দৈর্ঘ্য প্রায় এক ঘণ্টা পঁয়তাল্লিশ মিনিট, এবং সান্ডান্সের প্রধান স্ক্রিনে প্রথমবার প্রদর্শিত হয়। চলচ্চিত্রের শিরোনামই স্পষ্টভাবে বিষয়বস্তু নির্দেশ করে: গ্রিনারের রাশিয়ায় আটক হওয়া এবং তার মুক্তির জন্য চলমান আন্তর্জাতিক আলোচনার একটি সরল বর্ণনা।
ফিল্মের মূল কেন্দ্রবিন্দু হল গ্রিনার এবং চেরেল, যারা একসাথে দীর্ঘ সময়ের বিচ্ছিন্নতা ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়। ডকুমেন্টারিটি তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক, পারিবারিক সমর্থন এবং মানসিক সংগ্রামকে কেন্দ্রীয় করে উপস্থাপন করে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায় কিভাবে একটি ক্রীড়া তারকা তার ক্যারিয়ারের শীর্ষে থাকা অবস্থায় অপ্রত্যাশিতভাবে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।
চিত্রনাট্যটি সরল ও তথ্যবহুল শৈলীতে নির্মিত, যেখানে অতিরিক্ত নাটকীয়তা বা চমকপ্রদ ভিজ্যুয়াল এফেক্টের ব্যবহার কম। এই পদ্ধতি দর্শকদেরকে ঘটনার মূল সত্যে মনোনিবেশ করতে সাহায্য করে, যদিও কিছু দর্শক আরও সৃজনশীল দৃষ্টিকোণ আশা করতে পারেন।
ডকুমেন্টারির সবচেয়ে বড় সম্পদ হল গ্রিনার নিজেই, যিনি নিজস্ব কণ্ঠে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তার বর্ণনা স্বাভাবিক, হাস্যরসপূর্ণ এবং বুদ্ধিদীপ্ত, যা তার ব্যক্তিত্বকে উন্মোচিত করে। তিনি ঘটনাগুলোর প্রতি একধরনের শান্ত স্বভাব বজায় রাখেন, যা দর্শকের কাছে তার সত্যিকারের স্বরূপ প্রকাশ করে।
চলচ্চিত্রে গ্রিনার কখনও তার অনুভূতি দমন করেন না; তিনি কখনো কখনো কষ্টের কথা, কখনো আবার মুক্তির আশার কথা প্রকাশ করেন। এই স্বচ্ছতা তাকে কেবল একটি ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব নয়, বরং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি শক্তিশালী চরিত্রে রূপান্তরিত করে।
তবে, চলচ্চিত্রটি কিছু দিক থেকে সীমাবদ্ধতা দেখায়। রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়ার বিশদ বিশ্লেষণ এখানে কমই পাওয়া যায়। এছাড়া, চিত্রনাট্যের গতি ও ভিজ্যুয়াল স্টাইলের ক্ষেত্রে আরও বৈচিত্র্য যোগ করা হলে দর্শকের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ হতে পারত।
সামগ্রিকভাবে, ‘The Brittney Griner Story’ একটি দৃঢ় ও তথ্যপূর্ণ কাজ, যা গ্রিনারের রাশিয়ায় আটকে থাকার ঘটনাকে সরলভাবে উপস্থাপন করে। যদিও এটি অতিরিক্ত শৈল্পিক ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত, তবে বিষয়বস্তুর সত্যতা ও গ্রিনারের নিজস্ব কণ্ঠের উপস্থিতি এটিকে মূল্যবান করে তুলেছে।
ডকুমেন্টারিটি ক্রীড়া জগতের বাইরে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, মানবাধিকার এবং ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন উত্থাপন করে। গ্রিনারের কেসের মাধ্যমে দেখা যায় কিভাবে একটি ক্রীড়া তারকা আন্তর্জাতিক মঞ্চে অপ্রত্যাশিতভাবে রাজনৈতিক টুকরো হয়ে ওঠে, এবং তার পরিবার ও সমর্থকরা কীভাবে মুক্তির জন্য সংগ্রাম করে।
সান্ডান্সে প্রিমিয়ার হওয়ার পর থেকে এই ডকুমেন্টারিটি বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়েছে, যা বিস্তৃত দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করেছে। গ্রিনারের গল্পের এই দৃশ্যমানতা ক্রীড়া ও মানবিক বিষয়ের সংযোগকে আরও স্পষ্ট করে, এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ কেসে ক্রীড়াবিদদের অধিকার রক্ষার জন্য একটি রেফারেন্স পয়েন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে।
ডকুমেন্টারির শেষ অংশে গ্রিনার ও চেরেল ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও পুনরায় বাস্কেটবলে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যা দর্শকদেরকে আশা ও পুনরুদ্ধারের বার্তা দেয়। এই ইতিবাচক দিকটি পুরো কাজের গম্ভীর স্বরকে সামান্য হালকা করে, এবং শেষ পর্যন্ত একটি সমাপ্তি প্রদান করে যা কেবল ঘটনার বর্ণনা নয়, বরং মানবিক পুনর্জন্মের প্রতীক।
‘The Brittney Griner Story’ ক্রীড়া, রাজনীতি এবং মানবিক দৃষ্টিকোণকে একত্রিত করে একটি সংহত বর্ণনা গড়ে তুলেছে। যদিও শৈল্পিক দিক থেকে কিছুটা সংযত, তবে বিষয়বস্তুর গভীরতা ও গ্রিনারের স্বতঃস্ফূর্ত বর্ণনা এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টারি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।



