অস্ট্রিয়ার ডেভেলপার পিটার স্টেইনবার্গের তৈরি ব্যক্তিগত AI সহকারী, যা প্রথমে Clawdbot নামে পরিচিত ছিল, অ্যানথ্রপিকের কপিরাইট দাবি মোকাবিলার পর Moltbot নামে পুনঃনামকরণ করা হয়েছে। লঞ্চের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভাইরাল হয়ে হাজারো ব্যবহারকারীকে আকৃষ্ট করেছে এবং এখনো তার ক্রাস্টেসিয়ান থিম বজায় রেখেছে।
Moltbot তার ট্যাগলাইনে “প্রকৃত কাজ করা AI” বলে দাবি করে, যা ক্যালেন্ডার পরিচালনা, প্রিয় অ্যাপের মাধ্যমে বার্তা পাঠানো এবং ফ্লাইট চেক‑ইনসহ বিভিন্ন দৈনন্দিন কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম। ব্যবহারকারীরা এই ফিচারগুলো সক্রিয় করতে কিছু টেকনিক্যাল সেটআপের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করলেও, প্রকল্পের সরলতা ও কার্যকারিতা তাদের আকৃষ্ট করেছে।
পিটার স্টেইনবার্গ, যিনি অনলাইনে @steipete নামে পরিচিত, পূর্বে PSPDFkit নামের সফটওয়্যার প্রকল্পের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তার পূর্ববর্তী কাজের পর তিন বছর কম্পিউটার থেকে দূরে ছিলেন, তবে শেষমেশ আবার কোডিংয়ের আগ্রহ ফিরে এসে Moltbot তৈরি করার দিকে ধাবিত হন। এই ব্যক্তিগত প্রকল্পটি মূলত তার নিজের ডিজিটাল জীবনকে সহজ করার জন্য তৈরি হয়েছিল।
প্রাথমিকভাবে Clawd নামে পরিচিত এই টুলটি, যা পরে Molty নামে পরিবর্তিত হয়েছে, পিটারের নিজস্ব ব্যবহারিক চাহিদা পূরণে তৈরি হয়েছিল। তিনি এটিকে “ডিজিটাল জীবন পরিচালনা” এবং “মানব‑AI সহযোগিতা কী হতে পারে” তা অনুসন্ধানের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যদিও এখন এটি একক ডেভেলপারের প্রকল্পের বাইরে গিয়ে সম্প্রদায়ের সহায়তায় বিকশিত হয়েছে, তবে মূল কোডবেস এখনও Clawd‑এর ওপর ভিত্তি করে।
Moltbot-এর অপ্রত্যাশিত জনপ্রিয়তা বাজারেও প্রভাব ফেলেছে। সামাজিক মিডিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি হওয়ার পর ক্লাউডফ্লেয়ার শেয়ার মূল্যের প্রি‑মার্কেট ট্রেডিংয়ে মঙ্গলবার ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ডেভেলপাররা Moltbot স্থানীয়ভাবে চালাতে ক্লাউডফ্লেয়ার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যবহার করে, ফলে এই সেবা সরবরাহকারী কোম্পানির শেয়ার মূল্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে Moltbot ক্লাউডফ্লেয়ারের এজ নেটওয়ার্কে হোস্ট করা হয়, যা ব্যবহারকারীর ডিভাইসে দ্রুত ও নিরাপদে AI ফিচার চালানোর সুযোগ দেয়। এই অবকাঠামো ব্যবহারকারীকে স্থানীয়ভাবে ডেটা প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা করে, ফলে গোপনীয়তা ও পারফরম্যান্সের দিক থেকে সুবিধা বৃদ্ধি পায়।
প্রকল্পের নামকরণে প্রাথমিকভাবে অ্যানথ্রপিকের প্রধান AI মডেল Claude থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছিল, ফলে নামকরণে “Claudoholic” উপাধি ব্যবহার করা হয়। তবে অ্যানথ্রপিকের কপিরাইট সংক্রান্ত উদ্বেগের পর পিটারকে ব্র্যান্ডিং পরিবর্তন করতে হয়, যার ফলে Clawdbot থেকে Moltbot নাম গ্রহণ করা হয়। এই পরিবর্তনটি আইনি বাধা দূর করার পাশাপাশি প্রকল্পের স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রাখতে সহায়তা করেছে।
আজ Moltbot একটি উন্মুক্ত সংস্করণ হিসেবে উপলব্ধ, যেখানে ডেভেলপার ও ব্যবহারকারী উভয়ই ফিচার যোগ ও উন্নয়নে অংশ নিতে পারে। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য এখনও ব্যবহারকারীর ডিজিটাল কাজগুলোকে স্বয়ংক্রিয় করে সময় সাশ্রয় করা, তবে সম্প্রদায়ের অবদান দিয়ে এটি আরও বহুমুখী হয়ে উঠছে।
ব্যক্তিগত AI সহকারী হিসেবে Moltbotের উদ্ভব প্রযুক্তি শিল্পে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে দিয়েছে। ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন রুটিনে AIকে সরাসরি সংযুক্ত করার এই মডেল ভবিষ্যতে কাজের পদ্ধতি ও ব্যক্তিগত উৎপাদনশীলতা পরিবর্তন করতে পারে। একই সঙ্গে, কপিরাইট ও ব্র্যান্ডিং সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো কীভাবে সমাধান করা যায় তা নিয়ে এই ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ প্রদান করে।



