ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ – আইজিপি জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে বাংলাদেশ পুলিশের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না করে ভোটারদের নিরাপদে ভোটদান নিশ্চিত করা পুলিশ বিভাগের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি ও কঠোর নির্দেশনা কার্যকর করা হবে।
আইজিপি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের দিন ও তার পূর্ব-পরবর্তী সময়ে প্রায় ১,২০,০০০ পুলিশ কর্মী বিভিন্ন স্তরে মোতায়েন করা হবে। প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোতে বিশেষভাবে নির্বাচন নিরাপত্তা, ভোটার সুরক্ষা এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার সংক্রান্ত কোর্স চালু করা হয়েছে। এছাড়া, ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে রিয়েল‑টাইম নজরদারি নিশ্চিত করা হবে।
উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে; কোনো কর্মকর্তা যদি রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীকে সমর্থন জানায়, তবে তা কঠোর শাস্তির আওতায় পড়বে। আইজিপি বলেন, “যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মী নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে, তবে তা জনসাধারণের আস্থা ক্ষুণ্ন করবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে”। এই নীতি অনুসরণে সকল ইউনিট প্রধানকে নিয়মিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। টাস্কফোর্সের দায়িত্বে রয়েছে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা পরিকল্পনা, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং ভোটার হটলাইন পরিচালনা। এছাড়া, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে অপ্রয়োজনীয় গ্যাদারিং ও অশান্তি রোধে প্রো-অ্যাকটিভ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
গত কয়েক বছর ধরে নির্বাচনী সময়ে কিছু ক্ষেত্রে পুলিশের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে, যা ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। আইজিপি এই উদ্বেগগুলোকে স্বীকার করে বলেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। তাই, ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষক দল গঠন এবং মিডিয়া সংস্থার সঙ্গে তথ্য শেয়ারিং বাড়ানো হবে।
রাজনৈতিক দলগুলোও আইজিপির এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, তারা পুলিশের নিরপেক্ষতা বজায় রাখলে নির্বাচন প্রক্রিয়া মসৃণভাবে চলবে। তবে, কিছু দল এখনও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চেয়েছে। আইজিপি এসব উদ্বেগের উত্তর হিসেবে অতিরিক্ত গার্ড ও মোবাইল ইউনিটের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন।
ভোটারদের জন্য বিশেষ হটলাইন চালু করা হবে, যেখানে তারা ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো সমস্যার দ্রুত রিপোর্ট করতে পারবে। এছাড়া, ভোটার সনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল আইডি ব্যবহার করে পরিচয় যাচাই করা হবে, যা ভোটার জালিয়াতি কমাবে। ভোটের দিন নাগাদ সব ভোটকেন্দ্রের প্রস্তুতি শেষ হবে এবং কোনো ধরণের বিঘ্ন ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইজিপি শেষ কথা বলেন, “জাতীয় নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এবং বাংলাদেশ পুলিশ এই প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ”। তিনি আরও যোগ করেন, পুলিশ কর্মীরা সকল নাগরিকের সমান সেবা প্রদান করবে এবং কোনো রাজনৈতিক চাপের মুখে না গিয়ে দায়িত্ব পালন করবে। এই অঙ্গীকারের ভিত্তিতে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য হবে বলে আশা করা যায়।



