20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতি২২ জন সাবেক এমপি-মন্ত্রী কারাগারে পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে ভোট দেবেন

২২ জন সাবেক এমপি-মন্ত্রী কারাগারে পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে ভোট দেবেন

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থী না হলেও, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, সাদেক খান, ডা. এনামুর রহমানসহ মোট বাইশজন প্রাক্তন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী পোস্টাল ব্যালেটের মাধ্যমে ভোট দেবেন। এই ভোটদান ব্যবস্থা কারাবন্দিদের প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার নিশ্চিত করে, যা দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে।

মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে নির্বাচনী ব্যবস্থায় ধারাবাহিক পরিবর্তন আনা নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৮৪ হাজার কারাবন্দির মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার নয়শ ষাটজন নিবন্ধিত ভোটার হয়েছে। এই সংখ্যা মোট সম্ভাব্য ভোটার সংখ্যার তুলনায় কম, যা মূলত পরিচয়পত্রের অভাব ও ভোটে আগ্রহের ঘাটতি থেকে উদ্ভূত।

ভোটদান কার্যক্রম ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে, এবং দেশের সাতাত্তরটি কারাগারের মধ্যে একাত্তরটি স্থানে ভোট গ্রহণ করা হবে। অবশিষ্ট চারটি কারাগারেও ভোটের প্রস্তুতি চলছে, তবে নিরাপত্তা ও লজিস্টিক বিষয়ের কারণে শেষ মুহূর্তে সমন্বয় করা হতে পারে।

কারাগারভিত্তিক ভোটের জন্য ভোটকেন্দ্র স্থাপন, সময়সূচি নির্ধারণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয় প্রায় সম্পন্ন হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ভোটের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে বন্দিদের ভোটাধিকার সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করা যায়।

এইবার নির্বাচন কমিশন আইন সংশোধন করে হজতিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ভোট চালু করেছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, কারাবন্দিরা তাদের নিকটস্থ কারাগারে নির্ধারিত সময়ে পোস্টাল ব্যালেটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবে, যা পূর্বে কেবল প্রবাসীদের জন্য সীমিত ছিল।

বহুজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এই সুযোগকে ব্যবহার করে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশে তাদের মতামত প্রকাশ করবেন। রাশেদ খান মেনন, যিনি পূর্বে বিদেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন, ইনু, যিনি পার্টি নেতা হিসেবে দীর্ঘদিন সক্রিয়, এবং ডা. এনামুর রহমান, যিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ করেছেন, এ সকলের ভোটের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হবে।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কারাবন্দিদের ভোটাধিকার বাস্তবায়িত হওয়ায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্তি বাড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মানবাধিকার সংস্থার সুপারিশের প্রতিফলন হিসেবেও দেখা যায়।

তবে, নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যার তুলনায় কম হওয়ার মূল কারণ হল অনেক বন্দির জাতীয় পরিচয়পত্রের অভাব এবং কিছুজনের ভোটে অনাগ্রহ। পরিচয়পত্র না থাকা কারণে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে সম্ভাব্য ভোটার সংখ্যা কমে যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই প্রথমবারের মতো কারাবন্দিদের ভোটদান ব্যবস্থা পার্টিগুলোর কৌশলগত পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, যারা দীর্ঘ সময়ের জন্য রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে দূরে ছিলেন, তাদের ভোটের মাধ্যমে পার্টির অভ্যন্তরে সমর্থন গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

নির্বাচন কমিশন ভবিষ্যতে আরও বেশি কারাবন্দিকে ভোটের জন্য নিবন্ধন করার পরিকল্পনা করছে, যাতে ভোটাধিকারকে সর্বজনীন করা যায়। এছাড়া, ভোটার তালিকায় পরিচয়পত্রের সমস্যার সমাধানের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা ভোটার অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments