সঙ্গীত শিল্পে নারী প্রযোজক ও ইঞ্জিনিয়ারদের অবদান বাড়াতে গৃহীত উদ্যোগের অংশ হিসেবে, ‘We Are Moving the Needle’ সংস্থা হলিউডের নতুন নামকরণ করা চার্লি চ্যাপলিন স্টুডিওতে রেজোনেটর অ্যাওয়ার্ডসের দ্বিতীয় সংস্করণ আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানটি এই সপ্তাহের মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় এবং শিল্পের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সম্মাননা প্রদান করে। এই ইভেন্টটি শিল্পের লিঙ্গ বৈষম্য নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রথম রেজোনেটর অ্যাওয়ার্ডস দুই বছর আগে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অ্যালানিস মোরিসেট, ক্যারোলিন পলাচেক এবং কোরিন বে রে সহ বেশ কিছু নারী শিল্পীকে সম্মানিত করা হয়। এই পুরস্কার অনুষ্ঠানটি মূলত সঙ্গীত উৎপাদন ও ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রে নারীর কম প্রতিনিধিত্বকে তুলে ধরতে এবং সমাধানের পথ খুঁজতে লক্ষ্য করে চালু করা হয়েছিল। তখন থেকেই এই উদ্যোগটি শিল্পের সমতা প্রচারের একটি মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
প্যালিসেডস ও ইটন ওয়াইল্ডফায়ারসের কারণে গ্র্যামি সপ্তাহের বেশিরভাগ প্রোগ্রাম বাতিল হওয়ার পর, রেজোনেটর অ্যাওয়ার্ডসের দ্বিতীয় সংস্করণ কিছুটা দেরিতে হলেও ফিরে এসেছে। আগের বছরের বাতিলের পরেও সংগঠনটি তার মিশন বজায় রেখে ইভেন্টটি পুনরায় চালু করতে সক্ষম হয়েছে। এই পুনরায় সূচনা শিল্পের সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা জাগিয়ে তুলেছে।
এই বছরের অনুষ্ঠানে ফ্রেড আরমেসান মঞ্চস্থ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, আর চাকা খান, চ্যাপেল রোয়ান, সেন্ট ভিনসেন্ট এবং হেইমকে সম্মানিত করা হয়েছে। উপস্থাপনা দলে সিয়া, অ্যান্ডারসন .প্যাক, অলিভিয়া রড্রিগো, লাফেই এবং অ্যাডিসন রে সহ আরও বহু পরিচিত নাম অন্তর্ভুক্ত। উপস্থিতি ও উপস্থাপনার বৈচিত্র্য ইভেন্টকে আরও রঙিন ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও গ্র্যামি জয়ী ইঞ্জিনিয়ার এমিলি লেজর বলেন, পুরস্কার অনুষ্ঠানটি কোনো স্বার্থপর প্রচার নয়, বরং শিল্পের সমস্যাকে উন্মোচন করে সমাধানকারী ব্যক্তিদের উদযাপন করার একটি মাধ্যম। তিনি উল্লেখ করেন, নারী সৃষ্টিকর্তাদের স্বীকৃতি দিয়ে পুরো শিল্পে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। এই দৃষ্টিকোণ থেকে রেজোনেটর অ্যাওয়ার্ডসকে সৃষ্টিকর্তাদের উদযাপন হিসেবে দেখা হয়।
রেজোনেটর অ্যাওয়ার্ডসের আয় মূলত সংস্থার তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়, যদিও নির্দিষ্ট লক্ষ্য পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি। এখন পর্যন্ত সংস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য $875,000 স্কলারশিপ ও অনুদান প্রদান করেছে। এই তহবিলের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারী সঙ্গীতপ্রযোজকদের সমর্থন বাড়ানো হচ্ছে।
ইভেন্টের প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে লেজর উল্লেখ করেন, সংস্থা শিল্পের পাশাপাশি যুব স্তরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তিনি বিশেষ করে বোর্ডে আরও বেশি নারী সদস্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন, যাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমতা নিশ্চিত হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি সংস্থার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যকে শক্তিশালী করে।
রেজোনেটর অ্যাওয়ার্ডসের এই দ্বিতীয় সংস্করণ সঙ্গীত শিল্পে লিঙ্গ সমতা নিয়ে আলোচনার নতুন অধ্যায় উন্মোচন করেছে এবং নারী প্রযোজকদের স্বীকৃতি ও সমর্থনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শিল্পের বিভিন্ন স্তরে এই ধরনের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতে আরও সমান সুযোগের পথ প্রশস্ত করবে।



