বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মঙ্গলবার গাজীপুরের ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে মধ্যরাতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে বক্তৃতা দিয়ে ১২ তারিখের ভোটের নিরাপত্তা সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি ময়মনসিংহ থেকে ক্যাম্পেইন শুরু করে রাতারাতি গাজীপুরে পৌঁছে, রাত ১২টায় মঞ্চে উঠে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানান।
তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, ফজর নামাজের পরে ভোটকেন্দ্রের সামনে গিয়ে প্রার্থীর সমাবেশে অংশ নেওয়া উচিত, যাতে কেউ অগ্রিম সেখানে অবস্থান করে না এবং ভোটের স্বচ্ছতা বজায় থাকে। তিনি ভোটকেন্দ্রের ভিতরে অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলার পাশাপাশি, গত ১৫-১৬ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভোটের অধিকারকে কীভাবে চুরি করা হয়েছে তা স্মরণ করিয়ে দেন।
তিনি গাজীপুরের জনগণের ২০২৪ সালের আন্দোলনে প্রদর্শিত বিশাল অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে বলেন, ঐ সময়ে গাজীপুর থেকে হাজার হাজার মানুষ ঢাকায় গিয়ে গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার ও স্বাধীনতার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই অবদানকে অবহেলিত না করে, ভবিষ্যতে ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, তিনি জোর দেন।
তারেক রহমান নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণা করে বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে তিনি এই মাঠে দৌড়াদৌড়ি ও খেলাধুলা করতেন। রাজবাড়ির উল্টো দিকে ছোট দুটি লাল রঙের বাংলোতে তিনি, তার বাবা-মা ও ছোট ভাই একসাথে থাকতেন; তাই গাজীপুরের এই স্থান তার জন্য বিশেষ অর্থ বহন করে। এই ব্যক্তিগত সংযোগের ভিত্তিতে তিনি গাজীপুরের মানুষের প্রতি নিজের অধিকার দাবি করে, ধানের শীষকে সমৃদ্ধি ও সফলতা অর্জনে সহায়তা করার আহ্বান জানান।
সমাবেশে তিনি গাজীপুর-১ থেকে গাজীপুর-৫ পর্যন্ত পাঁচটি আসনের বিএনপি প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। গাজীপুর-১ আসনে মজিবুর রহমান, গাজীপুর-২ আসনে এম. মনজুরুল করিম রনি, গাজীপুর-৩ আসনে এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর-৪ আসনে শাহ রিয়াজুল হান্নান এবং গাজীপুর-৫ আসনে ফজলুল হক মিলনকে ভোটারদের সমর্থন চেয়ে আহ্বান জানান।
তারেক রহমানের বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভোটের প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম না ঘটতে নিশ্চিত করা এবং ভোটারদের স্বেচ্ছাসেবীভাবে নির্ধারিত সময়ে ভোটদান করতে উদ্বুদ্ধ করা। তিনি ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে কোনো ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা থাকলে তা তৎক্ষণাৎ রিপোর্ট করার গুরুত্বও উল্লেখ করেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, তারেকের এই সতর্কতা গাজীপুরে ভোটারদের মধ্যে উচ্চ মাত্রার সচেতনতা ও অংশগ্রহণ সৃষ্টি করতে পারে, যা ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে, অন্যান্য দলগুলোরও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা বাড়বে।
সামগ্রিকভাবে, তারেক রহমানের আহ্বান গাজীপুরে ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলকে নির্ধারিত পথে রাখতে সহায়তা করবে।



