গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর বাসস্ট্যান্ডে মঙ্গলবার রাত প্রায় ১০ টায় জামায়াত-এ-ইসলামি আমির শফিকুর রহমান নির্বাচনী পথসভা পরিচালনা করেন। তিনি উপস্থিত ভক্তদের সামনে দেশের রাজনৈতিক দিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বক্তৃতা দেন।
সমাবেশে স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক ও ব্যবসায়ীসহ বিশাল জনসমাগম দেখা যায়। মঞ্চের পাশে সজ্জিত মাইক্রোফোন ও সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে শফিকুর রহমানের কথা পুরো এলাকায় শোনা যায়।
শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, “ধোঁকাবাজি, ব্যাংক ডাকাতি কিংবা শেয়ারবাজার লুটপাটের রাজনীতি আমরা করতে চাই না। আমাদের রাজনীতি দেশের মালিক হওয়ার জন্য নয়, দেশের সেবক হওয়ার জন্য।” তিনি এই বক্তব্যে দলের নীতি ও লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেন।
এরপর তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, “দোষারোপ, তোষামদি, ধোঁকা‑মিথ্যাবাদী ও ফ্যাসিবাদী কায়দার রাজনীতি থেকে দেশকে বের করে আনতে হবে।” এই মন্তব্যে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
শফিকুর রহমান জানান, “৫ তারিখের আগ পর্যন্ত সবচেয়ে দুঃখকষ্ট পাওয়া দল হলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।” তিনি যোগ করেন, “৫ তারিখের পর আমরা সকল ধর্ম ও শ্রেণির মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি, আশ্বস্ত করেছি, সাহস জুগিয়েছি—এ দেশে সবাই সমান, অধিকারও সমান।” এই অংশে তিনি ভোটের পর দলের জনসংযোগ কৌশল তুলে ধরেন।
সমাবেশে তিনি পুনরায় সমান অধিকার ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রত্যয় প্রকাশ করে বলেন, “আগামীর প্রজন্মের জন্য হিংসামুক্ত, ঐক্যের বাংলাদেশ গড়তে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। জালিমকে কারও দিকে হাত বাড়াতে দেব না।” এই বক্তব্যে তিনি শান্তিপূর্ণ ও ঐক্যবদ্ধ সমাজের লক্ষ্য উল্লেখ করেন।
বক্তৃতার একটি পর্যায়ে শফিকুর রহমান গোপালগঞ্জ‑১ (মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর একাংশ) আসনে জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থী মো. আব্দুল হামিদের হাত উঁচু করে জনতার উদ্দেশে বলেন, “আমি এই তাঁর হাতটি উঁচু করে ধরলাম—আপনারাও তাঁর জন্য লড়বেন।” এতে তিনি প্রার্থীর প্রতি সমর্থন ও ভোটারদের উৎসাহ বাড়াতে চেয়েছেন।
শফিকুর রহমান অতীতের বিরোধ মাফ করার কথা উল্লেখ করে বলেন, “অতীতে আমাদের সঙ্গে যা যা হয়েছে, আমরা তা দলের পক্ষ থেকে মাফ করে দিয়েছি। আমরা আমাদের কথা রেখেছি।” এই মন্তব্যে তিনি দলের ঐক্য ও অগ্রগতির ইচ্ছা জোর দেন।
বক্তৃতার পর মুকসুদপুর কলেজ মোড় ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জামায়াত-এ-ইসলামি নেতা ও কর্মীরা মিছিলের আয়োজন করেন। সমাবেশের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং স্থানীয় পুলিশ উপস্থিত থাকে।
এই পথসভা গোপালগঞ্জের নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করেন। জামায়াত-এ-ইসলামির নতুন রাজনৈতিক বার্তা ও প্রার্থীর সমর্থন বাড়াতে এই ধরনের জনসমাবেশের প্রভাব উল্লেখযোগ্য।
প্রতিপক্ষ দলগুলো এখনও এই বক্তৃতার প্রতি কীভাবে সাড়া দেবে তা স্পষ্ট নয়, তবে গোপালগঞ্জের ভোটারদের মধ্যে শফিকুর রহমানের আহ্বান শোনার পর মতামত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, জামায়াত-এ-ইসলামি গোপালগঞ্জে নতুন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের সমাবেশের মাধ্যমে দলটি তার ভিত্তি শক্তিশালী করতে এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে পারে।



