বিনোদন জগতের নতুন সাই-ফাই ছবি ‘Matter of Time’ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নর্থ আমেরিকায় থিয়েটারে প্রদর্শিত হবে। ছবির পরিচালনা করেছেন জেরেমি স্নিড, আর শোন অস্টিন, তার কন্যা আলি অস্টিন, মাইলস এরলিক এবং জেমি আলেক্সান্ডার মূল ভূমিকায় অভিনয় করছেন। পিনাকল পিক পিকচার্স এই ছবির উত্তর আমেরিকান বিতরণ অধিকার অর্জন করেছে এবং থিয়েটার মুক্তির দায়িত্বে রয়েছে।
‘Matter of Time’ প্রথমবারের মতো ডালাস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে গত বছর প্রদর্শিত হয় এবং দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পায়। উৎসবে ছবির পোস্টার ও ট্রেলার উন্মোচন করা হয়, যা গেমিং এবং সময়ের ধারণা নিয়ে কৌতূহল জাগিয়ে তুলেছে।
কাহিনীর কেন্দ্রে রয়েছে চার্লি ফ্লেক, ২৯ বছর বয়সী এক উদীয়মান ভিডিও গেম ডিজাইনার, যিনি একটি অদ্ভুত যন্ত্র আবিষ্কার করেন যা সময়কে স্থবির করতে সক্ষম। এই ক্ষমতা ব্যবহার করে তিনি নিজের স্বপ্ন পূরণে এবং জীবনের বিভিন্ন জটিলতা মোকাবেলায় নানা সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হন। সময় থামানোর ফলে সৃষ্ট নৈতিক ও মানসিক দ্বন্দ্বই ছবির মূল থিম হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
মাইলস এরলিক চরিত্রে চার্লি ফ্লেকের ভূমিকায় অভিনয় করছেন, আর শোন অস্টিন সহায়ক চরিত্রে উপস্থিত। আলি অস্টিন, শোনের কন্যা, ছবিতে তার প্রথম বড় স্ক্রিন উপস্থিতি ঘটিয়েছেন, যা লর্ড অফ দ্য রিংস ত্রয়ীর পর তাদের যৌথ উপস্থিতি হিসেবে উল্লেখযোগ্য। জেমি আলেক্সান্ডারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন, যা ছবির কাস্টকে সমৃদ্ধ করেছে।
চিত্রনাট্যটি জেরেমি স্নিড, জেসন বাউমগার্ডনার, জ্যাচ স্মিথ এবং শোন উইলকি একসাথে রচনা করেছেন। গল্পের অতিরিক্ত দিকগুলোতে ক্রিস ডাউলিং, ম্যাট গ্রিন এবং অ্যান্থনি টাইলার কুইনকে ক্রেডিট দেওয়া হয়েছে। প্রযোজনা দায়িত্বে ছিলেন স্নিড, বাউমগার্ডনার এবং ইয়ান ক্যাম্পবেল, যারা ছবির সৃজনশীল দিকগুলোকে সমন্বয় করেছেন।
স্নিডের পূর্বের কাজের মধ্যে রয়েছে ‘Playing With Power: The Nintendo Story’ নামের ডকুমেন্টারি সিরিজ, যেখানে শোন অস্টিন এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার হিসেবে কাজ করেছেন। গেমিং সংস্কৃতির গভীর বিশ্লেষণ এবং ডকুমেন্টারি শৈলীর অভিজ্ঞতা ‘Matter of Time’-কে একটি অনন্য দৃষ্টিকোণ প্রদান করেছে।
শোন অস্টিন এবং আলি অস্টিনের এই যৌথ উপস্থিতি চলচ্চিত্রের প্রচারকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। লর্ড অফ দ্য রিংস ত্রয়ীর পর প্রথমবারের মতো বাবা-মা একসাথে স্ক্রিনে আসা দর্শকদের জন্য একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে। এই সংযোগ ছবির আবেগময় স্তরকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
ফিল্মের পোস্টার এবং ট্রেলার ইতিমধ্যে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে সময় থামানোর যন্ত্রের ভিজ্যুয়াল এবং গেম ডিজাইনের পটভূমি স্পষ্টভাবে দেখা যায়। ভিজ্যুয়াল উপাদানগুলো দর্শকদের কৌতূহল বাড়িয়ে তুলেছে এবং ছবির মূল ধারণা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা প্রদান করেছে।
পরিচালক জেরেমি স্নিড ছবির থিমকে ‘আকাঙ্ক্ষা, ক্ষতি এবং সংযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ডকুমেন্টারি থেকে বর্ণনামূলক চলচ্চিত্রে রূপান্তরের উত্তেজনা প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে গেম ডিজাইনের জগতে সময়ের নিয়ন্ত্রণের কল্পনা তাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে এবং এই গল্পের মাধ্যমে দর্শকদের নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করতে চান।
‘Matter of Time’ নিকট ভবিষ্যতে থিয়েটারে প্রদর্শিত হবে, যা সাই-ফাই এবং গেমিং উত্সাহীদের জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে। ছবির মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে দর্শকরা সময়ের প্রবাহকে থামিয়ে রাখার সম্ভাবনা এবং তার ফলাফল নিয়ে চিন্তা করতে পারবেন। সিনেমা প্রেমিকদের জন্য এই চলচ্চিত্রটি একটি আকর্ষণীয় বিকল্প হিসেবে প্রত্যাশিত, এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বড় পর্দায় দেখা যাবে।



