বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা সুভাষ ঘাই গোরেগাঁয়ের একটি বাণিজ্যিক সম্পত্তি ক্রয় করে মুক্তা আর্টসের অফিস সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল তার সৃজনশীল দলকে একত্রিত করে বৃহত্তর উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা। একই সময়ে, তিনি আন্দেহরিতে থাকা নিজের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করে প্রায় ১২.৮৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছেন।
সুভাষ ঘাই তালের, কার্জের এবং পারদেশের মতো ক্লাসিক ছবির জন্য পরিচিত, যাঁকে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক বিশিষ্ট স্থান অর্জন করেছে। তার ক্যারিয়ার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান, এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দিকে ঝুঁকছেন। ২০২৫ সালে চলচ্চিত্র ও ওটিটি উভয় ক্ষেত্রেই নতুন প্রকল্পের সূচনা করার লক্ষ্য তিনি প্রকাশ করেছেন।
গোরেগাঁয়ের নতুন সম্পত্তিটি মূলত অফিস ও স্টুডিও হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এই সম্পত্তি পূর্বে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হলেও, এখন এটি মুক্তা আর্টসের জন্য আধুনিক কর্মস্থল হিসেবে রূপান্তরিত হবে। গোরেগাঁ, যা মুম্বাইয়ের মিডিয়া হাবের অংশ, এখানে শিল্পী ও প্রযুক্তি সংযোগের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ প্রদান করে।
অ্যান্ডheri-তে অবস্থিত তার ব্যক্তিগত ফ্ল্যাটের বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত ১২.৮৫ কোটি টাকা সম্পূর্ণভাবে নতুন অফিস নির্মাণে ব্যয় করা হবে। এই লেনদেনটি সম্পন্ন হওয়ার পর, ঘাই তার সম্পদকে পুনর্গঠন করে মুক্তা আর্টসের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বিনিয়োগ করছেন। বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত তহবিলের মাধ্যমে তিনি অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ ও উন্নত প্রযুক্তি সমন্বয় করতে পারবেন।
গোরেগাঁয়ে তিনি যে ছোট ছোট ফ্ল্যাটগুলো আগে মালিকানায় রেখেছিলেন, সেগুলো একত্রিত করে একটি কেন্দ্রীয় কর্মস্থল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এই কেন্দ্রীয়করণে সৃজনশীল দল, প্রোডাকশন টিম এবং প্রশাসনিক কর্মচারীরা একই ছাদে কাজ করবে, ফলে যোগাযোগের গতি বাড়বে এবং প্রকল্পের সময়সীমা কমে যাবে।
নতুন অফিসটি আধুনিক সরঞ্জাম, উচ্চমানের স্টুডিও ও কনফারেন্স রুম দিয়ে সজ্জিত হবে। কর্মস্থলের নকশা এমনভাবে করা হবে যাতে সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। এছাড়া, এখানে ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পোস্ট-প্রোডাকশন সুবিধা ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সাথে সমন্বয় করার জন্য বিশেষ টেকনোলজি সাপোর্ট থাকবে।
এই সম্প্রসারণের পেছনে মূল কৌশল হল উৎপাদন প্রক্রিয়াকে সহজতর করা এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল দর্শকের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হওয়া। ওটিটি প্ল্যাটফর্মের উত্থান ও দর্শকের পছন্দের বৈচিত্র্যকে লক্ষ্য করে, ঘাই তার কোম্পানিকে আধুনিক মিডিয়া পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে চান। ফলে মুক্তা আর্টসের কন্টেন্টে ঐতিহ্যবাহী সিনেমাটিক স্টাইলের সঙ্গে সমসাময়িক থিমের মিশ্রণ দেখা যাবে।
দলীয় কাঠামোকে একত্রিত করার ফলে নতুন প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের মধ্যে ঘাই চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল সিরিজ উভয় ক্ষেত্রেই একাধিক উচ্চপ্রোফাইল প্রকল্প চালু করার লক্ষ্যে কাজ করছেন। এই প্রকল্পগুলোতে তার স্বকীয় গল্প বলার ধরন এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় থাকবে।
সুভাষ ঘাইয়ের এই পদক্ষেপ তার শিল্পের প্রতি অবিচল প্রতিশ্রুতি এবং পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলার ইচ্ছা প্রকাশ করে। দীর্ঘদিনের চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে তিনি এখন নতুন মিডিয়া যুগে নিজেকে পুনর্নির্মাণের পথে এগিয়ে নেন। গোরেগাঁয়ের নতুন অফিস মুক্তা আর্টসের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীল শক্তির প্রতীক হিসেবে কাজ করবে, যা ভারতীয় বিনোদন জগতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।



