ওপেনএআই মঙ্গলবার একটি নতুন বৈজ্ঞানিক ওয়ার্কস্পেস ‘প্রিজম’ প্রকাশ করেছে, যা চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারী সকলের জন্য বিনামূল্যে উপলব্ধ। এই প্ল্যাটফর্মটি গবেষণা পত্রের লেখালেখি ও বিশ্লেষণকে সহজ করতে এআই‑সক্ষম টুল হিসেবে কাজ করে এবং GPT‑5.2 মডেলের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত।
প্রিজমকে একটি এআই‑বর্ধিত ওয়ার্ড প্রসেসর হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে ব্যবহারকারী দাবিগুলি যাচাই, লেখার শৈলী উন্নত এবং পূর্বের গবেষণার রেফারেন্স দ্রুত অনুসন্ধান করতে পারেন। টেক্সটের গঠন পরিবর্তন, ব্যাকরণ সংশোধন এবং প্রাসঙ্গিক সূত্র যোগ করার কাজগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হয়, ফলে গবেষকের কাজের গতি বাড়ে।
তবে পরিষেবাটি স্বয়ংসম্পূর্ণ গবেষণা চালানোর জন্য নয়; সবসময় মানব নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধান প্রয়োজন। ওপেনএআই স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে প্রিজমের ভূমিকা মানব বিজ্ঞানীর সহায়ক হিসেবে সীমাবদ্ধ, স্বতন্ত্রভাবে নতুন তত্ত্ব গঠন বা পরীক্ষা করা নয়।
কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা প্রিজমকে কোডিং টুল যেমন কার্সর ও উইন্ডসার্ফের সঙ্গে তুলনা করে ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন। বিজ্ঞান ও এআই সংমিশ্রণের ক্ষেত্রে ২০২৬ বছরটি ২০২৫ সালে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এআই যে পরিবর্তন এনেছিল, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে একটি নির্বাহী মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রিজমের প্রকাশের সময় ওপেনএআই লক্ষ্য করেছে যে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে বৈজ্ঞানিক প্রশ্নের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কোম্পানি জানায় যে গড়ে সপ্তাহে ৮.৪ মিলিয়ন বার্তা কঠিন বিজ্ঞান বিষয়ক প্রশ্নের রূপে আসে, যদিও এদের মধ্যে কতগুলো পেশাদার গবেষক পাঠাচ্ছেন তা নির্ধারণ করা কঠিন।
এআই‑সহায়িত গবেষণা ইতিমধ্যে গাণিতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ফলাফল দেখাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এআই মডেলগুলোকে ব্যবহার করে বহু পুরনো এরডস সমস্যার সমাধান করা হয়েছে, যেখানে সাহিত্য পর্যালোচনা এবং বিদ্যমান কৌশলের নতুন প্রয়োগের সমন্বয় ঘটেছে। যদিও এই প্রমাণের বৈধতা নিয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে, তবুও এআই ও ফরমাল ভেরিফিকেশন সিস্টেমের সমর্থকদের জন্য এটি একটি প্রাথমিক সাফল্য হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
ডিসেম্বরে প্রকাশিত একটি পরিসংখ্যান গবেষণাপত্রে GPT‑5.2 প্রো ব্যবহার করে একটি কেন্দ্রীয় অক্ষের নতুন প্রমাণ তৈরি করা হয়েছে। এখানে মানব গবেষকরা শুধুমাত্র মডেলকে নির্দেশনা দিয়েছেন এবং ফলাফল যাচাই করেছেন, ফলে মানব‑এআই সহযোগিতার একটি উদাহরণ তৈরি হয়েছে।
ওপেনএআই এই ফলাফলকে তার ব্লগে তুলে ধরে ভবিষ্যতে গবেষণায় মানব ও এআই পারস্পরিক ক্রিয়ার মডেল হিসেবে উপস্থাপন করেছে। পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অক্ষীয় তত্ত্বের ভিত্তিতে কাজ করা ক্ষেত্রগুলোতে সীমান্ত মডেলগুলো প্রমাণ অনুসন্ধান, অনুমান পরীক্ষা এবং সংযোগ সনাক্তকরণে সহায়তা করতে পারে, যা অন্যথায় প্রচুর মানব প্রচেষ্টা প্রয়োজন হতো।
প্রিজমের চালু হওয়া বিজ্ঞানী সম্প্রদায়ের কাজের ধরণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এআই‑সক্ষম টুলের মাধ্যমে গবেষণার প্রাথমিক ধাপগুলো দ্রুততর হবে, ফলে গবেষকরা বেশি সময় জটিল বিশ্লেষণ ও সৃজনশীল চিন্তায় ব্যয় করতে পারবেন। ভবিষ্যতে এই ধরনের প্ল্যাটফর্মগুলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন।



