ইংল্যান্ডের ক্যাপ্টেন হ্যারি ব্রুকের ৬৬ ball-এ ১৩৬* রান, যার মধ্যে ৫৭ ball-এ শতক, শ্রীলঙ্কার ৩৫৮ রান লক্ষ্যকে ৫৩ রানে পরাজিত করে এবং সিরিজের বিজয় নিশ্চিত করে। টিউসডে, কলম্বোর আর. প্রিমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ওডিআইতে শ্রীলঙ্কা প্রথম ১০ ওভারে ১০৪ রান করে শক্তিশালী সূচনা করলেও, পরবর্তী ওভারগুলোতে রানের প্রবাহ থেমে যায়।
শ্রীলঙ্কা রানের গতি বজায় রাখতে আকাশে শট মারতে শুরু করে, তবে ইংল্যান্ডের ফিল্ডাররা গভীর এলাকায় ধারালো ক্যাচ নিয়ে দ্রুত উইকেট নেয়। শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা ৪৬.৪ ওভারে ৩০৪ রান করে আটকে যায়, যেখানে পাভন রথনায়কে ১১২১ ball-এ ১২টি চার এবং একটি ছয়সহ ১২১ রান করে একমাত্র শতক অর্জন করে।
ইংল্যান্ডের ব্যাটিং ইনিংস ৩৬৭/৩ স্কোরে শেষ হয়, যেখানে ব্রুকের ১১টি চার এবং নয়টি ছয় তার আক্রমণাত্মক শৈলীর পরিচায়ক ছিল। তার শোবার্কে শ্রীলঙ্কার রক্ষার গতি ধীর হয়ে যায় এবং ইংল্যান্ডের ৪,০০০-সদস্যের সমর্থক দলটি উল্লাসে মাতোয়ারা হয়।
ব্রুক ম্যাচের পরে বললেন, “পিচ আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ছিল, সবাই অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।” তিনি জো রুটের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে যোগ করেন, “রুট সত্যিই চমৎকার খেলেছেন। স্পিনারদের খেলা আমাদের জন্য ভাল সংকেত, বিশেষ করে ওয়ার্ল্ড কাপের আগে।”
শ্রীলঙ্কা পাঁচ বছর ধরে হোম গ্রাউন্ডে ১২টি সিরিজে অজয় ছিল, যার মধ্যে ১১টি জয় এবং একটি ড্র। ব্রুকের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং তাদের এই দীর্ঘ শৃঙ্খলা ভেঙে দেয় এবং ইংল্যান্ডকে সিরিজের শিরোপা এনে দেয়। এই পরাজয়ে শ্রীলঙ্কা আইসিসি ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ে ছয় নম্বরে নেমে আসে, আর দক্ষিণ আফ্রিকা এ পঞ্চম স্থানে উঠে আসে।
ইংল্যান্ডের প্রথম ওডিআইতে কিছুটা সমস্যার মুখোমুখি হলেও, সিরিজের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তারা তাপমাত্রা ও ঘূর্ণায়মান পিচের সাথে দ্রুত মানিয়ে নেয়। শনিবারের ম্যাচে সমতা বজায় রাখার পর, টিউসডে তারা সম্পূর্ণ দলগত পারফরম্যান্স দেখিয়ে জয় নিশ্চিত করে।
শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং পতনের মূল কারণ ছিল রানের গতি বজায় রাখতে উচ্চ ঝুঁকির শট নেওয়া, যা ইংল্যান্ডের ফিল্ডিং দল দ্রুত ক্যাচে রূপান্তরিত করে। পাভন রথনায়কের একক শতক সত্ত্বেও, দলের সামগ্রিক ভাঙন শেষ পর্যন্ত তাদের লক্ষ্য অর্জনে বাধা দেয়।
ইংল্যান্ডের জয় শ্রীলঙ্কার হোম রেকর্ডের সমাপ্তি চিহ্নিত করে এবং সিরিজের সমাপ্তি ঘটায়। দুই দলের মধ্যে এই ম্যাচটি শ্রীলঙ্কার হোম গ্রাউন্ডে দীর্ঘ সময় ধরে চলা অজয় শৃঙ্খলা ভাঙার উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়।
সিরিজের পরবর্তী ম্যাচের সময়সূচি এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে এই জয় ইংল্যান্ডের ওয়ার্ল্ড কাপ প্রস্তুতিতে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে। শ্রীলঙ্কা র্যাঙ্কিংয়ে নেমে যাওয়া তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসবে।



