28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeপ্রযুক্তিগোয়া ও অন্ধ্রপ্রদেশে ১৬ বছরের নিচের শিশুর সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার সীমিত করার...

গোয়া ও অন্ধ্রপ্রদেশে ১৬ বছরের নিচের শিশুর সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার সীমিত করার পরিকল্পনা

গোয়া ও অন্ধ্রপ্রদেশের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়গুলো ১৬ বছরের নিচের শিশুরা সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ নিষেধ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে। এই উদ্যোগের পেছনে অস্ট্রেলিয়ার সমজাতীয় আইনকে মডেল হিসেবে নেওয়া হয়েছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগই মূল চালিকাশক্তি।

পশ্চিম ভারতের গোয়া রাজ্য সর্বশেষ যে রাজ্যটি এই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বিবেচনা করছে, তার আইটি মন্ত্রী রোহন খাউন্টে উল্লেখ করেছেন যে অস্ট্রেলিয়ার ১৬ বছরের নিচের শিশুদের জন্য সামাজিক মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা আরোপের আইনটি তাদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ইতিমধ্যে তাদের বিভাগে পৌঁছে গেছে এবং তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

খাউন্টের মতে, যদি আইনগত ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে সম্ভব হয়, তবে গোয়া সরকার ১৬ বছরের নিচের বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি এ বিষয়ে আরও জানিয়েছেন যে, এই ধরণের নীতি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিধানিক কাঠামো গঠন করা হবে।

দক্ষিণ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশও একই দিকনির্দেশে কাজ করছে। রাজ্যের আইটি ও শিক্ষা মন্ত্রী নর লোকেশ অস্ট্রেলিয়ার আইনকে রেফারেন্স হিসেবে নিয়ে একটি শক্তিশালী আইনগত ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। তিনি সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের পার্শ্ববর্তী সময়ে এই বিষয়টি উত্থাপন করেন।

লোকেশের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, অস্ট্রেলিয়ার উদাহরণ অনুসরণ করে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর বিধান প্রণয়ন করা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে শিশুরা ইন্টারনেটের সঙ্গে খুবই তাড়াতাড়ি পরিচিত হয় এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি জরুরি বিষয়।

অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার ইতিমধ্যে একটি বিশেষ মন্ত্রিসভা গঠন করেছে, যেখানে লোকেশই চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করছেন। এই প্যানেলে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও আইটি বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা আইনগত এবং বাস্তবিক দিক থেকে নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা মূল্যায়ন করবে।

মদ্রাস হাই কোর্টও এই বিষয়টি নিয়ে সক্রিয়ভাবে দৃষ্টিপাত করেছে। ডিসেম্বর মাসে আদালত কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অস্ট্রেলিয়ার মতো নিষেধাজ্ঞা বিবেচনা করার আহ্বান জানায়, যা শিশুরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যে ঝুঁকির মুখে পড়ে তা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

কোর্টের এই সুপারিশের ফলে কেন্দ্রীয় সরকারকে এখনো স্পষ্ট কোনো নীতি ঘোষণা করা হয়নি, তবে বিভিন্ন রাজ্যের উদ্যোগ এবং বিচারিক পর্যালোচনা একত্রে একটি বৃহত্তর নীতি গঠনের ভিত্তি তৈরি করছে।

বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা তীব্রতর হওয়ায় ভারতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো ইতিমধ্যে কঠোর বয়স সীমা আরোপ করেছে, এবং এখন ভারতীয় রাজ্যগুলোও একই রকম পদক্ষেপ নিতে চাইছে।

ভারতের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সংখ্যা এক বিলিয়নেরও বেশি, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই কিশোর-কিশোরী। এই বিশাল ব্যবহারকারী ভিত্তি দেশকে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য একটি মূল বাজারে পরিণত করেছে, তাই কোনো বিধানিক পরিবর্তন তাদের ব্যবসায়িক কৌশলকে সরাসরি প্রভাবিত করবে।

গ্লোবাল টেক দিগগজগুলো ইতিমধ্যে ভারতের বাজারে বড় আকারের বিনিয়োগ করেছে, এবং শিশুদের জন্য সামাজিক মিডিয়া অ্যাক্সেস সীমিত করা তাদের ব্যবহারকারী বৃদ্ধির হারকে ধীর করতে পারে। তবে একই সঙ্গে, এই ধরণের নীতি অনলাইন নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, বয়স ভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত সমাধান নয়, বরং পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিত প্রচেষ্টা দরকার। সঠিক ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং প্যারেন্টাল কন্ট্রোল টুলসের ব্যবহার শিশুরা নিরাপদে অনলাইন জগতে প্রবেশ করতে সহায়তা করবে।

সারসংক্ষেপে, গোয়া ও অন্ধ্রপ্রদেশের এই উদ্যোগগুলো ভারতের ডিজিটাল নীতি গঠনে একটি নতুন দিক নির্দেশ করে। অস্ট্রেলিয়ার মডেলকে অনুসরণ করে বয়স সীমা নির্ধারণের সম্ভাবনা, বিচারিক পর্যালোচনা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা একত্রে ভবিষ্যতে কীভাবে শিশুদের অনলাইন অভিজ্ঞতা গড়ে উঠবে তা নির্ধারণ করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: TechCrunch
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
AI-powered প্রযুক্তি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments