নরসিংদীর মাধবদী থানা ২৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার একটি মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করে, পাঁচজনকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তালিকাভুক্ত করে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ঘটার পর তদন্ত শুরু করে। ঘটনাটি ঘটেছিল নরসিংদীর পিকনিক মাঠ থেকে ফিরে আসার পথে, যেখানে কয়েকজন সাংবাদিক আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং একজন, ফয়েজ আহমেদ, আহত অবস্থায়ই অভিযোগ দায়ের করেন।
মামলায় উল্লেখিত আটজন সন্দেহভাজনের নাম হল আলাল সরকার, বনি মিয়া, হারুন মিয়া, মোহাম্মদ আলী, রিয়াসাদ আলী, মো. শাকিব, রোমান মিয়া এবং মো. মামুন। অপরদিকে, পাঁচজনকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যার সনাক্তকরণ এখনও বাকি।
পুলিশের গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে অভিযানের মাধ্যমে একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা, যা মোট তিনজন গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়। নরসিংদীর পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফারুক জানান, গ্রেপ্তারকৃত তিনজনের পাশাপাশি বাকি সন্দেহভাজনদের ধরার জন্য অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গ্রেপ্তারকৃতদের আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে আনতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাময়িকভাবে, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিআরএ) এই হামলাকে নিন্দা করে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানায়। সংগঠনের সভাপতি মির্জা মেহেদি তমাল উল্লেখ করেন, “আশা করি পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে অপরাধীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।”
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম, র্যাক, পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ফোরাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরামসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনও একই রকম দাবি জানায়। ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “এই ধরনের হামলা সন্ত্রাসীদের বেপরোয়াপনা প্রকাশ করে; দ্রুত দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নিলে সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব।”
প্রতিবাদী সংগঠনগুলো আদালতে মামলার অগ্রগতি এবং সন্দেহভাজনদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য চায়। বর্তমানে, গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকে মাধবদী থানায় হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চালু করা হবে। বাকি সন্দেহভাজনদের ধরার জন্য পুলিশ বিশেষ দল গঠন করে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযানের ফলস্বরূপ, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি, ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যান্য সাক্ষীর বিবরণও নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারী দল বলছে, আক্রমণের পদ্ধতি ও ব্যবহার করা অস্ত্রের ধরন বিশ্লেষণ করে অপরাধীর পরিচয় নির্ধারণে সহায়তা করবে।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, এটাই সকল সাংবাদিক সংগঠনের মূল দাবি। তারা জোর দিয়ে বলছে, যদি এই ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটে, তবে তারা আইনগত ও সামাজিক স্তরে কঠোর প্রতিবাদ জানাবে।
এই মামলায় আদালতের পরবর্তী শুনানির তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুতই শোনানির সময়সূচি প্রকাশের আশায় রয়েছে। আদালতে মামলার অগ্রগতি এবং গ্রেপ্তারকৃতদের রিজার্ভেশন শর্তাবলী সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলে, তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, নরসিংদীর এই হামলা সাংবাদিক স্বাধীনতার ওপর আঘাত স্বরূপ এবং দেশের আইনগত কাঠামোর শক্তি পরীক্ষা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আইন প্রয়োগের স্বচ্ছতা এবং দ্রুততা নিশ্চিত করার জন্য নজরদারি চালিয়ে যাবে।



