মিনিয়াপোলিসে এক আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এজেন্টের গুলিতে আইসিই বিরোধী প্রতিবাদকারী আলেক্স প্রেট্টি নিহত হওয়ার ঘটনা সম্প্রতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে গেছে। আইসিই এজেন্টরা এক নারীকে ধাক্কা দিয়ে গড়িয়ে দেওয়ার পর প্রেট্টি হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে, ফলে তাকে অস্ত্রহীন করে গুলি করে হত্যা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ও বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্সি এজেন্টদের কাজকে সমর্থন করে, তবে ভিডিও প্রমাণ দেখায় যে প্রেট্টি তার অস্ত্র ব্যবহার করার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত দেননি।
দ্য ডেইলি শো’র হোস্ট জন স্টুয়ার্ট এই ঘটনার ওপর তীব্র সমালোচনা প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি আইসিই-র বর্ণনাকে “অবিশ্বাস্য” বলে উল্লেখ করেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে গুলিবিদ্ধের কারণকে গুলির ওপর দোষারোপ করা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। স্টুয়ার্টের সঙ্গে জিমি কিমেল ও স্টিফেন কোলবারের মতো অন্যান্য লেট-নাইট হোস্টও ঘটনাটিকে নিয়ে আলোচনা করেন, এবং আইসিই-র পক্ষে থাকা কর্মকর্তাদের বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করেন।
প্রেট্টি, যিনি আইসিই উপস্থিতি বিরোধে প্রতিবাদে অংশ নিতে গিয়ে একটি বন্দুক ও অতিরিক্ত গুলির ক্যাসেট সঙ্গে এনেছিলেন, আইসিই এজেন্টের একটি নারীর ওপর আক্রমণ থামাতে হস্তক্ষেপ করার সময় গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ভিডিও রেকর্ডিংগুলো দেখায় যে প্রেট্টি কোনোভাবে অস্ত্র বের করে না, বরং এজেন্টদের দ্বারা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তবু বর্ডার প্যাট্রোলের কমান্ডার গ্রেগ বোভিনো, যিনি এ ঘটনার পক্ষে কথা বলেছেন, প্রেট্টির কাজকে “হুমকি” হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। স্টুয়ার্ট বোভিনোকে “ট্রাম্পের সিনেমাটিক ইউনিভার্সের নতুন চরিত্র” বলে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন এবং তার উপস্থিতি ও বক্তব্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ও বর্ডার প্যাট্রোলের অফিসিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে প্রেট্টি তার নিজস্ব অস্ত্র বের করে হুমকি সৃষ্টি করেছিলেন, যা তাদের মতে গুলির বৈধতা প্রদান করে। তবে স্বতন্ত্র ভিডিও বিশ্লেষণ ও সিভিল রাইটস সংগঠনের প্রতিবেদনগুলো এই দাবিকে খণ্ডন করে, দেখায় যে প্রেট্টি গুলিবিদ্ধ হওয়ার মুহূর্তে কোনো অস্ত্র ব্যবহার করেননি। এই বৈপরীত্যই স্টুয়ার্টের তীব্র সমালোচনার মূল কারণ, যেখানে তিনি সরকারী বর্ণনার ওপর সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং গুলিবিদ্ধের প্রকৃত কারণকে পুনরায় বিবেচনা করার আহ্বান জানান।
স্টুয়ার্টের মন্তব্যে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে সাম্প্রতিক সময়ে গুলির উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কে গুলি নিয়ে দোষারোপ করা একটি নতুন প্রবণতা হয়ে উঠেছে, এবং এটি প্রেট্টির মৃত্যুর প্রকৃত কারণকে ঢেকে রাখছে। তিনি যুক্তি দেন যে গুলি নিয়ে দোষারোপ করা সমস্যার মূল নয়, বরং আইসিই এজেন্টদের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও গুলিবিদ্ধের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা দরকার।
এই ঘটনার পর আইসিই ও বর্ডার প্যাট্রোলের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে। ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান উভয় পক্ষই আইসিই নীতিমালা ও এজেন্টদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করছেন যে কংগ্রেসে আইসিই তদারকি বাড়ানোর জন্য নতুন আইন প্রণয়নের সম্ভাবনা রয়েছে, এবং এই ঘটনার তদন্তের ফলাফল ভবিষ্যতে আইসিই অপারেশন ও সীমান্ত নিরাপত্তা নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
জন স্টুয়ার্টের তীব্র প্রতিবাদ ও মিডিয়ার ব্যাপক কভারেজের ফলে এই ঘটনা জনমতেও বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারকারীরা আইসিই-র আচরণ ও সরকারী বর্ণনার সঠিকতা নিয়ে তীব্র বিতর্কে লিপ্ত হয়েছে, এবং কিছু গ্রুপ আইসিই-র বিরুদ্ধে প্রতিবাদমূলক র্যালি সংগঠনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
অধিকন্তু, আইসিই-র অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ও গুলিবিদ্ধের প্রোটোকল পুনর্বিবেচনা করার দাবি বাড়ছে। কিছু আইনপ্রণেতা ইতিমধ্যে আইসিই এজেন্টের গুলিবিদ্ধের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বাড়ানোর জন্য বিল প্রস্তাব করেছেন, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সহায়ক হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, মিনিয়াপোলিসে আলেক্স প্রেট্টি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা আইসিই নীতি, সরকারী বর্ণনা এবং মিডিয়া প্রতিক্রিয়ার সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে আছে। জন স্টুয়ার্টের তীব্র সমালোচনা ও ভিডিও প্রমাণের পার্থক্য এই ঘটনাকে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে, যা ভবিষ্যতে আইসিই সংস্কার ও সীমান্ত নিরাপত্তা নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।



