28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারত এ'র নতুন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি প্রভাবিত

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারত এ’র নতুন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি প্রভাবিত

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত এ’র মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি দুই মহাদেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন মোড় দিয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় উভয় পক্ষই পারস্পরিক বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্য প্রকাশ করেছে, যা দুই দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক অগ্রাধিকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতিমধ্যে ২০২৪ সালে ভারত এ’র পণ্য বাণিজ্যে $১৪২.৩ বিলিয়ন (প্রায় £১০৪.০৭ বিলিয়ন) অর্জন করেছে, যা ভারত এ’র মোট বাণিজ্যের ১১.৫% গঠন করে। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারত এ ইউরোপীয় ইউনিয়নের নয় নম্বর বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার।

বাণিজ্য আলোচনাগুলি দুই দশকের বেশি সময় ধরে স্থবির অবস্থায় ছিল, তবে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতির অস্থিরতা এই স্থবিরতা ভাঙতে সহায়তা করেছে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে প্রভাবিত করেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে ট্যারিফকে দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, এবং কখনো কখনো এমন দেশগুলোর ওপর শাস্তিমূলক ট্যারিফ আরোপ করা হয়েছে যাদের নীতি তার দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারত এ’র পণ্যের ওপর ৫০% ট্যারিফ আরোপ করেছে, যার মধ্যে ২৫% শাস্তি ভারত এ’র রাশিয়া থেকে তেল ক্রয় বন্ধ না করার জন্য।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু সদস্য রাষ্ট্রও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্যারিফ হুমকির মুখে পড়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ডের সম্ভাব্য অধিগ্রহণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়। যদিও পরে হুমকি প্রত্যাহার করা হয়, তবুও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে উদ্বেগের স্রোত তৈরি হয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারত এ একা নয়, অন্যান্য দেশও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চয়তার মুখে তাদের বাণিজ্যিক কৌশল পুনর্বিবেচনা করছে। দিল্লিতে স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) এই প্রবণতার অংশ, যেখানে বহু দেশ একসঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করে বৈশ্বিক অস্থিরতার মোকাবিলা করছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ভারত এ চুক্তি, ভারত এ’র সাম্প্রতিক সাতটি বাণিজ্যিক চুক্তির মধ্যে সপ্তম, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্প্রতি দক্ষিণ আমেরিকান বাণিজ্য গোষ্ঠী মেরকোসুরের সঙ্গে ২৫ বছরের আলোচনার পর চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতি এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে, যদিও এখন ইউরোপে আইনি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে পোস্ট-যুদ্ধ আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার সম্ভাব্য ভাঙ্গনের সতর্কতা দিয়েছেন, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের জন্য ভ্রমণ করেন। এই পদক্ষেপ বাণিজ্যিক সংযোগ বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে, তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১০০% ট্যারিফ হুমকি এই উদ্যোগকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

চুক্তির বাস্তবায়ন পরবর্তী পর্যায়ে উভয় পক্ষই নিয়মাবলী চূড়ান্ত করা এবং পণ্য প্রবাহ সহজতর করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বিশ্লেষকরা ভবিষ্যতে এই চুক্তি ভারত এ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্যিক ভারসাম্যকে শক্তিশালী করবে এবং অন্যান্য দেশকে অনুরূপ চুক্তি অনুসরণে প্রেরণা দেবে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছেন।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments