২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত হওয়ায় জামায়াত-এ-ইসলামি নির্বাচনী পরিকল্পনা স্পষ্ট হয়েছে। দলটি এখন ১৬২টি নির্দিষ্ট আসনে জয় নিশ্চিত করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার প্রায় বিশটি আসনে অতিরিক্ত গুরুত্ব আরোপ করছে।
পূর্বে জামায়াত-এ-ইসলামি সীমান্তবর্তী ইসলামপন্থী দল হিসেবে বিবেচিত হতো, তবে এখন তা পরিবর্তিত হয়ে কৌশলগতভাবে শক্তি কেন্দ্রীভূত করা হচ্ছে। বিস্তৃত জায়গায় প্রচার না করে, সীমিত সংখ্যক আসনে সম্পদ ও কর্মী সংহত করা হচ্ছে।
দলটি ১৬২টি আসনকে অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং বাকি ১৩৮টি আসন থেকে মানবসম্পদ, অর্থ ও সংগঠনগত কার্যক্রম প্রত্যাহার করেছে। এই পদ্ধতিকে অভ্যন্তরীণভাবে ‘বুদ্ধিদীপ্ত সংহতি’ বলা হয়।
ঢাকার রাজনৈতিক গুরুত্ব, মিডিয়ার উচ্চ দৃশ্যমানতা এবং জাতীয় নীতিনির্ধারণে প্রভাবের কারণে জামায়াত-এ-ইসলামি ঢাকার প্রায় ২০টি আসনে অতিরিক্ত প্রচেষ্টা দিচ্ছে। এই এলাকায় জয় অর্জন হলে সামগ্রিক ফলাফলে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে।
প্রচারণার মূলধারা বক্তৃতা বা স্লোগানের বদলে কৌশলগত ব্যবস্থাপনা। মাঠে সংগঠিত কাজকে ‘বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া’ হিসেবে চালু করা হয়েছে, যেখানে ডেটা বিশ্লেষণ ও লক্ষ্যভিত্তিক পরিকল্পনা প্রধান ভূমিকা পালন করে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে পোস্টাল ভোটিং চালু করা হয়েছে। প্রায় পনেরো লক্ষের বেশি প্রবাসী ভোটারকে ডাকযোগে ভোট দিতে সংগঠিত করা হচ্ছে, যা বিদেশে বসবাসকারী সমর্থকদের ভোট নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখে।
দেশীয় ভোটারদের ক্ষেত্রেও আগাম সনাক্তকরণ করা হয়েছে। ভোটার তালিকায় সম্ভাব্য সমর্থকদের চিহ্নিত করে তাদের কাছে সময়মতো যোগাযোগ করা হচ্ছে, যাতে ভোটের দিন দ্রুত সমাবেশ নিশ্চিত হয়।
মাঠে সক্রিয়তা বাড়াতে, ফজরের নামাজের পরপরই স্বেচ্ছাসেবকরা ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে ভোটারদের লাইনে সাজিয়ে তুলতে পারে। এই পদ্ধতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সফলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং এখন জাতীয় পর্যায়ে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
আর্থিক দিক থেকে জামায়াত-এ-ইসলামি আত্মবিশ্বাসী। অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১৬২ থেকে ১৮৮টি আসনের প্রত্যেকটিতে ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই ব্যয় কৌশলগতভাবে নির্বাচনী প্রচার, ভোটার সংযোগ এবং পোস্টাল ভোটিং পরিচালনায় ব্যবহার হবে।
মিত্র দল জাতীয় নাগরিক দল (NCP) সহ অন্যান্য সহযোগী দলের প্রচারণা ব্যয়ও জামায়াত-এ-ইসলামি বহন করছে। এই সমন্বয়মূলক আর্থিক সহায়তা মিত্রদের নির্বাচনী উপস্থিতি শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
গ্রাম ও নগর স্তরে জামায়াত-এ-ইসলামি কর্মীরা দরিদ্র ভোটারদের জন্য মৌলিক সহায়তা প্রদান করে সমর্থন বাড়াচ্ছে। এই ধরনের তৃণমূল কার্যক্রম ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে নির্বাচনী ভিত্তি দৃঢ় করে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতিবিধি ঘনিষ্ঠভাবে ভারতের নজরে রয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা জামায়াত-এ-ইসলামির নির্বাচনী উত্থানকে প্রতিবেশী দেশের জন্য সম্ভাব্য প্রভাবের দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে। দলটির লক্ষ্যভিত্তিক কৌশল এবং আর্থিক সক্ষমতা ভবিষ্যতে দু’দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারিত হলে তা পরিষ্কার হবে।



