বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের ধান শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ ২৭ জানুয়ারি চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের খিলছাদক এলাকায় নির্বাচনী র্যালিতে নিজের মন্ত্রীকালীন কাজের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মন্ত্রী থাকাকালীন নিজের অর্থে জমি কিনে কৃষকদের চাষাবাদ নিশ্চিত করতে একটি খাল কেটেছিলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ঐ খালটি মূলত কৃষি সেচের জন্য তৈরি করা হয়েছিল এবং এর ফলে এলাকার ফসল উৎপাদন বাড়ে, পাশাপাশি নদীর ধস থেকে ঘরবাড়ি রক্ষা পায়। তবে পরবর্তীতে বিরোধী দল তাকে মাছ চাষের উদ্দেশ্যে খাল কেটার অভিযোগে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করে, যার ফলে তিনি জেলবন্দি হন।
অভিযুক্তির পর জেলবন্দি হওয়া সত্ত্বেও তিনি জেলখানা থেকে মুক্তি পেতে না পারার কথা উল্লেখ করে বলেন, “এতে আমার কোনো আফসোস নেই, কারণ কৃষকদের চাষাবাদ নিশ্চিত হয়েছে এবং বাড়িগুলো নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা পেয়েছে।”
র্যালি অনুষ্ঠিত হয় চকরিয়া-১ ধান শীষের নির্বাচনী এলাকার খিলছাদক গ্রামে, যেখানে উপস্থিত ভোটারদের সামনে তিনি উন্নয়নকে গণতন্ত্রের শক্তি হিসেবে তুলে ধরে ভোটের আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “জনগণের ভাগ্য উন্নয়ন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রত্যাশা পূরণে ধান শীষে ভোট দিতে হবে।”
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও উল্লেখ করেন, “বিএনপি যদি নির্বাচনে জয়লাভ করে, তবে দেশের মানুষের স্বার্থে পরিকল্পনা ও রাষ্ট্রভাবনা বাস্তবায়িত হবে।” তিনি বিএনপিকে দেশের মানুষের রাজনৈতিক দল হিসেবে উপস্থাপন করে, তার সব পরিকল্পনা ও নীতি জনগণের মঙ্গলের দিকে কেন্দ্রীভূত বলে দাবি করেন।
প্রার্থী সকলকে আহ্বান জানান, “আসুন সবাই মিলে সারা দেশে ধান শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচিত করি।” তিনি যুক্তি দেন, ক্ষমতায় আসলে বিএনপি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যা শহীদদের স্বপ্ন ও দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ চকরিয়া-পেকুয়া আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য ছিলেন এবং তার স্ত্রী হাসিনা আহমদও একবার সংসদ সদস্যের পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। এই নির্বাচনে তিনি তিনজন প্রার্থীর মধ্যে একজন, অন্য দুইজন হলেন জামায়াত-এ-ইসলামির প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ছরওয়ার আলম কুতুবী।
প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোরও নিজস্ব ভোটার ভিত্তি রয়েছে; জামায়াত-এ-ইসলামি ও ইসলামী আন্দোলন উভয়ই ধর্মীয় ও সামাজিক বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রচার চালাচ্ছে। তবে সালাহউদ্দিন আহমদের র্যালিতে তিনি কৃষকদের সরাসরি উপকারের উদাহরণ দিয়ে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করেন।
এই নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রার্থীরা একে অপরের নীতি ও কর্মের তুলনা করে। বিশেষ করে কক্সবাজারের ধান শীষে ভোটের প্রবাহ কীভাবে গঠিত হবে, তা ভবিষ্যৎ সরকারের গঠনকে প্রভাবিত করবে।
বিএনপি যদি এই আসনে জয়লাভ করে, তবে সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, তিনি এবং তার দল কৃষি উন্নয়ন, নদী সুরক্ষা এবং গ্রামীণ অবকাঠামোকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করা আমাদের সর্বোচ্চ লক্ষ্য, এবং তা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ভিত্তি।”
অন্যদিকে, জামায়াত-এ-ইসলামি ও ইসলামী আন্দোলন তাদের নিজস্ব নীতি ও প্রোগ্রাম উপস্থাপন করে, যা ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে কেন্দ্র করে। উভয় দলই বলছে, তাদের অংশগ্রহণ দেশের রাজনৈতিক বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করবে।
নির্বাচনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। সকল প্রার্থী ভোটারদের কাছ থেকে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত ভোটের আহ্বান জানিয়ে, ফলাফলের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ র্যালিতে শেষ করে বলেন, “যদি আমরা একসাথে ধান শীষে ভোট দিই, তবে দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্রের শক্তি এবং শহীদদের স্বপ্ন পূরণে আমরা একসাথে কাজ করতে পারব।” তার এই বক্তব্য নির্বাচনী প্রচারের শেষ পর্যায়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখে।



