চীন সরকারের সমর্থিত হ্যাকার দলগুলো বহু বছর ধরে ব্রিটিশ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মোবাইল ডিভাইসে অনুপ্রবেশের অভিযোগ উঠে এসেছে। দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সাইবার অপারেশনটি ২০২১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত চলেছে এবং এর কোডনেম “সল্ট টাইফুন”।
প্রতিবেদনের মতে, হ্যাকিংয়ের লক্ষ্য ছিল ডাউনিং স্ট্রিটের নিকটবর্তী সহায়ক কর্মীদের ফোন, যাদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, লিজ ট্রাস এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী রিশি সুনাকের ঘনিষ্ঠ সহকারীরা অন্তর্ভুক্ত। এই ব্যক্তিরা নীতি-নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, ফলে তাদের যোগাযোগের গোপনীয়তা ভঙ্গের ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে।
হ্যাকিংয়ের সুনির্দিষ্ট পরিধি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না থাকলেও, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে সাইবার আক্রমণ ডাউনিং স্ট্রিটের কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছেছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব ফোনে হ্যাকিং ঘটেছে কিনা তা নিশ্চিত করা যায়নি।
এই প্রকাশের সময়ে, বর্তমান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার চীন সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি এই সপ্তাহে চীন ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছেন, যা ২০১৮ সালের পর প্রথমবারের মতো কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর হবে। সফরের সময় এই সাইবার হুমকি আলোচনার বিষয় হতে পারে।
ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৫ গত নভেম্বর পার্লামেন্টে চীন সরকারের গোয়েন্দা কার্যকলাপের সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে সতর্কবার্তা জারি করেছিল। সেই সময়ে চীন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
চীন সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন পরে একটি বিবৃতি দিয়ে হ্যাকিং কার্যক্রমের বিরোধিতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, চীন আইন অনুযায়ী অবৈধ হ্যাকিংকে কঠোরভাবে নিন্দা করে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধেও দৃঢ় অবস্থান নেয়।
ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ডিভাইসের নিরাপত্তা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে, ডাউনিং স্ট্রিটের আইটি বিভাগকে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চীন সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না থাকলেও, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এই ঘটনার ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর চাপ বাড়তে পারে বলে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে, কিয়ার স্টারমার যখন চীন সফরে যান, তখন সাইবার নিরাপত্তা বিষয়টি আলোচনার অগ্রভাগে থাকতে পারে।
ব্রিটিশ সরকার এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা ফোরামে বিষয়টি উত্থাপন করার ইঙ্গিত দিয়েছে, যাতে চীন সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে হ্যাকিং প্রতিরোধে সমন্বয় করা যায়। তবে চীন সরকার এখনও এই বিষয়ে কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করেনি।
এই সাইবার হামলার প্রকাশের ফলে ব্রিটিশ রাজনৈতিক পরিবেশে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনার তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পার্লামেন্টে সংশ্লিষ্ট কমিটি দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে এবং হ্যাকিংয়ের শিকারদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আইনসভার সমর্থন চেয়েছে।
অবশেষে, কিয়ার স্টারমার চীন সফরের সময় এই বিষয়টি কূটনৈতিক আলোচনার অংশ হতে পারে, যা দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও জোরালো হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



