23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাবেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান ও সহকারী প্রধানের নিয়োগ ও এমপিও শিক্ষকের বদলি নীতি...

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান ও সহকারী প্রধানের নিয়োগ ও এমপিও শিক্ষকের বদলি নীতি এনটিআরসিএর মাধ্যমে

বেসরকারি স্কুল ও কলেজে প্রধান, উপ‑প্রধান, প্রধান শিক্ষক, সহ‑প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহ‑সুপার পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া এখন বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) পরিচালনা করবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ মঙ্গলবার প্রকাশিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে জানায়। একই সঙ্গে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এমপিও (মিডিয়াম পে‑অফ) অন্তর্ভুক্ত শিক্ষকদের বদলির সুযোগও এনটিআরসিএর স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে সহজ করা হবে।

এই নীতিমালা ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য বদলি নীতিমালা, ২০২৬’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে। নীতির মূল উদ্দেশ্য হল শিক্ষক‑শিক্ষিকাদের ক্যারিয়ার গঠনে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনা, যাতে তারা প্রয়োজনীয় সময়ে নতুন কর্মস্থলে স্থানান্তরিত হতে পারে।

নিয়োগের ক্ষেত্রে, এনটিআরসিএকে এখন প্রধান ও সহ‑প্রধান পদে প্রার্থীদের নির্বাচন ও অনুমোদনের সম্পূর্ণ অধিকার প্রদান করা হয়েছে। পূর্বে এই পদগুলোর জন্য পৃথক অনুমোদন প্রক্রিয়া ছিল, তবে এখন একক সংস্থার মাধ্যমে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ফলে আবেদন থেকে অনুমোদন পর্যন্ত সময়সীমা কমে যাবে এবং প্রার্থীদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ হবে।

বদলি নীতির অধীনে, একজন শিক্ষক তার কর্মজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলির আবেদন করতে পারবেন। প্রথম বদলি করার যোগ্যতা অর্জন করতে হলে বর্তমান কর্মস্থলে অন্তত দুই বছর পূর্ণ করতে হবে। বদলি অনুমোদিত হলে, নতুন কর্মস্থলে অন্তত দুই বছর কাজ করার পরই পরবর্তী বদলির জন্য আবেদন করা যাবে। এই চক্রটি তিনবার পর্যন্ত পুনরাবৃত্তি করা যাবে, যা শিক্ষকদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা ও পারিবারিক প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সহায়তা করবে।

বদলি প্রক্রিয়া শুরু হয় যখন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর নির্দিষ্ট সময়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শূন্যপদের তালিকা প্রকাশ করে। শূন্যপদ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বদলির আবেদন আহ্বান করে। আবেদনকারী শিক্ষক‑শিক্ষিকা প্রথমে নিজের জেলায় শূন্যপদের জন্য আবেদন করবে; যদি সেখানে কোনো পদ খালি না থাকে, তবে একই বিভাগের অন্য কোনো জেলায় উপলব্ধ শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন করতে পারবে।

অতিরিক্তভাবে, শিক্ষক‑শিক্ষিকারা স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলে বদলির আবেদন করতে পারবেন, যা পারিবারিক একত্রে কাজের সুবিধা প্রদান করে। তবে এই সুবিধা ব্যবহার করতে হলে, আবেদনকারীকে প্রথম যোগদানের দুই বছর পূর্ণ করতে হবে এবং বদলি হওয়া নতুন কর্মস্থলে অন্তত দুই বছর কাজ করতে হবে।

বদলি নীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন গ্রহণের সময়সীমা ও বদলি আদেশ জারির প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে নির্ধারিত। সরকারী প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন গ্রহণ, আদেশ জারি এবং নতুন কর্মস্থলে যোগদানের কাজ সম্পন্ন হবে। ফলে আবেদনকারীকে অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে এবং কর্মস্থল পরিবর্তনের প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে।

এই নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য এনটিআরসিএ একটি স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার সিস্টেম চালু করেছে, যা অনলাইন আবেদন, শূন্যপদ প্রকাশ, আবেদন যাচাই ও বদলি আদেশ জারির সব ধাপকে একত্রিত করে। সিস্টেমটি শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্য, কর্মস্থল ইতিহাস এবং বদলি যোগ্যতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করে, ফলে মানবিক ত্রুটি কমে এবং প্রক্রিয়া দ্রুত হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপের পেছনে লক্ষ্য হল বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুণগত মান উন্নয়ন এবং শিক্ষক‑শিক্ষিকাদের ক্যারিয়ার বিকাশে সমান সুযোগ প্রদান। এখন থেকে প্রধান ও সহ‑প্রধান পদে নিয়োগের জন্য আবেদনকারীকে এনটিআরসিএর নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে চলতে হবে, আর বদলি নীতির মাধ্যমে শিক্ষকরা তাদের পেশাগত ও পারিবারিক চাহিদা অনুযায়ী কর্মস্থল পরিবর্তন করতে পারবে।

প্রয়োগের প্রথম পর্যায়ে, শিক্ষক‑শিক্ষিকারা অনলাইন পোর্টাল থেকে শূন্যপদের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করে আবেদন জমা দিতে পারবেন। আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে, এনটিআরসিএ সংশ্লিষ্ট বিভাগকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিজ্ঞপ্তি পাঠাবে এবং বদলি আদেশ জারি হবে। নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর, শিক্ষক‑শিক্ষিকাকে দুই বছর পরবর্তী বদলির জন্য পুনরায় আবেদন করতে হবে, যতক্ষণ না তিনটি বদলি সম্পন্ন হয়।

শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের জন্য এই নীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা, কারণ এটি তাদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা সহজ করে এবং পারিবারিক সমন্বয়কে সমর্থন করে। তবে নীতির সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষকদের সময়মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন ও শূন্যপদের তথ্য পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

**ব্যবহারিক টিপ:** বদলি আবেদন করার আগে আপনার বর্তমান কর্মস্থলে সেবা সম্পন্ন হওয়া দুই বছরের শর্ত পূরণ হয়েছে কিনা নিশ্চিত করুন, এবং আপনার জেলায় অথবা সংশ্লিষ্ট বিভাগের অন্য জেলায় শূন্যপদের তালিকা নিয়মিত চেক করুন। শূন্যপদ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত আবেদন করলে বদলির সম্ভাবনা বাড়ে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments