২০২৬ সালের ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা তিনটি দেশ ভাগাভাগি করবে। এই সিদ্ধান্তের পর থেকে টুর্নামেন্টের নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হোস্ট দেশের নীতি নিয়ে বিতর্ক তীব্রতর হয়েছে।
সাবেক ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটার সম্প্রতি এক প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বয়কটের আহ্বান জানিয়ে, দেশের রাজনৈতিক ও অভিবাসন নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে গৃহীত কঠোর পদক্ষেপকে সমালোচনা করে, ভক্তদেরকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন।
সপ্তাহের শুরুতে সুইস আইনজীবী ও দুর্নীতিবিরোধী বিশেষজ্ঞ মার্ক পিয়েথ, সুইজারল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ‘দার বান্ড’কে এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের সমর্থক হিসেবে উপস্থিত হওয়া অনুচিত বলে উল্লেখ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক বিরোধী গোষ্ঠীর প্রতি দমন ও অভিবাসন সংস্থার কঠোরতা পর্যবেক্ষণ করেছেন, যা ভ্রমণকারীদের জন্য ঝুঁকি বাড়ায়।
মার্ক পিয়েথের মতে, দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক বিরোধী গোষ্ঠীর ওপর চাপ এবং অভিবাসন সংস্থার কঠোর নীতি সাধারণ নাগরিকের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের পরিবেশে ভক্তদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ম্যাচ দেখা নিরাপদ নয় এবং তাদের জন্য সর্বোত্তম বিকল্প হবে টেলিভিশনের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার দেখা।
অধিকন্তু, পিয়েথ জোর দিয়ে বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর যদি কর্তৃপক্ষের সন্তোষ না হয়, তবে দ্রুতই দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে। তিনি এই সম্ভাবনাকে উল্লেখ করে, ভক্তদেরকে সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে আহ্বান জানান।
সেপ ব্লাটার এই মন্তব্যের পর এক্সে (পূর্বের টুইটার) একটি পোস্টে তার সমর্থন প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ভক্তদের জন্য একমাত্র পরামর্শ হল যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরত্ব বজায় রাখা এবং মার্ক পিয়েথের উদ্বেগকে যুক্তিসঙ্গত হিসেবে স্বীকার করা। ব্লাটার এই অবস্থানকে আন্তর্জাতিক ফুটবল সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ব্লাটারের মন্তব্যের পেছনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে গৃহীত কঠোর অভিবাসন নীতি ও রাজনৈতিক বিরোধী গোষ্ঠীর ওপর দমনমূলক পদক্ষেপের সমালোচনা রয়েছে। এই নীতিগুলি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে এবং বিশ্বকাপের হোস্ট দেশের নির্বাচনে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
মার্ক পিয়েথ, যিনি আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার সঙ্গে কাজ করেন, তার বিশ্লেষণকে অনেক বিশেষজ্ঞ সমর্থন করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে চলমান নীতি পরিবর্তনগুলোকে ভক্তদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে উল্লেখ করেন।
এ পর্যন্ত মার্কিন সরকার (মার্কিন সরকার) থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার গোষ্ঠী এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভক্তদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশনা প্রকাশের আহ্বান জানাচ্ছে।
ফিফা এখনও হোস্ট দেশ পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি, তবে বয়কটের আহ্বান ও নিরাপত্তা উদ্বেগের ফলে টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি ও ভক্তদের অংশগ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে পুনর্বিবেচনা হতে পারে। এই পরিস্থিতি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ ২০ জুনে যুক্তরাষ্ট্রের মেট্রোড্রাম স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। ভক্তদের জন্য এখনো সময় আছে, তবে পিয়েথ ও ব্লাটারের মতামত অনুসারে, টেলিভিশন বা অনলাইন স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে ম্যাচ উপভোগ করা নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



