স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো যৌথভাবে আয়োজন করা ২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ স্পেনেই অনুষ্ঠিত হবে, তা স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রাফায়েল লুসান সম্প্রতি জানিয়েছেন। লুসান সোমবার রাতে মাদ্রিদ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন আয়োজন করা এক অনুষ্ঠানে এই তথ্য প্রকাশ করেন।
লুসান উল্লেখ করেন, স্পেনের ভূমিকা এই টুর্নামেন্টে নেতৃত্বের হবে এবং ফাইনাল ম্যাচটি এখানেই হবে। তবে তিনি এখনও নির্দিষ্ট কোনো শহর বা স্টেডিয়ামের নাম প্রকাশ করেননি, ফলে ভেন্যু নির্বাচনের চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
ফাইনাল ভেন্যু নির্ধারণের শেষ সিদ্ধান্তের অধিকার ফিফার, যা বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ নিয়ন্ত্রক সংস্থা, তার হাতে রয়েছে। ফিফা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো স্টেডিয়ামকে চূড়ান্ত ভেন্যু হিসেবে ঘোষণা করেনি।
স্প্যানিশ মিডিয়া দীর্ঘদিন ধরে রিয়াল মাদ্রিদের সংস্কারকৃত সান্তিয়াগো বের্নাবেউ স্টেডিয়ামকে প্রধান ভেন্যু হিসেবে সমর্থন করে আসছে। রিয়াল মাদ্রিদের ঐতিহাসিক গৃহস্থ স্টেডিয়ামটি আধুনিকায়নের পর আন্তর্জাতিক মানের বড় ইভেন্টের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।
সান্তিয়াগো বের্নাবেউ স্টেডিয়ামের সাম্প্রতিক সংস্কার কাজের ফলে সিটের সংখ্যা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মানের মানদণ্ডে পৌঁছেছে। স্টেডিয়ামের অবকাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দর্শক সেবা সবই সর্বোচ্চ মানে আপডেট করা হয়েছে, যা ফাইনাল ম্যাচের আয়োজনের জন্য উপযুক্ত প্রমাণিত হতে পারে।
অন্যদিকে, বার্সেলোনার কাম্প নউ স্টেডিয়ামও ফাইনাল ভেন্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার শেষে স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা প্রায় এক লাখ পাঁচ হাজার দর্শকের সমান, যা ইউরোপের মধ্যে সর্বোচ্চ ক্ষমতা হিসেবে গর্বিত।
কাম্প নউ নভেম্বর মাসে সীমিত দর্শকসহ পুনরায় খোলা হলেও, সম্পূর্ণ রূপে প্রস্তুত হলে এটি ফাইনালের বড় দাবিদার হয়ে উঠতে পারে। স্টেডিয়ামের আধুনিকায়ন কাজের মধ্যে সিটের পুনর্নির্মাণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং মিডিয়া সুবিধা অন্তর্ভুক্ত, যা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের চাহিদা পূরণে সক্ষম।
মরক্কোও পূর্বে ফাইনাল ভেন্যু হিসেবে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। তবে চলতি মাসে মরক্কোতে অনুষ্ঠিত আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের ফাইনালে বিশৃঙ্খলার পরিণতি হিসেবে দেশের সম্ভাবনা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনা মরক্কোর ভেন্যু প্রস্তাবের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে ২০৩০ আসরের একটি করে ম্যাচ উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে আয়োজন করবে। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ উরুগুয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তাই এই দেশগুলোকে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৬ বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে, যা পূর্বের টুর্নামেন্টের তুলনায় বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতা নির্দেশ করে। এই তথ্যগুলো ২০৩০ টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সারসংক্ষেপে, স্পেনের ফাইনাল ভেন্যু এখনও চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত না হলেও, রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার স্টেডিয়ামগুলোই প্রধান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। ফিফা শেষ সিদ্ধান্ত নেবে, এবং তা বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক চিহ্নিত করবে।



