সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় মঙ্গলবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সভায় ১১‑দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, নির্বাচিত হলে পুলিশকে কোনো ঘরে অনুমতি ছাড়া প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া হবে বলে স্পষ্ট বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, “ইনশা আল্লাহ আমি যদি নির্বাচিত হই, এই দুই উপজেলায় (গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার) পুলিশ আমাকে জিজ্ঞেস না করে কারও বাড়িতে যেতে পারবে না।” এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি প্রমাণের প্রয়োজনীয়তা ও দারোগা সাহেবের অনধিকৃত হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেন।
সভা অনুষ্ঠিত হয় গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ বহুমুখী স্কুল‑সংলগ্ন মাঠে, যেখানে স্থানীয় ভোটার ও সমর্থকরা সমাবেশে অংশ নেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, যিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১‑দলীয় ঐক্যের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখ করেন।
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের মন্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “যাঁর বাড়িতে যাচ্ছে, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আছে, এই প্রমাণ না দেখিয়ে কোনো দারোগা সাহেব তাঁর বাড়িতে যাবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা সিলেটের মানুষেরা, আত্মসম্মানবোধ আমাদের রয়েছে। কারও বাড়িতে পুলিশ যাওয়া মানে তাঁর চৌদ্দ পুরুষের, তাঁর বংশের কপালে তিলক লাগানোর নামান্তর।” এসব কথা স্থানীয় জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থার প্রতি উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটায়।
মামুনুল হক তার ভাষণে ১১‑দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বিজয়ী জোটকে রাষ্ট্রক্ষমতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা তুলে ধরে, পাশাপাশি সিলেটের উন্নয়নের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনার কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, “বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আমরা রাষ্ট্রক্ষমতায় যাব এবং সিলেটের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করব।” এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে সেলিম উদ্দিনও গৃহস্থালী ও ব্যবসায়িক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ভোটের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
সেলিম উদ্দিনের মতে, নিরাপদ পরিবেশ গড়তে ভোটারদের অবশ্যই দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে হবে। তিনি উদাহরণ স্বরূপ বলেন, “আপনারা যদি ব্যাংক থেকে টাকা উঠিয়ে নিরাপদে বাড়িতে যেতে চান, তাহলে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবেন। তা না হলে ব্যাংক থেকে টাকা উঠিয়ে বাড়িতে যেতে পারবেন না। এমনকি মাছের বাজার করে মাছের ব্যাগ নিয়ে বাড়িতে যেতে পারবেন না।” তার এই বক্তব্য ভোটারদের সরাসরি নিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভোটের গুরুত্বকে পুনর্ব্যক্ত করে।
প্রার্থী আরও উল্লেখ করেন, “আমাদের মা‑বোনদের ইজ্জতকে হেফাজত করার জন্য, আমাদের হোটেল, দোকানদার, আমাদের ব্যবসায়ীদের ব্যবসা নিরাপদ রাখার জন্য দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে হবে।” তিনি স্থানীয় ব্যবসা‑দোকানদারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশের অনধিকৃত হস্তক্ষেপ বন্ধ করার আহ্বান জানান।
সেলিম উদ্দিনের ভাষণে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার প্রতি তীব্র সমালোচনা দেখা যায়। তিনি বলেন, “কী রাজনীতি, ধিক্কার এই রাজনীতির প্রতি। কেউ বাড়ি বানাচ্ছে, তোমাকে চান্দা দিতে হবে। কেউ দোকান তৈরি করছে, তুমি রাজনীতির নোংরা কিট, তোমাকে চান্দা দিতে হবে।” এভাবে তিনি রাজনৈতিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের ইঙ্গিত দেন।
অধিকন্তু, তিনি রাস্তায় চলাচল ও পেট্রলপাম্পের মতো মৌলিক সেবার ক্ষেত্রেও নাগরিকের স্বার্থ রক্ষার দাবি করেন, যদিও পুরো বাক্যটি সম্পূর্ণভাবে প্রকাশিত হয়নি। তার এই মন্তব্যগুলো ভোটারদের মধ্যে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে।
সিলেট-৬ আসনের এই নির্বাচনী সভা, ১১‑দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতার উপস্থিতিতে, স্থানীয় ভোটারদের নিরাপত্তা, শাসনব্যবস্থা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর প্রদান করেছে। নির্বাচনের আগে এই ধরনের প্রকাশ্য বক্তব্যগুলো ভোটারদের মনোভাব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।



