বাংলাদেশ বিমান বাহিনী (বিএএফ) এবং চীনের ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ কর্পোরেশন (সিইটিসি) ইন্টারন্যাশনাল আজ সরকার‑থেকে‑সরকার চুক্তি স্বাক্ষর করে দেশের মাটিতে অমানবিক বিমান (ইউএভি) উৎপাদন ও সমাবেশ কারখানা গড়ার পরিকল্পনা জানিয়েছে। স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি বিএএফ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তির অধীনে দু’পক্ষ একসাথে আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ইউএভি উৎপাদন সুবিধা গড়ে তুলবে, যার মধ্যে প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি, শিল্প প্রশিক্ষণ এবং যৌথ প্রযুক্তিগত সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত। এই উদ্যোগের লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় ইউএভি উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা।
প্রাথমিক পর্যায়ে বিএএফকে মধ্যম উচ্চতা ও দীর্ঘ সময়কালীন উড়ান সক্ষমতা সম্পন্ন ইউএভি এবং উল্লম্ব উড্ডয়ন ও অবতরণ (ভিটিএল) ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন তৈরি ও সমাবেশের সক্ষমতা প্রদান করা হবে। ভবিষ্যতে নিজস্ব ডিজাইন ও উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে সামরিক, মানবিক ও দুর্যোগ মোকাবেলায় ব্যবহারযোগ্য ড্রোন তৈরি করা হবে।
বিএএফের বিবৃতি অনুযায়ী, এই চুক্তি দেশীয় ইউএভি উৎপাদনের সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সহায়তা করবে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদা উভয়ই পূরণ করবে। একই সঙ্গে, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, জ্ঞান বিনিময় এবং দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এয়ারোস্পেস কর্মশক্তির গুণগত মান উন্নত হবে।
চুক্তি স্বাক্ষরের সময় উপস্থিত ছিলেন চীনের বাংলাদেশ দূতায়ে ওয়েন, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এসএম কামরুল হাসান, চিফ অ্যাডভাইজারের অফিসের সচিব সাইফুল্লাহ পন্না, আইন ও সংসদীয় বিষয় বিভাগীয় সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। সিইটিসি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিরা ও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অতিথি এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশীয় ইউএভি শিল্পের দ্রুত বিকাশের ফলে ভবিষ্যতে আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং স্থানীয় উৎপাদন থেকে রপ্তানি সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে। প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে স্থানীয় সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে উঠবে, যা সংশ্লিষ্ট উপকরণ ও সেবা শিল্পের বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।
অধিকন্তু, উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন কর্মী প্রশিক্ষণ ও গবেষণা উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠা এয়ারোস্পেস সেক্টরে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে। আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন সুবিধা গড়ে উঠলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের ইউএভি পণ্যকে প্রতিযোগিতামূলক বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।
তবে, চীনের সঙ্গে প্রযুক্তি অংশীদারিত্বের ফলে নির্দিষ্ট প্রযুক্তি ও উপাদানের ওপর নির্ভরতা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে স্বয়ংসম্পূর্ণতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় গবেষণা ও উন্নয়ন ক্ষমতা শক্তিশালী করা জরুরি।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে শতাধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। উৎপাদন সুবিধার নির্মাণ ও পরিচালনা পর্যায়ে স্থানীয় নির্মাণ, লজিস্টিক্স এবং সাপ্লাই চেইন সেক্টরেও উল্লেখযোগ্য চাহিদা বৃদ্ধি পাবে।
বাজারে ইউএভি প্রযুক্তির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই উদ্যোগটি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে ড্রোন ভিত্তিক কৃষি, পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা সেবা প্রদানকারী কোম্পানিগুলো স্থানীয় উৎপাদিত ড্রোনের সাশ্রয়ী মূল্যে প্রবেশের সম্ভাবনা পাবে।
সামগ্রিকভাবে, বিএএফ ও সিইটিসি ইন্টারন্যাশনালের এই সহযোগিতা দেশের এয়ারোস্পেস শিল্পকে আধুনিকায়ন, রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত স্বনির্ভরতা অর্জনের পথে এগিয়ে নেবে। তবে প্রযুক্তি নির্ভরতা ও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনশীলতা বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য।
**টেকঅ্যাওয়ে:** দেশীয় ইউএভি উৎপাদন অবকাঠামো গড়ে তোলা স্থানীয় শিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়াবে, তবে প্রযুক্তি নির্ভরতা ও বৈশ্বিক জিওপলিটিক্সের প্রভাব নিয়েও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।



