ময়মনসিংহের সার্কিট হাউস ময়দানে মঙ্গলবার বিকেলে অনুষ্ঠিত বিএনপি বিভাগের জনসভায় সভাপতি তারেক রহমান স্বৈরাচারী রেটোরিক ব্যবহারকারী একটি রাজনৈতিক দলকে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এমন দল স্বৈরাচারের মুখের ভাষা ব্যবহার করে বিএনপির বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাচ্ছে।
বিএনপি জনসভায় তারেক রহমান বিকেল ৩:৫০ টায় ঢাকা থেকে সড়কপথে এসে উপস্থিত হন। মঞ্চে ওঠার আগে তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যুদ্ধের শহীদ ও আহত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাৎকারের পরে তিনি উপস্থিত নেতা‑কর্মী ও সমর্থকদের স্বাগত জানিয়ে মঞ্চে পদার্পণ করেন।
তারেকের সঙ্গে তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। তিনি ৪:২৬ টায় তার বক্তৃতা শুরু করেন এবং মূলত রাজনৈতিক ভাষা ও দায়িত্বের বিষয় তুলে ধরেন। বক্তৃতার সময় তিনি কোনো দলের নাম না উল্লেখ করে সরাসরি সমালোচনা করেন।
তাঁর প্রধান অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, কিছু দল স্বৈরাচারের মুখের ভাষা ব্যবহার করে বিএনপির দুর্নীতির অভিযোগ তুলছে, যদিও ২০০১‑২০০৬ সালের চারদলীয় জোট সরকারে তাদের নিজস্ব দুইজন সদস্য ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াত-এ-ইসলামির দুজন মন্ত্রী সেই সময়ে সরকারে ছিলেন এবং পদত্যাগ করেননি।
তারা কেন পদত্যাগ করেনি, তা তিনি খালেদা জিয়ার কঠোর দুর্নীতি দমন নীতির সঙ্গে যুক্ত করেন। তার মতে, খালেদা জিয়া সরকারে দুর্নীতির করাল গ্রাস কমাতে আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানের সমর্থন পেয়েছে। তাই জামায়াত-এ-ইসলামির মন্ত্রীরা সরকারে থেকে এই নীতি কার্যকর হতে দেখেছেন।
তারা যখন অন্য দলকে দুর্নীতির দায়ে দোষারোপ করে, তখন তাদের নিজস্ব দুজন মন্ত্রী শেষ দিন পর্যন্ত সরকারে থাকা বিষয়টি তাদের বক্তব্যের বিরোধিতা করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের দ্বিমুখী রেটোরিক জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য নয়।
তারেক আরও উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি জনগণের জন্য কাজ করতে চায়, তবে তাদের স্পষ্ট পরিকল্পনা ও নীতি থাকা দরকার। তিনি বলেন, ভোটাররা সেই দলকে সমর্থন করবে, যা দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে মনোযোগ দেয়।
বক্তৃতার শেষে তিনি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বদলে নীতিনির্ধারণের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং সকল দলকে জনগণের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গিবত গাই বা অন্য দলকে তুচ্ছ করে সমালোচনা করা কোনো ফল দেবে না।
এই সমালোচনার পরেও, যে দলকে তিনি লক্ষ্যবস্তু করেছেন, তাদের পক্ষ থেকে কোনো তৎক্ষণাৎ মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। জনসভার উপস্থিতিরা এই মন্তব্যকে শোনার পর মঞ্চে তালি দিয়ে সম্মতি জানায়।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই ধরনের প্রকাশনা আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং জোটের গঠন ও ভোটার ভিত্তি পুনর্গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে রাজনৈতিক পারস্পরিক সম্পর্কের জটিলতা বিবেচনা করে, ভবিষ্যতে কী ধরনের কৌশল গ্রহণ করা হবে তা এখনও অনিশ



