চীনের ইইউউ শহরের হ্যাপি সিস্টার শপে বিক্রি হওয়া একটি দুঃখী ঘোড়ার প্লাশ টয়, লুনার নিউ ইয়ারের ‘বছর অফ দ্য হর্স’ উপলক্ষে হঠাৎ করে ভোক্তাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই টয়টি মূলত উৎপাদন ত্রুটির ফলে তৈরি হয়; একটি কর্মী ঘোড়ার মুখে হাসি সেলাই করার সময় উল্টো করে সেলাই করে, ফলে মুখে নিচু ভ্রু ও দুঃখী অভিব্যক্তি দেখা যায়।
শপের মালিক ঝাং হুয়োকিং প্রথমে এই ত্রুটিপূর্ণ পণ্যের জন্য গ্রাহককে রিফান্ড দিতে হবে বলে ভেবেছিলেন, তবে অনলাইনে ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে টয়টির চাহিদা বেড়ে যায়। সামাজিক মিডিয়ায় ছবিটি ভাইরাল হওয়ার পর, দুঃখী ঘোড়ার টয়টি দ্রুত বিক্রি হয়ে যায় এবং স্টক শেষ হয়ে যায়।
ঝাং উল্লেখ করেছেন যে, এই টয়টির ম্লান মুখভঙ্গি চীনের তরুণ কর্মীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলেছে। কর্মস্থলে দীর্ঘ সময় কাজ করা ও চাপের মুখে থাকা তরুণরা এই টয়টিকে নিজেদের অবস্থা প্রতিফলিত হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, দুঃখী ঘোড়া আধুনিক কর্মজীবনের বাস্তবতা তুলে ধরে, যেখানে কাজের সময়ের মুখভঙ্গি কঠিন ও নিঃসঙ্গ, আর কাজের পরের সময়ের মুখভঙ্গি স্বচ্ছন্দ ও হাসিখুশি।
চাহিদা বৃদ্ধির ফলে হ্যাপি সিস্টার শপের উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয় মিডিয়া জানায়, উৎপাদন বাড়িয়ে শুধুমাত্র চীনের অভ্যন্তরীণ বাজার নয়, বিদেশী বাজারের চাহিদাও পূরণ করা হচ্ছে। এই টয়টি মূলত ২০ সেন্টিমিটার (প্রায় ৭.৮ ইঞ্চি) উচ্চতা এবং লাল রঙের, যা চীনা সংস্কৃতিতে সৌভাগ্যের প্রতীক। ঘোড়ার গলায় সোনার কলার ও ঘণ্টা যুক্ত, এবং দেহে সোনার অক্ষরে “টাকা দ্রুত আসে” বাক্যটি সেলাই করা আছে।
একজন অনলাইন ক্রেতা, যিনি টুইটারে “টুয়ান টুয়ান মামি” নামে পরিচিত, টয়টির প্রতি তার অনুভূতি শেয়ার করেছেন। তিনি বলেছেন, এই দুঃখী ঘোড়া তার কাজের সময়ের দুঃখ ও ক্লান্তি প্রতিফলিত করে এবং নতুন বছরের শুভেচ্ছা হিসেবে তিনি আশা করেন যে এই টয়টি কাজের সব কষ্টকে পেছনে ফেলে শুধুমাত্র সুখের দিকে নিয়ে যাবে।
টয়টির মূল্য ২৫ ইউয়ান (প্রায় ২.৬২ পাউন্ড) নির্ধারিত, যা তরুণ কর্মীদের জন্য সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে বিবেচিত। দামের সাশ্রয়ীতা ও অনন্য নকশা মিলিয়ে, টয়টি দ্রুতই উপহারের জনপ্রিয় পছন্দ হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে নববর্ষের সময় পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের মধ্যে বিনিময় করা হয়।
ইইউউয়ের আরেকজন শপের মালিক লু ঝেনশিয়ানও এই টয়টির বাজারে সাফল্য লক্ষ্য করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, টয়টির নকশা নান্দনিক দৃষ্টিতে আকর্ষণীয় নাও হতে পারে, তবে তরুণদের মধ্যে আবেগগত মূল্যবোধের চাহিদা বাড়ছে। তিনি উল্লেখ করেন, তরুণ কর্মীরা কাজের সময় দুঃখী ঘোড়ার মতো অনুভব করে, আর কাজ শেষ হলে তৎক্ষণাৎ আনন্দের মুখভঙ্গি প্রকাশ করে।
লু আরও সতর্ক করেছেন যে, যদি সব তরুণ শুধুমাত্র এই ধরনের আবেগগত পণ্যকে সান্ত্বনা হিসেবে গ্রহণ করে, তবে কাজের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বিকৃত হতে পারে। তিনি বিশ্বাস করেন, কঠোর পরিশ্রম ও পেশাগত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, শুধুমাত্র আবেগগত পণ্য দিয়ে কাজের চাপ কমানোর চেয়ে।
বাজার বিশ্লেষকরা এই প্রবণতাকে চীনের তরুণ ভোক্তাদের ক্রয় আচরণের পরিবর্তনের সূচক হিসেবে দেখছেন। দুঃখী ঘোড়া টয়টি শুধুমাত্র একটি খেলনা নয়, বরং কর্মজীবনের চাপ ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধির প্রতীক। এই ধরনের পণ্যগুলোর চাহিদা বাড়লে, সংশ্লিষ্ট উৎপাদন শিল্পে নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে, তবে একই সঙ্গে পণ্যের মান ও নৈতিক দিকনির্দেশনা বজায় রাখা জরুরি।
ভবিষ্যতে, লুনার নিউ ইয়ারের পরেও এই ধরনের থিমযুক্ত পণ্যের চাহিদা অব্যাহত থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বিশেষ করে, তরুণ কর্মীদের মধ্যে কাজ-জীবন সমন্বয়, মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব এবং আত্মপ্রকাশের নতুন পদ্ধতি হিসেবে এমন পণ্যগুলোকে গ্রহণ করা সম্ভব। তবে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজারের পরিবর্তনশীল প্রবণতা, আন্তর্জাতিক রপ্তানি চাহিদা এবং ভোক্তাদের মানসিক চাহিদা সমন্বয় করে কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে, যাতে দীর্ঘমেয়াদী লাভজনকতা নিশ্চিত করা যায়।
সারসংক্ষেপে, ইইউউয়ের দুঃখী ঘোড়া প্লাশ টয়টি উৎপাদন ত্রুটি থেকে শুরু হয়ে লুনার নিউ ইয়ারের আগে বাজারে হিট হয়ে উঠেছে, যা তরুণ কর্মীদের মানসিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর সাফল্য চীনের ভোক্তা বাজারে আবেগগত পণ্যের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি উভয়ই প্রকাশ করে, এবং ভবিষ্যতে উৎপাদন ও রপ্তানি কৌশলে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করতে পারে।



