একটি সাম্প্রতিক জেনেটিক গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে যে স্পাইডারদের সিল্ক উৎপাদনকারী অঙ্গগুলো প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে ঘটিত একটি জিনগত নকলের ফলে বিকশিত হয়েছে। এই ফলাফলটি সাইন্স নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখিত এবং স্পাইডার বিবর্তনের নতুন দিক উন্মোচন করেছে।
গবেষকরা বিভিন্ন স্পাইডার প্রজাতির জিনোম বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে একটি মূল জিনের নকল ঘটার পরই সিল্কের প্রধান প্রোটিনের কোডিং শুরু হয়। নকলটি মূলত একটি সাধারণ কোষীয় প্রোটিনের জন্য দায়ী ছিল, তবে পুনরাবৃত্তি হওয়ার পর নতুন ফাংশন অর্জন করে সিল্কের গঠনগত বৈশিষ্ট্য গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।
এই নকল জিনের পরিবর্তন স্পাইডারদের সিল্কের টান ও স্থিতিশীলতা বাড়িয়ে দেয়, যা শিকার ধরতে ও বাসা বানাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা যায় যে নকলের পরপরই সিল্কের গুণগত মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে, যা প্রাকৃতিকভাবে স্পাইডারদের শিকারের সফলতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
সিল্ক উৎপাদন অঙ্গ, অর্থাৎ স্পিনারেট, নকল জিনের উপস্থিতি সত্ত্বেও পরে বিকশিত হয়েছে বলে অনুমান করা হয়। জেনেটিক ডেটা অনুযায়ী, প্রথমে সিল্কের প্রোটিন উৎপাদন হয়, আর পরে এই প্রোটিনকে সঠিকভাবে বের করার জন্য বিশেষায়িত অঙ্গের গঠন শুরু হয়।
বিভিন্ন প্রাচীন স্পাইডার প্রজাতির তুলনামূলক জিনোম বিশ্লেষণে দেখা যায় যে নকল জিনের উপস্থিতি প্রায় সব আধুনিক স্পাইডারের মধ্যে রয়েছে, তবে স্পিনারেটের গঠন কিছু প্রজাতিতে ভিন্ন রূপে দেখা যায়। এই বৈচিত্র্য স্পাইডারদের পরিবেশগত অভিযোজনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে, আরাখনিডের প্রাথমিক রূপগুলোতে এই জিনগত পরিবর্তন ঘটেছিল বলে গবেষকরা অনুমান করছেন। সেই সময়ে আরাখনিডের বায়ুমণ্ডলীয় ও পরিবেশগত শর্তাবলী সিল্কের ব্যবহারকে সুবিধাজনক করে তুলেছিল, ফলে নকল জিনের সংরক্ষণ ও বিস্তার ঘটেছে।
সিল্কের অনন্য বৈশিষ্ট্য, যেমন উচ্চ টান শক্তি এবং হালকাতা, এখন বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিষয়। এই জিনগত ত্রুটি কীভাবে প্রাকৃতিকভাবে সিল্কের গুণমান উন্নত করেছে তা বোঝা ভবিষ্যতে কৃত্রিম সিল্ক উৎপাদনে নতুন পথ খুলে দিতে পারে।
প্রযুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে, নকল জিনের কাঠামো অনুকরণ করে ল্যাবরেটরিতে একই ধরনের প্রোটিন তৈরি করা সম্ভব হতে পারে, যা চিকিৎসা, টেক্সটাইল ও ইলেকট্রনিক্সে ব্যবহারযোগ্য হতে পারে। গবেষকরা ইতিমধ্যে এই দিকের সম্ভাবনা নিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা চালাচ্ছেন।
গবেষণার প্রধান বিজ্ঞানী উল্লেখ করেছেন যে জিনগত নকলের ফলে সিল্কের উৎপাদন প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে জটিলতা অর্জন করেছে, যা স্পাইডারদের বেঁচে থাকার কৌশলকে শক্তিশালী করেছে। এই পর্যবেক্ষণ স্পাইডার বিবর্তনের ধারাবাহিকতা ও অভিযোজন ক্ষমতা তুলে ধরে।
এই আবিষ্কার স্পাইডারদের জেনেটিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপকে স্পষ্ট করে, যা পূর্বের অনুমানকে চ্যালেঞ্জ করে। নকল জিনের ভূমিকা এবং পরবর্তীতে অঙ্গের বিকাশের ক্রম স্পাইডারদের বিবর্তনীয় পথকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করে।
পাঠকরা যদি স্পাইডার সিল্কের ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে আরও জানতে চান, তবে জেনেটিক গবেষণার অগ্রগতি অনুসরণ করা উপকারী হবে। এই গবেষণা কীভাবে কৃত্রিম সিল্কের উন্নয়নে সহায়তা করবে, তা নিয়ে আপনার মতামত কী?



