আজ বিকেল প্রায় ৪:৩০ টায় ঢাকা শহরের বাড্ডা লিংক রোডে দুইটি বাসের মধ্যে ধসে ৩৪ বছর বয়সী এক ব্যাংক কর্মী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনা স্থানীয় পথচারীদের মতে দু’টি পাবলিক ট্রান্সপোর্টের সংঘর্ষের ফলে ঘটেছে এবং ঘটনাটি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির নাম আবুল কাশেম আজাদ, যিনি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের খিলখেত শাখার সহায়ক কর্মী ছিলেন। তিনি ব্যাংকের সদর দফতরে গুলশানে অফিসিয়াল নথি নিয়ে যাওয়ার পথে ছিলেন এবং তার কাজের দায়িত্বের অংশ হিসেবে নিয়মিত এই রুটে যাতায়াত করতেন।
ব্যাংকের জুনিয়র অফিসার ইখতিয়ার হোসেন জানান, আজাদ গুলশানের প্রধান অফিসে নথি জমা দিতে যাচ্ছিলেন। সেই সময় তিনি রাস্তায় পা দিয়ে পারাপার করার চেষ্টা করছিলেন এবং কোনো সতর্কতা সিগন্যালের উপস্থিতি ছিল না।
পথচারীরা জানান, তিনি রাইডা পারিবহন ও ভিক্টর পারিবহন দুইটি বাসের মধ্যে ফাঁদে পড়ে গিয়ে ধসে গেছেন। উভয় বাসই ব্যস্ত সময়ে রুট চলাচল করছিল এবং রাস্তায় যানবাহনের অতিরিক্ত ভিড়কে এই দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে নিকটস্থ কোনো প্রাথমিক হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে সহকর্মীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করেন, যেখানে তিনি গুরুতর অবস্থায় ভর্তি হন এবং তীব্র রক্তক্ষরণের শিকার হন।
ডিএমসিএইচের চিকিৎসকরা প্রায় সন্ধ্যা ৬ টায় তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। মৃত্যুর কারণ হিসেবে শারীরিক চাপে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি এবং রক্তক্ষরণ উল্লেখ করা হয়েছে, এবং চিকিৎসা দল তার অবস্থা পুনরুদ্ধারযোগ্য না বলে ঘোষণা করে।
আবুল কাশেম আজাদ চাঁদপুরের ফারিদগঞ্জ উপজেলার নেকডি গ্রাম থেকে এসেছেন এবং ঢাকার খিলখেত এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি পরিবারিক দায়িত্বে ব্যস্ত ছিলেন, দুই সন্তান ও বৃদ্ধ মা-কে সমর্থন করতেন এবং ব্যাংকে পাঁচ বছর ধরে কর্মরত ছিলেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ পোস্টের ইনস্পেক্টর মো. ফারুক ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, মৃতদেহটি এখন মর্গেজে রাখা হয়েছে এবং অটোপ্সি করা হবে। অটোপ্সি ফলাফল পাওয়ার পর মামলাটি সংশ্লিষ্ট আইনি বিভাগে প্রেরণ করা হবে এবং পরিবারের কাছে ফলাফল জানানো হবে।
পুলিশ বর্তমানে রাইডা পারিবহন ও ভিক্টর পারিবহনের চালক ও যাত্রীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করছে। দুর্ঘটনা তদন্তের অংশ হিসেবে রেকর্ডেড সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ট্রাফিক সিগন্যালের কাজের বিশ্লেষণ করা হবে। প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের পর মামলাটি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ আদালতে দায়ের করা হবে।
এই ধরনের ট্রাফিক দুর্ঘটনা রাস্তায় পাদচারী ও যানবাহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে রোড সিগন্যাল ও ক্রসিং পয়েন্টের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে বলা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার ঝুঁকি কমে।



