গতকাল সোমবার বিকেলে নাটোরের বাগাতিপাড়া গ্রামাঞ্চলে অনুষ্ঠিত এক পথসভায় নারী প্রার্থী ফারজানা শারমিন নারীদের সামনে প্রশ্ন তুলেন, নারী হওয়ায় বুলিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে এবং দেশের কোন নারী নিরাপদ তা জানার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি উপস্থিত নারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে এই এলাকার অবস্থা বদলে যাবে এবং হীন মানসিকতার লোকজন সমাজে থাকলেও জনগণ তাদের বর্জন করবে।
ফারজানা শারমিন আইনজীবী এবং বিএনপির প্রয়াত কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুর রহমান (পটল)-এর কন্যা। তিনি নাটোর‑১ (লালপুর‑বাগাতিপাড়া) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যেখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাবেক সহদপ্তর সম্পাদক (বহিষ্কৃত) তাইফুল ইসলাম এবং জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদও প্রতিদ্বন্দ্বী।
সকাল দশটায় গৌরিপুরের নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর ফারজানা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাৎকারে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি ও স্বচ্ছতা সম্পর্কে মন্তব্য করেন এবং তাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতা করেন।
দুপুর বারোটা টার্গেটে তিনি বাগাতিপাড়া সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রচারণা চালান। প্রতিবেদক তার সঙ্গে সরাসরি গিয়ে গ্রামগুলোতে তার কর্মসূচি ও প্রতিশ্রুতি শোনেন। প্রতিটি গ্রামে তার উপস্থিতি স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে সংলাপের সুযোগ তৈরি করে।
প্রচারণার প্রথম ধাপ হিসেবে ফারজানা জিগরী সবুজ সংঘের নির্বাচন কর্মীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নেন। কর্মশালায় সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তিনি পরে কর্মশালা থেকে বেরিয়ে সরাসরি প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন।
কর্মশালার পর জিগরী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে তিনি যুবকদের ফুটবল উপহার দেন এবং খেলায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। এই উদ্যোগটি যুবকদের মধ্যে ক্রীড়া চেতনা জাগ্রত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়।
এরপর তিনি গ্রামমুখী মেঠোপথে হাঁটতে হাঁটতে গ্রামের নারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। নারীদের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি তাদের উদ্বেগ শোনেন এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে জানিয়ে দেন।
বাগাতিপাড়া গ্রামজমা সদস্যের বাড়ির আঙিনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত গ্রামবাসীরা প্রায় এক-দুই কিলোমিটার মাটির রাস্তা পাকা করার দাবি তুলে ধরেন। ফারজানা উত্তর দেন, তার বাবা ১৯৯১ সাল থেকে এই এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়নে কাজ করে আসছেন এবং তিনি তার বেটি হিসেবে এই কাজ চালিয়ে যাবেন। তিনি ভোট জয় করলে সব সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এরপর তিনি একই গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল আজিজের বাড়িতে যান, যেখানে শতাধিক কর্মী ও বহু নারী উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তিনি বি.ডি.আর. বিদ্রোহের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হাসানুজ্জামানের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের আইনি সহায়তা প্রদান করার আশ্বাস দেন।
ফারজানা শারমিনের এই প্রচারণা নারী ভোটারদের নিরাপত্তা ও সামাজিক সমর্থনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। তিনি নারী বুলিংয়ের সমস্যাকে তুলে ধরে সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা নারী ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পেতে পারে।
প্রতিদ্বন্দ্বী তাইফুল ইসলাম ও জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে। তিনজনের মধ্যে ভোটের ভাগাভাগি কীভাবে হবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে নারী ও যুবকদের প্রতি বিশেষ মনোযোগের মাধ্যমে ফারজানা ভোটারদের কাছ থেকে সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করছেন।
নাটোরের আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি তীব্র হয়ে উঠেছে, এবং ফারজানা শারমিনের বুলিং ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বক্তব্য স্থানীয় রাজনৈতিক আলোচনার নতুন দিক যোগ করেছে। ভোটের ফলাফল কীভাবে গঠন করবে তা আগামী সপ্তাহে স্পষ্ট হবে, তবে নারী নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি এই অঞ্চলের ভোটারদের মনোযোগের মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।



