28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাপেপালের বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশের ইচ্ছা প্রকাশ, অনুমোদন প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও জটিল

পেপালের বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশের ইচ্ছা প্রকাশ, অনুমোদন প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও জটিল

পেপাল, আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী, বাংলাদেশ ব্যাংকে বাজারে প্রবেশের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, তবে অনুমোদন প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও জটিল হবে বলে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন।

বেইলি রোডের এই একাডেমিতে লুৎফে সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন এবং পেপালের বাংলাদেশে প্রবেশের পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য শেয়ার করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, পেপালের সঙ্গে আলোচনা বহু বছর ধরে চলমান এবং সম্প্রতি এই আলোচনার গতি বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংতে তিনি জানান, পেপালের এশিয়া‑প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট (সিঙ্গাপুরভিত্তিক) এবং দক্ষিণ এশিয়া প্রধান (দিল্লি ভিত্তিক) সহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা গত চার‑পাঁচ দিন ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকে অবস্থান করছেন। এই সময়ে তারা স্থানীয় উদ্যোক্তা, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি মিটিং করে সম্ভাব্য সহযোগিতা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেছেন।

লুৎফে সিদ্দিকী উল্লেখ করেন, এটি প্রথমবারের মতো উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা তার সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পেপাল বাংলাদেশে আসার ব্যাপারে মৌলিকভাবে আগ্রহী, তবে এই আগ্রহকে অতিরিক্ত হেডলাইন বা অতিরঞ্জিত প্রত্যাশা হিসেবে উপস্থাপন না করার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার।

পেপালের মতো বৈশ্বিক ফিনটেক প্রতিষ্ঠানের নতুন দেশে কার্যক্রম শুরু করতে অভ্যন্তরীণ অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। লুৎফে সিদ্দিকী ব্যাখ্যা করেন, পেপালের অভ্যন্তরীণ দল তাদের কৌশল, ঝুঁকি এবং নিয়ন্ত্রক সম্মতি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা ও বোর্ডের অনুমোদন প্রয়োজন। এই ধাপগুলো সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব নয়।

প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ডিবেট ও বোর্ডের পর্যালোচনা সাধারণত কয়েক মাসের সময় নিতে পারে। লুৎফে সিদ্দিকী উল্লেখ করেন, পেপালের বর্তমান পর্যায়ে তারা এই প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বাজারে প্রবেশের সূচনার ভিত্তি গড়ে তুলবে।

বক্তব্যের মধ্যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে পেপালের দলের ইচ্ছা ও দৃঢ়তা সম্পর্কে তার ধারণা শেয়ার করেন। তার মতে, পেপালের কর্মকর্তারা বাংলাদেশে তাদের সেবা চালু করার ব্যাপারে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত এবং এই দৃষ্টিভঙ্গি তাদের আলোচনার মূল চালিকাশক্তি।

প্রেস ব্রিফিংতে লুৎফে সিদ্দিকী আরও জানান, পেপালের পক্ষ থেকে এখন আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও প্রস্তাবনা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই নথিগুলি বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দেওয়া হবে এবং পরবর্তী পর্যায়ে নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের জন্য পর্যালোচনা করা হবে।

পেপালের আগমনের সম্ভাবনা বাংলাদেশে ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমকে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করতে পারে। স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহকরা আন্তর্জাতিক মানের নিরাপদ ও দ্রুত লেনদেনের সুবিধা পেতে পারেন, যা ই-কমার্স ও সেবা খাতের বিকাশে সহায়ক হবে।

তবে দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং নিয়ন্ত্রক শর্তাবলীর পূরণে সময়সীমা অনিশ্চিত থাকায় বাজারে পেপালের সেবা চালু হতে কয়েক মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এই দিকটি বিনিয়োগকারী ও স্টার্টআপদের জন্য ঝুঁকি ও সুযোগ উভয়ই তৈরি করবে।

লুৎফে সিদ্দিকী শেষ মন্তব্যে উল্লেখ করেন, পেপালের আগ্রহের পেছনে বাংলাদেশের দ্রুত ডিজিটালাইজেশন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্য রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে পেপাল স্থানীয় আর্থিক সেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সারসংক্ষেপে, পেপালের বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশের ইচ্ছা স্পষ্ট হলেও অভ্যন্তরীণ অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ার জটিলতা কারণে বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ হবে। এই পরিস্থিতি দেশের ফিনটেক পরিবেশে নতুন প্রতিযোগিতা ও উদ্ভাবনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত করবে, তবে একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক কাঠামোর যথাযথ প্রস্তুতি ও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা বাড়াবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments