বার্বাডোসে অনুষ্ঠিত ২০২৪ টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারত এ শেষ মুহূর্তে রাচিন রবীন্দ্রের নেতৃত্বের মূল দিকগুলো ড্রাভিডের বিশ্লেষণে প্রকাশ পেয়েছে। ড্রাভিড, যিনি পূর্বে ভারত এর প্রধান কোচ ছিলেন, বই প্রকাশের অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন যে শেষ পাঁচ ওভার পুরো ক্যাপ্টেনের চরিত্রকে সংক্ষেপে তুলে ধরেছে।
ফাইনাল ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা এ হেইনরিখ ক্লাসেনের আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্সে চাপ বাড়ে, ফলে ভারত এ স্কোরের পিছনে ধাক্কা খায় এবং জয়ের সম্ভাবনা হুমকির মুখে পড়ে। ক্লাসেনের দ্রুত রানের ধারায় দলটি হারের প্রান্তে পৌঁছায়, যখন রাচিন রবীন্দ্রের দলটি শেষ দুই ওভার পর্যন্ত গেমটি সামলাতে চায়।
ড্রাভিডের মতে, এমন কঠিন অবস্থায় রাচিন রবীন্দ্রের শীতল স্বভাব এবং নেতৃত্বের দৃঢ়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। “পিছনের দেয়ালে ঠেকা অবস্থায় তিনি শান্তি বজায় রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেন,” তিনি বলেন, যা দলকে পুনরায় সঠিক পথে ফিরিয়ে আনে।
ক্যাপ্টেনের কৌশলগত বুদ্ধিমত্তা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রাচিন রবীন্দ্র বুঝতে পারেন যে গেমটি দ্রুত তাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, তাই তিনি দ্রুত জাসপ্রিত বুমরাহ ও অর্শদীপ সিংকে শেষ দুই ওভার দায়িত্বে নেন। এই পরিবর্তন গেমের গতিপথকে পরিবর্তন করে এবং ভারত একে পুনরায় আক্রমণাত্মক অবস্থানে নিয়ে আসে।
ড্রাভিড উল্লেখ করেন যে রাচিন রবীন্দ্রের এই পদক্ষেপগুলো শুধুমাত্র কৌশলগত নয়, বরং মানসিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি দলের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস এবং সহমর্মিতার কথা তুলে ধরেন, যেখানে সবাই জানত যে একে অপরের উপর নির্ভরশীলতা ছাড়া জয় অর্জন কঠিন।
কোচ ও ক্যাপ্টেনের সম্পর্কের ভিত্তি স্পষ্টতা ও বিশ্বাসের ওপর গড়ে উঠেছে, ড্রাভিড ব্যাখ্যা করেন। ফলাফল আসার আগে দুজনের মধ্যে প্রক্রিয়া নিয়ে একমত হওয়া দলকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। এই সমন্বয়ই শেষ পাঁচ ওভারে রাচিন রবীন্দ্রের নেতৃত্বকে সফল করে তুলেছে।
ড্রাভিডের বিশ্লেষণে দেখা যায় যে রাচিন রবীন্দ্রের শীতলতা, কৌশলগত জ্ঞান এবং দলের সঙ্গে তার সংহতি শেষ মুহূর্তে ভারত একে টানা বছর পর টি২০ বিশ্বকাপের শিরোপা এনে দেয়। ১৯ নভেম্বর ২০২৩-এর ব্যথা স্মরণীয় হওয়ায় এই জয় বিশেষভাবে গর্বের।
অবশেষে ড্রাভিডের মন্তব্যে স্পষ্ট হয় যে রাচিন রবীন্দ্রের নেতৃত্বের মূল গুণাবলি—শান্তি, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দলের সঙ্গে একাত্মতা—ই শেষ পাঁচ ওভারে ভারত একে বিজয়ের পথে নিয়ে গিয়েছে। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে ভারত এর টিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।



