বাড্ডা লিংক রোডে দুইটি পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বাসের মধ্যে সংঘর্ষে ইউসিবি ব্যাংকের সাপোর্ট স্টাফ আবুল কাশেম আজাদ (৩৫) নিহত হন। ঘটনাটি মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, সন্ধ্যা ৬ টার কাছাকাছি ঘটেছে এবং স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতালে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে।
কাশেম চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার নেকদি গ্রাম থেকে আসা, মৃত আবুল কালাম আজাদের পুত্র। তিনি রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং ইউসিবি ব্যাংকের খিলক্ষেত শাখার সাপোর্ট স্টাফ হিসেবে কাজ করতেন।
সন্ধ্যা সময় বাসে ফিরে আসার পথে তিনি বাড্ডা লিংক রোডে রাইদা ও ভিক্টর নামের দুটি বাসের মধ্যে চাপা পড়েন। দুইটি বাসই একই সময়ে একে অপরের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, ফলে মাঝের গর্তে কাশেমের গাড়ি ধাক্কা খায় এবং তিনি গুরুতর আঘাত পেয়ে মাটিতে পড়ে যান।
আহত অবস্থায় কাশেমকে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় জরুরি সেবা দল উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। সেখানে উপস্থিত চিকিৎসক দল দ্রুত তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে, তবে শিরোনামগত রক্তক্ষরণ ও মাথা আঘাতের কারণে তিনি অচিকিৎস্য অবস্থায় রয়ে যান।
ঢামেক হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তার কাশেমকে মৃত ঘোষণা করেন। তার দেহকে পরে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তুত করা হয়। রোগীর পরিবারকে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে অবহিত করা হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ ফারুক জানান, ঘটনাটির তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট থানা ও ট্রাফিক পুলিশকে জানানো হয়েছে। তদুপরি, দুইটি বাস জব্দ করা হয়েছে এবং এক বাসের চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অধিক তদন্তে জানা যায়, সংঘর্ষের সময় উভয় বাসই অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছিল এবং ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘন করছিল। পুলিশ এখনো ঘটনাস্থলে গৃহীত গতি, গাড়ির গতি সীমা ও ড্রাইভারের আচরণ বিশ্লেষণ করছে। ময়নাতদন্তের ফলাফল পাওয়া মাত্রই মামলার আইনি দিক নির্ধারিত হবে।
এই ধরনের ট্রাফিক দুর্ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর ট্রাফিক নিয়ম প্রয়োগ এবং জনসাধারণকে নিরাপদ যাত্রার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা ও শাস্তি প্রয়োগের বিষয়টি তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে স্পষ্ট হবে।



