ইলেকশন কমিশন (EC) আজ জানিয়েছে যে ৬ জানুয়ারি থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ১৪৪টি ঘটনা ১২৮টি নির্বাচন এলাকায় ধরা পড়েছে। এই লঙ্ঘনগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা রক্ষার জন্য কঠোরভাবে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
ধরা পড়া লঙ্ঘনের মধ্যে ৯৪টি মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের মোট ৯,০৫,৫০০ টাকার জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। জরিমানার পরিমাণ প্রতিটি লঙ্ঘনের গুরুতরতা ও প্রভাবের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছে।
এজারগাঁও, ঢাকা-তে EC সদর দফতরে উপস্থিত নির্বাচনী কমিশনার অন্বরুল ইসলাম সরকার ফলাফল ঘোষণার সময়সূচি সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, দুইটি ভোটের (জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট) ফলাফল ভোটের পরপরই প্রকাশ করা হবে, সম্ভবত ভোটের পরের দিন।
পূর্বের নির্বাচনে অধিকাংশ অনানুষ্ঠানিক ফলাফল মধ্যরাতের আগে প্রকাশিত হতো, তবে এইবার ফলাফল দেরি না করে রাতের শেষের দিকে অথবা সর্বোচ্চ পরের দিন পর্যন্ত জানানো হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। সময়মতো ফলাফল প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও কর্মী ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে।
জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি একই সময়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ইলেকশন কমিশন অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে। ফলাফল দ্রুত ও সঠিকভাবে জানাতে অতিরিক্ত মানবসম্পদ ও পর্যবেক্ষণ দল মোতায়েন করা হয়েছে।
কমিশন উল্লেখ করেন, গণভোটের অংশগ্রহণ বাড়াতে সকল নির্বাচনী কর্মী—প্রত্যাবর্তন কর্মকর্তা, সহকারী প্রত্যাবর্তন কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মী—গণভোটের প্রচার করবে, তবে কোনো দিকনির্দেশনা বা প্রচারণা করবে না। তাদের দায়িত্ব কেবল ভোটের তথ্য প্রদান ও প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারী কর্মকর্তাদের উন্মুক্ত প্রচারণা সম্পর্কে প্রশ্ন উঠলে কমিশনার মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করার কারণ স্পষ্ট করেননি, তবে প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
কমিশনারের মতে, ইলেকশন কমিশন একটি সংবিধানিক সংস্থা এবং শুধুমাত্র আইনই তার উপর প্রযোজ্য। সংস্থার কোনো বাহ্যিক হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই এবং সব কাজ সংবিধান ও আইন অনুযায়ী সম্পন্ন হয়।
ফলাফল ঘোষণার দ্রুততা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন। সময়মতো ফলাফল না হলে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে, তাই EC এর প্রস্তুতি ও সময়সূচি দেশের স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার সূচক।
আসন্ন ভোটের ফলাফল রাতের শেষের দিকে বা পরের দিন শীঘ্রই প্রকাশের প্রত্যাশা রয়েছে। গণভোটের ফলাফলও একই সময়সীমার মধ্যে জানানো হবে, যা ভোটারদের অংশগ্রহণের প্রেরণা বাড়াবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
ইলেকশন কমিশনের এই পদক্ষেপগুলো নির্বাচনী লঙ্ঘনের প্রতিরোধ ও ফলাফল সময়মতো জানাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে একই রকম লঙ্ঘন কমাতে কঠোর তদারকি ও শাস্তি প্রয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে ফলাফল ঘোষণার পর পার্টিগুলোকে আইনগতভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারণে এগিয়ে যেতে হবে। ইলেকশন কমিশন সকল প্রাসঙ্গিক তথ্য জনসাধারণের কাছে স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করবে।



