সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার‑উজ‑জামান ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পূর্বে রংপুর ও রাজশাহী দুইটি শহরে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ (In Aid to the Civil Power) কাঠামোর অধীনে মোতায়েনকৃত সেনাসদস্যদের পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনটি মঙ্গলবারের মধ্যাহ্নে শুরু হয় এবং দুই দিনের মধ্যে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সামরিক, অসামরিক প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা এবং সেনাবাহিনীর ভূমিকা স্পষ্ট করা। বিশেষ করে ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ মডেল অনুসারে সেনাসদস্যদের কাজের পরিধি, দায়িত্ব ও নির্দেশনা পুনর্বিবেচনা করা হয়।
রংপুরে প্রথমে রংপুর সার্কিট হাউসে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে রংপুর সার্কিট হাউসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ অধিদপ্তরের প্রধান, রেঞ্জ ও থানা প্রধান, পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক বিভাগ ও রংপুর এরিয়া কমান্ডার, গেজারিয়ার কমান্ডার এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, তথ্য শেয়ারিং এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলা হয় যে, সকল সংস্থার কাজের মধ্যে কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব থাকবে না। সেনাবাহিনী প্রধান পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, ধৈর্য এবং নাগরিকবান্ধব আচরণকে অগ্রাধিকার দেন এবং সকল সেনাসদস্যকে এই নীতিগুলো মেনে চলতে নির্দেশ দেন।
সেনাবাহিনী প্রধানের উল্লেখে, নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ কাঠামোর অধীনে মোতায়েনকৃত সেনাবাহিনীর ইউনিটগুলোকে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বয় করতে হবে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, সেনাবাহিনীর ভূমিকা শুধুমাত্র সশস্ত্র সহায়তা নয়, বরং নাগরিকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য রক্ষায় সহায়তা করা।
এরপর জেনারেল ওয়াকার‑উজ‑জামান রাজশাহীতে ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টার (বিআইআরসি) এ একই ধরণের মতবিনিময় সভা করেন। এতে রাজশাহী জেলা প্রশাসক, রাজশাহী জেলাপুলিশের প্রধান, গেজারিয়ার কমান্ডার, ১১ পদাতিক বিভাগ ও বগুড়া এরিয়া কমান্ডার, এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ সামরিক ও সিভিল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভার মূল বিষয় ছিল রংপুরে আলোচিত বিষয়গুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে রাজশাহীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয় নিশ্চিত করা।
সেনাবাহিনী প্রধান উভয় সভায় সেনাসদস্যদের কাজের ক্ষেত্র, দায়িত্বের সীমা এবং নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগের পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, নির্বাচনের সময় কোনো ধরণের হিংসা, ভয় দেখানো বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ থাকবে না এবং সকল কর্মীকে শৃঙ্খলা বজায় রেখে কাজ করতে হবে।
পরিদর্শনের সময় রংপুর ও রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়। গেজারিয়ার কমান্ডার ও জেলা প্রশাসক উভয়ই জানান যে, বর্তমান সময়ে কোনো বড় নিরাপত্তা হুমকি চিহ্নিত হয়নি, তবে নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণ করা হবে। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি এবং সমন্বিত পরিকল্পনা এই নিরাপত্তা গ্যারান্টি বাড়াতে সহায়তা করবে।
বৈঠকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন, যারা পরবর্তী প্রতিবেদনের জন্য তথ্য সংগ্রহের সুযোগ পেয়েছেন। তবে কোনো মন্তব্য বা বিশ্লেষণ প্রকাশ করা হয়নি; সবকিছুই সরকারি নির্দেশনা ও পরিকল্পনার ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে।
সেনাবাহিনী প্রধানের এই সফর এবং উভয় শহরে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা নির্বাচনের পূর্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়। সামরিক ও সিভিল প্রশাসনের সমন্বিত কাজের মাধ্যমে নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্য স্পষ্ট হয়েছে।
অবশেষে, জেনারেল ওয়াকার‑উজ‑জামান রংপুর ও রাজশাহীর সকল অংশগ্রহণকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে, নির্বাচনের সময় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তার এই বক্তব্য ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



