20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধমুন্সীগঞ্জে দুইজনের বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণের পৃথক মামলায় গ্রেফতার

মুন্সীগঞ্জে দুইজনের বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণের পৃথক মামলায় গ্রেফতার

মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের দশকানি (ভূইয়াবাড়ি) এলাকায় ৭ বছর বয়সী একটি শিশুর ওপর গৃহস্থালী অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর, দুইজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রথম অপরাধে আল আমিন (বয়স ৩৫), যিনি সেলেমের পুত্র এবং ভাড়াটিয়া, এবং দ্বিতীয় ক্ষেত্রে টঙ্গিবাড়ি উপজেলার ধীপুর গ্রাম থেকে নূর ইসলাম (বয়স ৭২) নামের ব্যক্তি ধরা পড়েছেন।

সোমবার, ২৬ জানুয়ারি বিকেল চারটার দিকে শিশুটি মজিবুর ভূইয়ার বাড়ির সামনে খেলছিল। একই সময়ে আল আমিন, যিনি ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া, শিশুটিকে পাশের বাথরুমে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন করেন। অপরাধের পর শিশুর বাবা স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন, ফলে দ্রুতই ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলা রেজিস্টার হয়।

আল আমিনের অপরাধের পর তিনি স্থান ত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যান। তদন্তে নিযুক্ত সিআইটি (SI) শিপন আলী শেখ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনের অবস্থান সনাক্ত করেন এবং মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত আল আমিনকে একই দিন বিকালে স্থানীয় আদালতে হাজির করা হয়।

আদালতে উপস্থিত হওয়ার পর আল আমিন ১৬৪ ধারার অধীনে অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। তার বিরুদ্ধে রিজার্ভেশন ও রিম্যান্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং মামলাটি পরবর্তী শোনার জন্য নির্ধারিত হয়েছে।

অন্যদিকে, টঙ্গিবাড়ি উপজেলার ধীপুর গ্রাম থেকে নূর ইসলামকে একই দিনে গৃহস্থালী অপরাধের সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়। নূর ইসলামকে শিশুর ওপর ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে আটক করা হয়েছে এবং তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ কর্তৃক প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উভয় গ্রেফতারই নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দুজন সন্দেহভাজনই সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য আইনি প্রক্রিয়ার অধীন থাকবে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশের আইনে শিশু ধর্ষণকে কঠোরভাবে শাস্তি দেওয়া হয়েছে; ১৬৪ ধারার অধীনে শাস্তি সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া, অপরাধের প্রচেষ্টা বা চেষ্টাকেও আইনি দায়ের আওতায় আনা হয়।

আল আমিনের মামলায় আগামী সপ্তাহে প্রথম শোনার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে প্রমাণাদি ও সাক্ষ্য শোনার মাধ্যমে বিচারিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নূর ইসলামের ক্ষেত্রে এখনও চেষ্টার প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারিক প্রক্রিয়া চালু হবে।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গৃহীত রিজার্ভেশন ও রিম্যান্ডের শর্তাবলী অনুসারে, তারা আদালতের অনুমোদন ছাড়া কোনোভাবে মুক্তি পাবে না এবং মামলার ফলাফলের উপর নির্ভর করে অতিরিক্ত শাস্তি আরোপিত হতে পারে।

শিশু নির্যাতনের শিকার পরিবারকে মানসিক সহায়তা ও আইনি পরামর্শ প্রদান করার জন্য স্থানীয় সামাজিক সেবা সংস্থা ও নারী ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তর সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ শিশু সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।

মুন্সীগঞ্জে এই দুইটি পৃথক ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও গ্রেফতার স্থানীয় জনগণের মধ্যে ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা জোরদার করেছে। তবে, মামলার চূড়ান্ত রায় এবং শিকারের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এখনও অবশিষ্ট রয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ত্বরিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments