28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিড্রাইভিং লাইসেন্সে ৬০ ঘণ্টার বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ চালু

ড্রাইভিং লাইসেন্সে ৬০ ঘণ্টার বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ চালু

বাংলাদেশ সরকার টেজগাঁর বিআরটিসি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে চালু করা ৬০ ঘণ্টার বাধ্যতামূলক ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ সম্পর্কে ঘোষণা করেছে। এই পদক্ষেপটি সড়ক দুর্ঘটনা কমানো, ট্রাফিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং শব্দ‑বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানটি ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প (৩য় সংশোধিত)’ অধীনে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পেশাজীবী পরিবহন চালক ও শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও শব্দদূষণ সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, সড়ক পরিবহন ও সেতু, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা, প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বার্ষিক বৃদ্ধি পেতে থাকা একটি বড় দুঃখের কথা তুলে ধরে, তা কমাতে বর্তমান নীতি যথেষ্ট নয় বলে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিক জটিলতা এবং অদক্ষতা জনগণের ওপর ভারী বোঝা সৃষ্টি করে, যা মানবিক দায়িত্ববোধকে উপেক্ষা করে। বর্তমান লাইসেন্স প্রদান পদ্ধতিকে তিনি বিশ্বের অন্যতম অস্বাভাবিক হিসেবে বর্ণনা করে, নতুন বিধি অনুসারে সব প্রার্থীর জন্য ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানিয়ে দেন।

প্রশিক্ষণসূচিতে গাড়ি চালানোর দক্ষতা যাচাই, শারীরিক সক্ষমতা, দৃষ্টিশক্তি এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এইসব মানদণ্ড পূরণকারী প্রার্থীরাই লাইসেন্স পেতে পারবে।

কবির খান উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল মানুষের জীবন রক্ষা করা, সড়কে মৃত্যুর হার কমানো, ট্রাফিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং শব্দ‑বায়ু দূষণ হ্রাসের মাধ্যমে ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা।

তিনি সরকারি কর্মচারীদের জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং বৃহত্তর জনস্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে নির্দেশ দেন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তিনি এই উদ্যোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করে, দেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে পরিবেশ সংক্রান্ত কার্যকর পদক্ষেপের অভাবের কথা তুলে ধরেন।

হাসান বলেন, এই প্রকল্পটি প্রথমবারের মতো বাস্তবভিত্তিক অংশীদারিত্বমূলক পদ্ধতিতে চালু করা হয়েছে, যা সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষার দ্বৈত লক্ষ্যকে একসাথে পূরণ করবে।

নতুন নীতি প্রথমে বিআরটিসি ইনস্টিটিউটে পাইলট হিসেবে চালু হবে, এরপর সব লাইসেন্সিং সেন্টারে বিস্তৃতভাবে প্রয়োগ করা হবে। সরকার নিয়মিত অডিটের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়ার সঠিকতা নিশ্চিত করবে।

প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সক্ষমতা ও প্রশিক্ষকের সংখ্যা নিয়ে কিছু সমালোচনা প্রকাশিত হলেও, বাংলাদেশ সরকার অতিরিক্ত সম্পদ বরাদ্দ করে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছে।

এই পদক্ষেপটি দেশের শহুরে পরিবেশ উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সড়ক নিরাপত্তা মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক শর্তটি আগামী আর্থিক বছর থেকে কার্যকর হবে, এবং আবেদনকারীদের লাইসেন্স পরীক্ষার আগে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার প্রমাণ জমা দিতে হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments