বাংলাদেশ সরকার র্যাব (র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) এর কার্যক্রম শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ১৬৩টি যানবাহন সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সংগ্রহের অনুমোদন দিয়েছে। সিদ্ধান্তটি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে গৃহীত হয়।
বৈঠকটি মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয় এবং অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ সভার সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে সরকারী ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা ছিলেন, যাঁরা ক্রয় প্রক্রিয়ার ত্বরান্বিত বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করেন।
ক্রয়কৃত যানবাহনের তালিকায় ৩টি জিপ, ১০০টি পেট্রোল পিক‑আপ এবং ৬০টি এসি মাইক্রোবাস অন্তর্ভুক্ত। এই গঠন র্যাবের বিভিন্ন মিশন ও দ্রুত চলাচলের প্রয়োজন মেটাতে পরিকল্পিত।
প্রাথমিকভাবে এই যানবাহনগুলো উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সংগ্রহের প্রস্তাব ছিল, তবে নির্বাচনের নিকটবর্তী সময়সীমা এবং আইন‑শৃঙ্খলা বজায় রাখার জরুরি প্রয়োজনের কারণে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়। এই পদ্ধতি সময়সাপেক্ষ টেন্ডার প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
সরবরাহকারী হিসেবে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডস্ট্রিজ লিমিটেডকে চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি পূর্বে সরকারী প্রকল্পে বিভিন্ন ধরণের যানবাহন সরবরাহের অভিজ্ঞতা রাখে।
একই বৈঠকে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি ২০২৫‑২৬ অর্থবছরের জন্য সিঙ্গাপুরভিত্তিক আরামকো ট্রেডিং (সিঙ্গাপুর) পিটিই লিমিটেড থেকে পাঁচটি এলএনজি কার্গো স্বল্পমেয়াদে আমদানি করার অনুমোদনও প্রদান করে। এই পদক্ষেপটি জ্বালানি বৈচিত্র্যকরণে সহায়ক হবে।
ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড (সংযুক্ত আরব আমিরাত) থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সারের চতুর্থ লটের আমদানি অনুমোদিত হয়েছে। প্রতি টনে ৪১০ ডলার দরে মোট ব্যয় ২০১ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকা হিসেবে নির্ধারিত।
এর পাশাপাশি রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক কর্পোরেশন (প্রুডিনটর্গ) থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি (মোনোঅ্যামোনিয়াম ফসফেট) সারের অষ্টম লটের আমদানি অনুমোদিত হয়। প্রতি টনে ৩৫২.৯৩ ডলার দরে মোট ব্যয় ১৫১ কোটি ৫৬ লাখ ৫৭ হাজার টাকা নির্ধারিত।
টিসিবি (ট্রেডিং ও কমার্শিয়াল ব্যাংক) এর জন্য স্থানীয় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ১ কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল এবং ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল (১০টি লটে) ক্রয়ের দুটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। সয়াবিন তেল সরবরাহে সুপার অয়েল রিফাইনারি লিমিটেড (প্রতি লিটার ১৮৫.৯৫ টাকা) এবং শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ (প্রতি লিটার ১৮৫.৯০ টাকা) প্রত্যেকটি ৫ লাখ লিটার করে দায়িত্ব নেবে।
এই ক্রয়গুলো বাজারে সরবরাহ শৃঙ্খলকে ত্বরান্বিত করবে, তবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি স্থানীয় সরবরাহকারীদের অংশগ্রহণ সীমিত করতে পারে। র্যাবের দ্রুত মোবিলাইজেশন নিশ্চিত করার জন্য এই পদক্ষেপটি স্বল্পমেয়াদে কার্যকরী হবে, তবে দীর্ঘমেয়াদে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখতে তদারকি প্রয়োজন।
ইউরিয়া ও এমওপি সারের বৃহৎ পরিমাণ আমদানি কৃষি সেক্টরের ইনপুট চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক মূল্য পরিবর্তনের প্রতি সংবেদনশীলতা প্রকাশ করে। গ্লোবাল বাজারে দামের ওঠানামা এবং মুদ্রা রূপান্তরের ঝুঁকি সরকারের ব্যয় পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
এলএনজি কার্গো আমদানি দেশের জ্বালানি মিশ্রণ বৈচিত্র্যকরণে সহায়তা করবে, তবে সরবরাহ চুক্তির শর্তাবলী ও লজিস্টিক্সের দক্ষতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা ও আইন‑শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার দ্রুত ক্রয় চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে একই সঙ্গে আর্থিক স্বচ্ছতা ও বাজারের ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য তদারকি শক্তিশালী করা প্রয়োজন।



