ফিফার নতুন নারী ক্লাব প্রতিযোগিতা, ইনগেজিটিভ নারী চ্যাম্পিয়ন্স কাপ, এই সপ্তাহে লন্ডনে সমাপ্তি দেখেছে। ব্রেন্টফোর্ডে বুধবার অনুষ্ঠিত সেমি‑ফাইনালে চারটি মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়ন দল মুখোমুখি হয়, আর চূড়ান্ত ম্যাচটি রবিবার এমিরেটস স্টেডিয়ামে নির্ধারিত। মোট পুরস্কার তহবিল ২.৩ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১.৬৮ মিলিয়ন পাউন্ড) এবং নতুন ট্রফি দু’দলই অর্জনের জন্য লড়াই করেছে।
এই প্রতিযোগিতা ফিফার নারী ক্লাব ফুটবলে প্রথম পদক্ষেপ, যা পূর্বে পরিকল্পিত ২০১৯ সালের গিয়ানি ইনফ্যান্টিনোর প্রস্তাবিত চতুর্বর্ষীয় নারী ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপের দেরি পূরণে চালু হয়েছে। বিশ্বকাপের সূচনা জানুয়ারি ২০২৮ পর্যন্ত স্থগিত হওয়ায়, ফিফা এই দ্বিতীয় স্তরের টুর্নামেন্টকে বার্ষিক সংযোগবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলেছে, যাতে বিশ্বজুড়ে ক্লাবগুলো একে অপরের সঙ্গে মুখোমুখি হতে পারে।
প্রতিযোগিতার অংশগ্রহণকারী চারটি দল হল আর্সেনাল, গথাম এফসি, করিন্থিয়ানস এবং এএস ফার। এদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ মহাদেশের চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করে এই টুর্নামেন্টে স্থান পেয়েছে। আর্সেনাল ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন, গথাম এফসি উত্তর আমেরিকান, করিন্থিয়ানস দক্ষিণ আমেরিকান এবং এএস ফার আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে অংশগ্রহণ করেছে।
প্রতিযোগিতার কাঠামো অনুযায়ী ছয়টি কনফেডারেশন চ্যাম্পিয়ন প্রতি বছর একবার মুখোমুখি হয়, তবে যখন নারী ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ অনুষ্ঠিত হয় তখন এই টুর্নামেন্ট বাদ দেওয়া হয়। এতে করে ক্লাবগুলোকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রথম রাউন্ডে এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন ওহান চেগু জিয়াংদা (AFC চ্যাম্পিয়নস লিগ ২০২৪‑২৫ বিজয়ী) অস্ট্রেলিয়ার ওকল্যান্ড ইউনাইটেড (OFC নারী চ্যাম্পিয়নস লিগ ২০২৫ বিজয়ী)কে পরাজিত করে অগ্রসর হয়। এই জয় টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপে তাদেরকে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন এএস ফারের সঙ্গে মুখোমুখি করে।
ডিসেম্বরে এএস ফার ওহান চেগু জিয়াংদার সঙ্গে ম্যাচে নাটকীয় মোড় নেয়। হাজার সাইদ ৮৯তম মিনিটে সমতা রক্ষা করেন, আর সনাâ মসৌদি অতিরিক্ত সময়ে গল করে এএস ফারকে সেমি‑ফাইনালে পৌঁছে দেয়। এই জয়ের মাধ্যমে মরক্কোর চ্যাম্পিয়ন দল আর্সেনালের সঙ্গে ব্রেন্টফোর্ডে মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পায়।
আর্সেনালের দলে ২৬ বছর বয়সী এক অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রয়েছে, যাকে দলটি রক্ষার দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে আশা করছে। তার অভিজ্ঞতা ও গোল করার ক্ষমতা আর্সেনালের রক্ষণাত্মক পরিকল্পনায় বড় সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছে।
গথাম এফসি এবং করিন্থিয়ানসের পথচলা যদিও বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়নি, তবু তারা সেমি‑ফাইনালের জন্য যথাযথ পারফরম্যান্স দেখিয়ে টুর্নামেন্টে স্থান পেয়েছে। উভয় দলই আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।
চূড়ান্ত ম্যাচটি রবিবার এমিরেটস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বিজয়ী দল $২.৩ মিলিয়ন পুরস্কার পাবে এবং নতুন ট্রফি হাতে নেবে। এই চ্যাম্পিয়নশিপের মাধ্যমে নারী ক্লাব ফুটবলের দৃশ্যপট আরও সমৃদ্ধ হবে এবং ভক্তদের নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে আন্তর্জাতিক ক্লাবের প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখার সুযোগ দেবে।
ফিফার নারী ক্লাব ফুটবলের দায়িত্বশীল পরিচালক বলেছেন, এই টুর্নামেন্টটি বিশ্বব্যাপী ক্লাবগুলোর জন্য বার্ষিক সংযোগবিন্দু হিসেবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতে নারী ক্লাব ফুটবলের মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারসংক্ষেপে, লন্ডনে অনুষ্ঠিত এই প্রথম নারী চ্যাম্পিয়ন্স কাপের মাধ্যমে চারটি মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়ন দল একে অপরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে, আর আর্সেনাল ফাইনালে পৌঁছিয়ে পুরস্কার ও গৌরবের জন্য লড়াই করবে। এই উদ্যোগটি নারী ক্লাব ফুটবলের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি দলকে এই মঞ্চে অংশ নিতে উৎসাহিত করবে।



