সুইডেনের সরকার গ্যাং-শিশুদের দ্বারা গৃহীত হিংসাত্মক অপরাধের সংখ্যা বাড়ার প্রেক্ষিতে অপরাধযোগ্য বয়স ১৫ থেকে ১৩ বছরে নামানোর আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। পরিকল্পনাটি গুরুতর অপরাধে সীমাবদ্ধ এবং শীঘ্রই গৃহীত হলে গ্রীষ্মকালে কার্যকর হতে পারে।
ন্যায়বিচার মন্ত্রী গুনার স্ট্রোমার জরুরি অবস্থা উল্লেখ করে বলছেন, গ্যাং নেটওয়ার্কে শিশুর ব্যবহার বন্ধ করা সরকারের প্রধান কাজ। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই পদক্ষেপটি অপরাধের তীব্রতা কমাতে সহায়ক হবে।
অন্যদিকে, পুলিশ, কারাগার প্রশাসক এবং প্রসিকিউটরসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে বয়স কমলে আরও ছোট শিশুরা অপরাধে লিপ্ত হতে পারে।
প্রস্তাবিত আইনটি শুধুমাত্র সবচেয়ে গুরুতর অপরাধে প্রযোজ্য হবে, যেমন হত্যাকাণ্ড, হত্যার প্রচেষ্টা, গুরুতর বোমা হামলা, তীব্র অস্ত্র অপরাধ এবং তীব্র ধর্ষণ। এই অপরাধগুলোতে অপরাধীকে ১৩ বছর বয়সেও দায়িত্ববোধে আনা হবে।
কিছু ক্ষেত্রে, ১৩ বছর বয়সী অপরাধীকে কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হতে পারে, যদিও এটি সীমিত শর্তে হবে। আইনটি কঠোর শাস্তি আরোপের বদলে অপরাধের প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে সাজা নির্ধারণের কথা বলে।
সুইডিশ ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর ক্রাইম প্রিভেনশন অনুযায়ী, গত দশকে ১৫ বছরের নিচে সন্দেহভাজনদের সঙ্গে যুক্ত অপরাধের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। এই বৃদ্ধি সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে।
বর্তমান সরকার ২০২২ সালে ক্ষমতায় আসার পর সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবেই গ্যাং-শিশুদের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আইন সংস্কারের দাবি তীব্রতর হয়েছে।
গত বছর সরকার-নির্দেশিত একটি তদন্তে গুরুতর অপরাধে বয়স ১৪ এ নামানোর সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী আলোচনায় বয়স আরও কমিয়ে ১৩ করা প্রস্তাবিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উলফ ক্রিস্টারসন সেপ্টেম্বর মাসে উল্লেখ করেন, শিশুরা অপরাধী নেটওয়ার্কের দ্বারা নিষ্ঠুরভাবে শোষিত হচ্ছে। তিনি বলেন, এই শোষণ বন্ধ করতে সরকার দৃঢ় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বিলটি প্রস্তুত করে ১২৬টি সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার মতামত চাওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে প্রস্তাবের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
বহু সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা এসেছে। তারা যুক্তি দেন, বয়স কমিয়ে অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া শিশুর পুনর্বাসন ও সামাজিক সংহতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রস্তাবিত আইন যদি পার্লামেন্টে অনুমোদিত হয়, তবে গ্রীষ্মের শুরুতে তা কার্যকর হবে। আইনটি পার্লামেন্টের আলোচনার পর সংশোধন ও ভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে।
পরবর্তী ধাপে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা, সংশোধনী প্রস্তাব এবং ভোট অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সংশোধনীর পরেও যদি আইনটি পাশ হয়, তবে তা স্বল্প সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হবে।
শিশু অপরাধের বৃদ্ধি এবং গ্যাং-শিশুদের শোষণের বিরুদ্ধে সরকার যে পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা সমাজের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থার উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। আইনটি কীভাবে প্রয়োগ হবে এবং এর ফলাফল কী হবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



