ঢাকা শহরের একটি বিশেষ আদালত আজ দ্য ডেইলি স্টার সদর দফতরে সংঘটিত ধ্বংস, অগ্নিকাণ্ড এবং লুটপাট সংক্রান্ত মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তাদেরকে ৮ মার্চের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিল। অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসেন মুহাম্মদ জোনাইদের এই আদেশটি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি) পূর্বে নির্ধারিত সময়ে রিপোর্ট না দেওয়ায় নেওয়া হয়েছে।
দ্য ডেইলি স্টারের দফতরে আক্রমণ ২২ ডিসেম্বর ২০২২-এ ঘটে, যেখানে অজানা ৩৫০ থেকে ৪০০ জন ব্যক্তি গোষ্ঠী সম্পত্তি নষ্ট, আগুন জ্বালিয়ে এবং লুটপাট করে। ঘটনাস্থলে গৃহীত অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে গিয়ে বড় পরিমাণে ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়। এই অপরাধের পর দ্য ডেইলি স্টার তেজগাঁও থানা-তে অভিযোগ দায়ের করে, সংশ্লিষ্ট আইনগত ধারা অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়।
মামলায় উল্লেখিত অপরাধগুলোকে দণ্ডবিধি, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং সাইবার নিরাপত্তা আদেশের আওতায় আনা হয়েছে। এ সব আইনের অধীনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। আদালতও এই আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে তদন্তের দ্রুততা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ জারি করেছে।
প্রাথমিক তদন্তে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০ কোটি টাকা হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে, তবে সম্পূর্ণ হিসাবের জন্য অতিরিক্ত মূল্যায়ন প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদ, সরঞ্জাম ও ডেটা পুনরুদ্ধার খরচের পাশাপাশি ব্যবসায়িক ক্ষতি এই পরিমাণে অন্তর্ভুক্ত। পরবর্তী মূল্যায়নে এই সংখ্যা বাড়তে পারে বলে সূত্র জানায়।
সেই সময় পর্যন্ত, আদালতের রেকর্ডে দেখা যায় ২৬ ডিসেম্বর ২০২২ পর্যন্ত মোট ১১ জন সন্দেহভাজন গ্রেফতার হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক শংসাপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদে কিছু প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তবে অধিকাংশ সন্দেহভাজন এখনও অজানা রয়ে গেছে।
ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের তদন্ত দলকে ২৩ ডিসেম্বর ২০২২-এ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছিল, তবে নির্ধারিত তারিখে কোনো নথি আদালতে পৌঁছায়নি। এই দেরি নিয়ে আদালত অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে, তবে এখন ৮ মার্চের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কঠোর শর্ত আরোপ করেছে।
প্রতিবেদন জমা না হলে আদালত অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে, যা তদন্তের গতি বাড়াতে এবং দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। ডিবি কর্মকর্তারা এখন সময়সীমা মেনে কাজ সম্পন্ন করার জন্য ত্বরান্বিত প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানা যায়।
দ্য ডেইলি স্টারের দফতরে ঘটিত এই হামলা দেশের মিডিয়া সংস্থার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পূর্বে অনুরূপ আক্রমণ ঘটলেও, এই ঘটনায় আয়তন ও ক্ষতির মাত্রা বিশেষভাবে বড়। ফলে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন ও শক্তিশালীকরণের দাবি বাড়ছে।
সারসংক্ষেপে, দ্য ডেইলি স্টার অফিসে সংঘটিত ধ্বংস, অগ্নিকাণ্ড ও লুটপাটের মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চকে ৮ মার্চের মধ্যে পূর্ণ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে আদালতের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনা অনুসরণ না করলে অতিরিক্ত আইনি শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে, এবং মামলার চূড়ান্ত রায়ের জন্য প্রমাণ সংগ্রহের কাজ ত্বরান্বিত হবে।



