দিল্লি-ঢাকা রেলওয়ে সেতু পারাপারের কাছাকাছি অবস্থিত আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ১৯ দিনের প্রচারকালীন আচরণবিধি লঙ্ঘনের পরিসংখ্যান জানিয়ে বলেন, গড়ে প্রতিদিন সাতটি করে লঙ্ঘন ঘটেছে। মোট ১৪৪টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯৪টি মামলায় ৯ লাখ টাকার বেশি জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।
কমিশনারের মতে, যদিও পুরোপুরি আচরণবিধি মেনে চলা সম্ভব নয়, তবু রাস্তায়, মাঠে ও বাজারে দেখা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গৃহীত অঙ্গীকারের ফলাফল। তিনি উল্লেখ করেন, রিটার্নিং অফিসার এবং মাঠে নির্বাচনী কাজের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা প্রার্থীদের উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম তদারকি করছেন, ফলে ক্ষেত্রভিত্তিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।
কমিশনারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান প্রচারকালকে অতীতের তুলনায় বেশি সুশৃঙ্খল বলা যায়। তিনি জানান, বিভিন্ন মিডিয়া সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য দ্রুত রিটার্নিং অফিসারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিযুক্ত কর্মকর্তারা লঙ্ঘনগুলো তৎক্ষণাৎ বন্ধ, প্রতিরোধ ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করছেন।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, রাজনৈতিক নেতারা ও কর্মীরা নির্বাচনী পরিবেশের উন্নয়নে সহযোগিতা করছেন বলে কমিশনার উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং তাদের পরামর্শ ও পর্যবেক্ষণকে ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় মিডিয়ার রিপোর্টগুলোকে তৎক্ষণাৎ রিটার্নিং অফিসারদের নজরে আনা হয়, যাতে দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়।
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের শাস্তি হিসেবে আরোপিত জরিমানা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। তিনি বলেন, জরিমানা আদায়ের মাধ্যমে লঙ্ঘনকারী গোষ্ঠীর ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয় এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ লঙ্ঘন রোধে সতর্কতা প্রদান করে।
কমিশনারের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, নির্বাচনের সময়কালে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকল স্তরের কর্মকর্তার সমন্বিত প্রচেষ্টা চালু রয়েছে। রিটার্নিং অফিসার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং মিডিয়া সংস্থার সহযোগিতায় লঙ্ঘন শনাক্ত, নথিভুক্ত ও শাস্তি প্রদান করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গত ফলাফল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত।
অবশেষে, কমিশনারের দৃষ্টিতে, বর্তমান প্রচারকালীন পরিবেশকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আচরণবিধি মেনে চলার হার বাড়াতে অতিরিক্ত তদারকি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এই তদবিরের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হবে, যাতে ভোটার ও প্রার্থীর অধিকার রক্ষার সঙ্গে সঙ্গে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু চলাচল বজায় থাকে।



