22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুলের মন্তব্যে নির্বাচনী পরিবেশ চমৎকার, প্রচারণা উৎসবমুখর

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুলের মন্তব্যে নির্বাচনী পরিবেশ চমৎকার, প্রচারণা উৎসবমুখর

২৭ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটের প্রস্তুতি সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এইবারের নির্বাচনী মাঠের পরিবেশকে তিনি “অত্যন্ত চমৎকার” এবং “উৎসবমুখর” হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর শঙ্কা প্রকাশের পরেও নির্বাচন কমিশন কোনো উদ্বেগ দেখছে না, এ কথাও স্পষ্ট করে জানান।

আনোয়ারুলের মতে, অতীতের বেশ কিছু নির্বাচনের তুলনায় বর্তমান সময়ের পরিবেশে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য এবং মাঠপর্যায়ে সরাসরি পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে পরিবেশ সন্তোষজনক বলে বিবেচিত হচ্ছে। ছোট-বড় সব দলই কমিশনের কাছে এসে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তবে তা দ্রুত সমাধানের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর শঙ্কা প্রকাশের পরেও নির্বাচন কমিশন কোনো শঙ্কা দেখছে না, এ বিষয়টি কমিশনার জোর দিয়ে বলছেন। তিনি বলেন, মাঠে পর্যবেক্ষণকালে কোনো অনিয়মের চিহ্ন দেখা যায়নি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে কাজ করছে। তাই শঙ্কা প্রকাশকারী দলগুলোকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য থাকবে।

নির্বাচনী দায়িত্বে নিযুক্ত রিটার্নিং অফিসার (RO) ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার (ARO)দের পক্ষপাতিত্ব করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কমিশনার উল্লেখ করেন, তারা কেবল ভোটারকে ভোটদানে উৎসাহিত করতে পারবেন এবং কোনো রাজনৈতিক পক্ষের পক্ষে প্রচারণা করা অবৈধ। আইনগত বাধ্যবাধকতা মেনে তারা শুধুমাত্র ভোটারকে সচেতন করতে পারবে, অন্য কোনো ধরনের অংশগ্রহণ অনুমোদিত নয়।

সরকারি কর্মকর্তারা যদি কোনো রাজনৈতিক প্রচারণায় অংশ নেন, তার বিষয়ে কমিশনার মন্তব্য করবেন না, তিনি এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং কোনো বাহ্যিক চাপের অধীন নয়। এই স্বতন্ত্রতা নিশ্চিত করতে কমিশন সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

কমিশনার আরও জানান, রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের উপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তারা ভোটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, আনসার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তা পাচ্ছে। এই সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখবে।

প্রার্থীদের ওপর হামলা বা হুমকির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কমিশনার জানান, যদিও কিছু দল শঙ্কা প্রকাশ করেছে, তবে মাঠে পর্যবেক্ষণকালে কোনো গুরুতর হুমকি দেখা যায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, সব দলই কমিশনের কাছে এসে তাদের উদ্বেগ জানিয়েছে এবং তা অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

আনোয়ারুলের মতে, এইবারের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে আচরণবিধি মেনে চলার অঙ্গীকারনামা স্বাক্ষর করেছে, যার ফলে নির্বাচনী মাঠের পরিবেশ পূর্বের তুলনায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, এমন একটি স্বচ্ছ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশ পূর্বে দেখা যায়নি। এই অঙ্গীকারনামা প্রার্থীদের নৈতিক দায়িত্বকে দৃঢ় করেছে।

ভোটের ফলাফল প্রকাশের সময়সূচি সম্পর্কে কমিশনার জানান, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হওয়ায় ফলাফল প্রকাশে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে অধিকাংশ ফলাফল মধ্যরাত অথবা শেষ রাতের মধ্যে জানানো হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। দ্রুত গণনা ও ফলাফল প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ভোটকেন্দ্রের সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন সম্পর্কেও কমিশনারের মন্তব্য রয়েছে। তিনি বলেন, মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং কতগুলো কেন্দ্রে স্থানীয়ভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো সম্ভব হয়েছে, তা পরবর্তীতে জানানো হবে। এই পদক্ষেপটি ভোটের স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

কমিশনারের মন্তব্যের ভিত্তিতে দেখা যায়, নির্বাচন কমিশন সকল রাজনৈতিক দলকে সমানভাবে বিবেচনা করে এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভোটারকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া প্রদান করা এই সময়ের প্রধান অগ্রাধিকার।

সার্বিকভাবে, নির্বাচন কমিশনের এই বিবৃতি নির্বাচনী পরিবেশের ইতিবাচক দিকগুলোকে তুলে ধরছে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য একটি মডেল স্থাপন করছে। সকল স্টেকহোল্ডারকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে কমিশন দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এই পরিস্থিতিতে, ভোটারদের জন্য নিরাপদ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং ফলাফল দ্রুত প্রকাশ করা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশনের স্বতন্ত্রতা এবং সকল পক্ষের সহযোগিতা এই লক্ষ্য অর্জনে মূল ভূমিকা পালন করবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments